সেই দ্বীপে গেলে কেউ জীবিত ফিরতে পারে না!

পর্যটন ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:০৪

সেই দ্বীপে গেলে কেউ জীবিত ফিরতে পারে না!

স্থানীয়দের কাছে দ্বীপটি ‘ভূতুড়ে দ্বীপ’ নামেই পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল জলরাশির মাঝখানে উঁকি মেরে থাকা নির্জন ওই দ্বীপটিকে অনেকে ‘মানুষ খেকো’ বলেও ডাকেন। সত্যিটা শোনার পর আপনি ওই দ্বীপের ছায়াও মাড়াবেন না। পরিত্যক্ত ওই নিঃসঙ্গ দ্বীপ সম্পর্কে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, ওই দ্বীপে কেউ একরাত থাকলে সেই ব্যক্তি নাকি আর জীবিত ফিরতে পারে না। 

সমুদ্রবক্ষে যুগ ‍যুগ ধরে জেগে থাকা ওই দ্বীপটির আসল নাম 'নান মাদোল'। নান মাদোল শব্দটির অর্থ হল, 'মধ্যবর্তী স্থান'। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে মাইক্রোনেশিয়ার পনফেই দ্বীপের পাশেই ছোট দ্বীপটির অবস্থান। মহাসাগরীয় ঢেউয়ে দিনের বেলায় দ্বীপটি দূর থেকে গাঢ় সবুক দেখালেও রাত নামলেই নাকি প্রাচীন এই দ্বীপের পুরো চেহারাটাই পাল্টে যায়।

নান মাদোলের ভেতর প্রাচীন শহরকে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের তকমাও দেয়া হয়ে থাকে। এতোই প্রত্যন্ত জায়গায় এটি অবস্থিত যে কারও পক্ষে সেখানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। গবেষকরা ওই দ্বীপে গিয়ে দেখেছেন, সেখানে ৯৭টি আলাদা আলাদা ব্লক রয়েছে। সরু খালের মত জলাশয় সেগুলোকে পৃথক করে রেখেছে। 

দ্বীপটি ঠিক কত বছর আগে জেগে উঠেছিল তার যেমন অজানা, একইভাবে রহস্যময় ওই দ্বীপে সভ্যতার কোনও হদিশ এখনও পায়নি কেউ। 

দ্বীপটি অস্ট্রেলিয়া থেকে ১৬০০ মাইল দূরে ও লস অ্যাঞ্জেলস থেকে ২৫০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
স্যাটেলাইট ইমেজে ঘন জঙ্গল ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়ে না। দ্বীপে নামলে অনেক পুরোনো  প্রাচীর চোখে পড়ে, সেইসব প্রাচীরের দেয়াল ২৫ ফুট লম্বা আর ১৭ ফুট পুরো। 

পনফেই দ্বীপের বাসিন্দারা সেখানে পারতপক্ষে যেতে চান না। তারা মনে করেন, ওই দ্বীপে ভয়ানক সব ভূতের বসবাস। তবে দিনের আলোতে দুঃসাহী পর্যটকদের সেখানে নিয়ে যান তারা। ফিরেও আসেন সূর্য ডোবার আগেই। রাতের অন্ধকারে নাকি দ্বীপটিতে অদ্ভুত জ্বলমলে সব বস্তু দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর