সংবাদ শিরোনামঃ

পৃথিবী ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির হুমকির সম্মুখীন

পরিবেশ পর্যটন ডেস্ক
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ আপডেট: ০৫:৪৯

পৃথিবী ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির হুমকির সম্মুখীন


বিশ্বে আশঙ্কাজনক হারে পোকামাকড়ের সংখ্যা কমতে থাকায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ। এতটাই দ্রুত পোকামাকড় ও জীব জন্তু কমছে যে চলতি শতকেই বিশ্ব থেকে উধাও হয়ে যেতে পারে সব পোকামাকড়।

জীববিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবী এখন ষষ্ঠ গণবিলুপ্তির হুমকির সম্মুখীন। ইতোমধ্যে বহু জীব-জন্তু-উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ভয়াবহ বিপন্নতার সম্মুখীন মানুষও। মানুষের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি ঝুঁকিতে বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড়, যা প্রাণীজগতের খাদ্যচক্র, ফুল ও ফলের পরাগায়ন প্রভৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে পোকামাকড়ের বিলুপ্তির ভয়াবহ এ তথ্য। খবর দ্যা গার্ডিয়ান।

বিজ্ঞান সাময়িকী ‘বায়োলজিক্যাল কনজারভেশন’ এ সোমবার গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে পাঁচটি গণবিলুপ্তি হয়েছে। ৬৬০ লাখ বছর আগে শেষ গণবিলুপ্তিতে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছিল ডাইনোসর।

এর পরই শুরু হয় ইতিহাসের ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি। সেই ধারা এখন অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে আফ্রিকান রিনোর মতোর প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। রিপোর্টের তথ্য মতে, পোকামাকড়ের মধ্যে ৪০% প্রজাতিরও বেশি এখন বিলুপ্তির মুখে এবং এদের এক-তৃতীয়াংশই এখন বিপন্ন।

আবার পোকামাকড় বিলুপ্তির এই হার স্তন্যপায়ী, পাখি ও সরীসৃপদের তুলনায় প্রায় ৮ গুণ। অর্থাৎ অন্যান্য জলচর ও উভচর প্রাণীর চেয়েও ৮ গুণ বেশি হারে বিলুপ্ত হচ্ছে কীটপতঙ্গ। সম্প্রতি কীটপতঙ্গের সংখ্যা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার প্রথম খবর আসে জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র শাসনাধীন পুয়ের্তো রিকো থেকে। কিন্তু গবেষণা রিপোর্ট মতে, এই সংকট প্রায় সারা বিশ্বের। গবেষণার বেশিরভাগই চালানো হয়েছে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশে। গবেষণায় দেখা গেছে, কীটপতঙ্গের মধ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৌমাছি। ১৯৪৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখের মতো মৌ কলোনি ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসে ৩৫ লাখে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া আরও অন্তত সাড়ে তিন লাখ প্রজাতি পোকামাকড়ের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিলুপ্তির প্রধান কারণ কৃষি। বিশেষ করে কৃষিতে কীটনাশকের বেশি ব্যবহার।

গবেষণা রিপোর্টের অন্যতম লেখক অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রান্সিসকো সানচেজ বায়ো বলছেন, ‘কীটপতঙ্গের এই হারিয়ে যাওয়া যদি না থামানো যায়, তাহলে যেমনিভাবে পৃথিবীর প্রকৃতি ও পরিবেশ ব্যবস্থার এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে, তেমনিভাবে প্রভাব ফেলবে মানুষের বেঁচে থাকার ওপরও।’

সানচেজ জানান, গত ২৫-৩০ বছরে প্রতি বছর ২.৫% হারে পোকামাকড় কমে গেছে। এটা খুবই মর্মান্তিক যে, আগামী ১০ বছরেই ২৫% পোকামাকড় থাকবে না।

ব্রেকিংনিউজ/এসএসআর