bnbd-ads
bnbd-ads

রংপুরবাসীর আস্থার নাম ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
১৫ মে ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:০৩

রংপুরবাসীর আস্থার নাম ‘মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’

পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হাসপাতালটি ১৯৪০ সালে ম্যাটির্নিটি, মাতৃমঙ্গল এবং শিশুমঙ্গল নামে পরিচালিত হতো। পরে ১৯৯০ এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। শুরু থেকেই এই হাসপাতালটি গর্ভবতী মায়েদের আস্থা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে প্রিয় হাসপাতাল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে রোগীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১১-২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ডেলিভারি হয়েছে ৬ হাজার ২১৬টি। এর মধ্যে সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে ২ হাজার ১০৫টি। নরমাল ডেলিভারি হয়েছে ৪ হাজার ১১১ টি। গর্ভকালীন সেবা নিয়েছেন ৪৯ হাজার ১৭৩ জন এবং প্রসব পরবর্তী সেবা নিয়েছেন ১৯ হাজার ৯০১ জন নারী। শূন্য থেকে ১ বছরের শিশু চিকিৎসা নিয়েছে ১৩ হাজার ৯২২ জন এবং  ১ থেকে ৫ বছরের শিশু চিকিৎসা নিয়েছে ১৯ হাজার ৬৮৫ জন। যৌন বাহিত রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন ১৯ হাজার ৬৮৫ জন। প্রতিদিন শতাধিক রোগী বিভিন্ন প্রয়োজনে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসেন। 

নগরীর আশরতপুর গ্রামের মেহেদী সুজন বলেন, ‘প্রথম সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীকে নিয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে আসি। কয়েকমাস আগে টাকা ছাড়াই এক আত্মীয়ের নরমাল ডেলিভারি এখানে হয়েছে। তাই ভরসা পেয়েই এখানে আসি। এখানে ল্যাবরেটরি সুবিধা নেই। তাই সব পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে। এই সুবিধা থাকলে সেবার মান আরো বাড়বে।’  

রংপুর সিটি করপোরেশনের নারী কাউন্সিলর নাজমুন নাহার বলেন, ‘অনেক গরীব রোগী আছে, টাকা নেই। তাই তারা চিকিৎসা করাতে পারেন না। আমার কাছে এমন কেউ এলে রোগের ধরণ শুনে কল্যাণ কেন্দ্রে আসার পরামর্শ দেই।’
 
রংপুর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মুহ্তারিমা বেগম রত্মা বলেন, ‘সন্তান প্রসবে আমরা সব সময় নরমাল ডেলিভারি করার চেষ্টা করি। যে কোনো অপারেশন করাসহ ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দিতে হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা আছেন তারাও রোগী দেখেন। তবে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় অনেক সুবিধা।’

রংপুর বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. এস. এম. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রসব এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সেবায় কল্যাণ কেন্দ্রটি নিরলসভাবে কাজ করছে। ফলে রোগীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। লোকবল বৃদ্ধির জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আমাদের অবকাঠামো সুবিধা আছে শুধু লোকবল এবং ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকলে ১০ শয্যা থেকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা সম্ভব।’

ব্রেকিংনিউজ/এসআর/জেআই