মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
১২ জুন ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:৫৮

মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত

ফ্যাটি লিভারের মূল কারণ অ্যালকোহল। এ রোগ মানবদেহের অন্যতম অঙ্গ লিভারের চর্বি জমে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। সঠিক সময় এর প্রতিরোধ না করলে ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা লোপ পায়, যা লিভার সিরোসিস এমনকি ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব মোট জনসংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বলে উল্লেখ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব।

বুধবার (১২ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অফ দ্যা লিভার’ আয়োজিত ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ন্যাশ দিবস’ উপলক্ষে এক গোলটেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধে তিনি এসব জানান।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ের কোনো বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় সাধারণ মানুষ এ রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। যার ফলে আজ বাংলাদেশে এ রোগটির প্রদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্যাটি লিভার বা ন্যাশ বিশ্বব্যাপী লিভার প্রতিস্থাপনে অন্যতম কারণ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞ ধারণা করছেন যে, এখনই এ রোগ সম্পর্কে জাতীয় পর্যায়ের পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব না হলে অদূর ভবিষ্যতে এদেশের মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। তার মধ্যে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার অন্যতম।’

বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘সচেতন হলে আমাদের শরীরের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমাদের শরীর মিস্টেরিয়াস। কারণ, প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভাবে আমাদের শরীর আবিস্কার হচ্ছে। আমরা যখন পড়েছি তখন ফ্যাটি লিভার বিষয়টি আমাদের বইতেই ছিলনা।’

সম্প্রতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কথায় কথায় বিভিন্ন ষধ খাওয়া একটি সমস্যা। ফ্যাটি লিভার বিষয়ে সচেতন ও তার জন্য যে বিজ্ঞাপন দেয়া হবে সেটা যেন আকর্ষণীয় হয়। কারণ বিষয়গুলো গল্পের ছলে দেখলে মনে থাকে দীর্ঘ সময়। আমাদের স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি মনোজগৎ কেউ সুস্থ রাখতে হবে। সরকারের কাছে আহ্বান করি এই দিবসটি যেন সরকারি ভাবে পালন করা হয়।’

জিটিভি ও সারাবাংলা প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত জীবন চর্চার ফলে আমাদের বর্তমানে এই অবস্থা। ফ্যাটি লিভার উপসর্গ মানুষকে জানাতে পারছি কিনা সে বিষয়ে ভালোভাবে দেখতে হবে। ঢাকা শহরে ধুলাবালির কারণে ফার্মেসিগুলোর যে অবস্থা তাতে করে সেখানে ওষুধের মান কতটা ঠিক থাকে সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া টেলিভিশনে ওষুধের বিজ্ঞাপন দেয়া যাবে না। তারপরেও কিছু কিছু বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এ বিষয়ে সরকারের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়।’

গোলটেবিল বৈঠকে ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অফ দ্যা লিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলী শিকদার, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রে‌কিং‌নিউজ/এএইচএস/জেআই

Attachments area