ডেঙ্গু নিধনে ঢাকাকে যে পরামর্শ দিলো কলকাতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
৬ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:৩৯ আপডেট: ০৫:৪১

ডেঙ্গু নিধনে ঢাকাকে যে পরামর্শ দিলো কলকাতা

সারা দেশে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। মশাবাহিত এ রোগ এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ডেঙ্গু কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। কিন্তু এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনও উদ্যোগ না থাকায় সাধারণ জনগণের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছেই। 

দেশে হাসপাতালগুলো যখন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে তখন এই এডিস মশা নিধনে এক হয়েছেন দুই বাংলার বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা। 

ডেঙ্গু নিধনের পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন ঢাকা সিটি করপোরেশেন ও কলকাতা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা। 

আলোচনায় জনগণকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিভাবে সচেতন করে তোলা যায়, গণসচেতনা কিভাবে বাড়ানো যায়, সরকারের কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি এসব বিষয় উঠে আসে। 

কলকাতার বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম যুক্ত ছিলেন।

এসময় ডেঙ্গু নিধনে ঢাকার প্রতি কিছু পরামর্শ তুলে ধরে কলকাতার কর্মকর্তারা জানান, ধোঁয়া বা কীটনাশক ঢাকায় যেভাবে ডেঙ্গু মশা নিধনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। এভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ হবে না। বরং তাতে দূষণ বাড়বে ও মানুষের শ্বাসকষ্ট তৈরি হবে। আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান চালালে তাতে কোনও কাজ হবে না। জনগণকে বোঝাতে হবে, কীভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যায়, কীভাবে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায়। 

সরকার ও জনগণের সম্মিলিত সদিচ্ছা থাকলেই শুধুমাত্র ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব বলে মনে করেন কলকাতার বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে কলকাতায় শুধু বর্ষাকাল নয় বছরজুড়েই মশার উৎস খুঁজে সেগুলো নিধন করা হয় বলেও জানান তারা।

কলকাতা সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের উপদেষ্টা ড. স্বপন মুখার্জি ডেঙ্গু রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে বলেন, ‘ডাবের পানি, ফলের রস ছাড়াও ঘন ঘন পানি পান করতে হবে। ডেঙ্গু রোগী তিন ঘণ্টা পর পর স্বচ্ছ প্রস্রাব করছে কি না সেটি খেয়াল রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ প্রস্রাব হলে বুঝে নিতে হবে ওই রোগীর ডেঙ্গু তেমন প্রকট নয়। আক্রান্ত হলেও তিনি ঝুঁকিমুক্ত।’

শুধু বর্ষার কয়েক মাসেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গুর হাত থেকে মানুষদের নিরাপদ রাখতে সারা বছরই এমনকি শীতকালেও এ নিয়ে কাজ করতে হবে বলে পরামর্শ স্বপন মুখার্জির।

ঢাকার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শুধু পানিতেই নয়, ডেঙ্গু বহনকারী মশা স্যাঁতসেঁতে জায়গা পেলেই ডিম পাড়ে। ডেঙ্গুর ডিম জীবিত থাকে তিন বছর। আর বর্ষায় পানির ছোঁয়া পেলেই সেই ডিমগুলো জেগে উঠে। ফলে বিশেষত বর্ষাকালে সাধারণ মানুষকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত মশার তেল বা লিকুইড তেল গায়ে মালিশ করতে হবে। যেন ডেঙ্গু মশা কামড় দিতে না পারে।’

‘যদি ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনও রোগীর গাঁটে ব্যথা হয়, গায়ে জ্বর থাকে, প্রেশার ২০ শতাংশ করে কমা শুরু হয়, প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নেমে আসে কিংবা কোমরের কাছে ২০ থেকে ২২টি রক্তের ছোপ বা চিহ্ন দেখা যায় তবে ওই রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে’- যোগ করেন স্বপন মুখার্জি।

ডেঙ্গু নিধন পরিকল্পনার ওই ভিডিও কনফারেন্সে কলকাতার বিশেষজ্ঞ দলের মধ্যে যুক্ত ছিলেন- মুখ্য উপদেষ্টা ডক্টর তপন কুমার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. মনিরুল ইসলাম, উপ-স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. সুব্রত রায় চৌধুরী ও চিফ ডিরেক্টর কন্ট্রোল অফিসার ড. দেবাশীষ বিশ্বাস ও কলকাতায় বাংলাদেশের উপ দূতাবাস প্রধান তৌফিক হাসান।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর