কমও না বেশিও না, প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:৩৭ আপডেট: ০৪:৪৩

কমও না বেশিও না, প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত?

পানির অপর নাম জীবন। অন্যসব খাবারদাবারে হেরফের হলেও এক দণ্ড আমাদের পানি না হলে চলে না। স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য চিকিৎসকরাও পর্যাপ্ত পানি পানের পরামর্শ দেন। কিন্তু অনেকেই যেমন সেই পরামর্শ মতো পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, আবার অনেকেই অতিমাত্রায় পানি পান করে সুস্থ থাকতে চান। 

সবকিছুরই যেমন একটা পরিমিত বোধ থাকে তেমনই পানি পানের ক্ষেত্রেও। সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করা উচিৎ- কথাটি আমরা শুনি অহরহ; কিন্তু তার পরিমাণ কতটা? এ প্রতিবেদনে পানি পান সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো-

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, শরীরের আদ্রতা ধরে রাখতে ও শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন। দুই থেকে আড়াই লিটার, কিংবা সর্বোচ্চ তিন লিটার। 

যেহেতু মানবদেহের ৭০ শতাংশই পানি তাই শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে হতে পারে না রোগবালাই। এই পানি আমাদের শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায়, শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা, হজম ও শোষণে সহায়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ ও ওজন কমাতে সহায়তা করে।

যদি আমরা প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান না করি তবে আমাদের মুখে-ত্বকে শুষ্কতা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও শারীরিক শক্তি কমে যেতে পারে।

সাধারণত ঘাম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে মানবদেহ থেকে পানি নিঃসরণ হয়। বিশেষজ্ঞরা দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পানের পরামর্শ দিলেও সব মানুষের স্বাস্থ্য ও শারীরিক চাহিদা সমান নয়। তাই ব্যক্তি ভেদে পানি পানের পরিমাণেও কমবেশি হতে পারে। 

পিপাসা পেলেই পানি পান করতে হবে, পিপাসা মিটলে তা কমিয়ে দিতে হবে। আবার তাপমাত্রা খুব বেড়ে গেলে ও অতিরিক্ত শরীরচর্চায় ঘামের সঙ্গে যে পানি বের হয়ে যায় তা পূরণে পানি পান করতে হবে। 

ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্টরা মনে করেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। পেশি গঠনের জন্য নারীদের চেয়ে পুরুষদের তুলনামূলকভাবে বেশি পানির প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর দৈনিক আড়াই লিটার পানি পান করলেই চলে। 

শরীরের আর্দ্রতা রক্ষায় ও মস্তিষ্কের যথাযথ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পানি পান অপরিহার্য। মানুষের শরীরের ওজনের ১ শতাংশ পানি। পানি পান করলে বিপাক হার বাড়ে ও ক্ষুধা কমে যায়। আধা লিটার পানি পানে বিপাক হার বাড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ। আবার খাবার খাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে পানি পানে কম পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে পরিমাণ মতো পানি পান মানুষের বাড়তি ওজন কমাতেও কার্যকরী। 

এছাড়াও টক্সিন, কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনির পাথর ও ব্রণের মতো সমস্যা মোকাবিলায় পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর