কারফিউ উপেক্ষা করে ‘গণবিক্ষোভ’র ডাক, থমথমে কাশ্মির

ভারত-পাকিস্তান ডেস্ক
২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৯:১৪ আপডেট: ১০:৪১

কারফিউ উপেক্ষা করে ‘গণবিক্ষোভ’র ডাক, থমথমে কাশ্মির

নানা কৌশলে দমিয়ে রাখা ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরবাসী এবার আনুষ্ঠানিকভাবে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পরপরই বিক্ষোভের এই ডাক দিয়ে রাজ্যজুরে পোস্টারিং করেছে স্বাধীনতাকামীদের সংগঠনসমূহের জোট ‘জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্স লিডারশিপ’।

ভারত সরকার কর্তৃক জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার ১৭ দিনের মাথায় কাশ্মীরে এই প্রথম এমন প্রতিবাদের ডাক এলো। শুক্রবারের নামাজের আগেও নিরাপত্তাবাহিনী শ্রীনগর-সহ গোটা কাশ্মীরকে কঠোর নিরাপত্তা ও কারফিউতে মুড়ে রেখেছে।

গত ৫ আগস্ট ভারত সরকারের কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসন কেড়ে নেয়া হয়। বিতর্কিত ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণার অনেক আগে থেকেই সেখানকার হুরিয়তপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের হয় গৃহবন্দী, নয় কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল।

ফলে সৈয়দ আলি শাহ গিলানি, মিরওয়াইজ ওমর ফারুক বা ইয়াসিন মালিকের মতো কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা ‘জয়েন্ট রেজিস্ট্যান্স লিডারশিপ’ নামে যে যৌথ নেতৃত্ব গঠন করেছিলেন তাদের দিক থেকে এ যাবত কোনও কর্মসূচির ঘোষণা আসেনি।

কিন্তু ভারতের পার্লামেন্টে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর অবশেষে সেই যৌথ নেতৃত্বের নামে পোস্টার পড়েছে। সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন এই শুক্রবারের নামাজের পর দলে দলে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেয়।

এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে গোটা উপত্যকায়। বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তার চাদরে মোড়া কাশ্মীর পরিস্থিতি। বিক্ষোভের ডাকে নতুন করে নজরে রাখছে ভারতীয় বাহিনীগুলো। রাজ্যের রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে অতিরিক্ত সেনা সদস্যরা।  রাজ্যের লোকজন বেশ উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট একতরফা ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দুই ভাগ করে নাদালকে বিচ্ছিন্ন করে নরেন্দ্র মোদি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর রাজ্য জুরে কারফিউ জারি করা হয়।

রাস্তাঘাট, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, ইন্টারনেট, টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পথে পথে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারির গাড়ি। কাঁটাতার আর ব্যারিকেড ফেলে বন্ধ করা হয় সব রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ করা হয় বিক্ষোভ-সমাবেশ।

কাশ্মিরি হাজার হাজার নেতাদের গ্রেফতার ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। দুই-তিন জনকে এক সাথে দেখলে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি থেকে যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। পুরো রাজ্যটা যেন কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। মূলত কাশ্মীরকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ভারত সরকার।

সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ছিল সংবিধান। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও বাতিল করা হলো। অনেকটা ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইহুদিবাদী বন্ধুরাষ্ট্র ইসরায়েলের পথ বেছে নিয়েছে ভারত। 

প্রতিবেশী পাকিস্তান এর তীব্র সমালোচনা করছে। প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইমরান খানের সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছেদ করার পাশাপাশি ইসলামাবাদ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে এবং দিল্লি থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়। এই ইস্যুতে তাদের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ