অবরুদ্ধ কাশ্মিরে ঢুকতে দেয়া হলো না রাহুল গান্ধীকে

ভারত-পাকিস্তান ডেস্ক
২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ আপডেট: ০৭:২৯

অবরুদ্ধ কাশ্মিরে ঢুকতে দেয়া হলো না রাহুল গান্ধীকে

সরকারের নিষেধ সত্ত্বেও কাশ্মির পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে সেখানে যেতে চেয়েছিলেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। কিন্তু তাকে কাশ্মিরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। বিমান বন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাহুল গান্ধী ১১ বিরোধী নেতাকে নিয়ে শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছালেও তাদের সেখান থেকেই দিল্লিতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক নেতাকে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

রাহুলের আগে কংগ্রেস পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা গুলাম নবী আজাদ দুইবার কাশ্মীর যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। দুইবারই তাকে জম্মু বিমানবন্দরে আটকে দিয়ে জোর করে দিল্লি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তিনি এ চেষ্টা করেছিলেন।

রাহুলের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেসের গুলাম নবী আজাদ, কে সি বেণুগোপাল, আনন্দ শর্মা, তৃণমূল কংগ্রেসের দীনেশ ত্রিবেদী, সিপিএম এর সীতারাম ইয়েচুরিসহ এক ডজন বিরোধী নেতা।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট একতরফা ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দুই ভাগ করে নাদালকে বিচ্ছিন্ন করে নরেন্দ্র মোদি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর রাজ্য জুরে কারফিউ জারি করা হয়।

রাস্তাঘাট, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, ইন্টারনেট, টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পথে পথে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারির গাড়ি। কাঁটাতার আর ব্যারিকেড ফেলে বন্ধ করা হয় সব রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ করা হয় বিক্ষোভ-সমাবেশ।

কাশ্মিরি হাজার হাজার নেতাদের গ্রেফতার ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। দুই-তিন জনকে এক সাথে দেখলে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি থেকে যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। পুরো রাজ্যটা যেন কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। মূলত কাশ্মীরকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ভারত সরকার।

সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ছিল সংবিধান। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও বাতিল করা হলো। অনেকটা ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইহুদিবাদী বন্ধুরাষ্ট্র ইসরায়েলের পথ বেছে নিয়েছে ভারত। 

প্রতিবেশী পাকিস্তান এর তীব্র সমালোচনা করছে। প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইমরান খানের সরকার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক-সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ছেদ করার পাশাপাশি ইসলামাবাদ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে এবং দিল্লি থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেয়। এই ইস্যুতে তাদের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ