কাশ্মিরে অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ করুন: ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র

ভারত-পাকিস্তান ডেস্ক
৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৯:২০ আপডেট: ১০:৪৬

কাশ্মিরে অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ করুন: ভারতকে যুক্তরাষ্ট্র

গোটা কাশ্মির উপত্যকাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিজেপি সরকার। বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিলের পরপরই ভারতীয় সেনাবাহিনী সেখানে চালাচ্ছে অত্যাচার ও নির্যাতন, করছে গণগ্রেফতার। ভারত সরকারের এমন অত্যাচারের নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অবিলম্বে এই অত্যাচার দমন-নিপীড়ন বন্ধ করতে ভারতের প্রতি আহবান জানিয়েছে।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মরগান ওরটাগুস এক বিবৃতিতে এই আহবান জানান। কাশ্মি

কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনী মানবাধিকার লংঘন করছে এমন অভিযোগ করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের গণগ্রেফতার ও সাধারন জনগণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন।’

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব কাশ্মীরকে নিরাপদ ঘোষণা করতে ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীরে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন পরিষেবা বন্ধ করার বিষয়েও আমরা উদ্বিগ্ন।

কাশ্মীরে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার আহবানও জানান জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট একতরফা ও বিতর্কিত ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনসহ বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে দুই ভাগ করে নাদালকে বিচ্ছিন্ন করে হিন্দ্যুতবাদী দল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর রাজ্য জুরে কারফিউ জারি করা হয়।

রাস্তাঘাট, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, ইন্টারনেট, টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পথে পথে টহল দিচ্ছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্যারামিলিটারির গাড়ি। কাঁটাতার আর ব্যারিকেড ফেলে বন্ধ করা হয় সব রাস্তাঘাট। নিষিদ্ধ করা হয় বিক্ষোভ-সমাবেশ।

কাশ্মিরি হাজার হাজার নেতাদের গ্রেফতার ও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। দুই-তিন জনকে এক সাথে দেখলে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি থেকে যুবকদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। পুরো রাজ্যটা যেন কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। মূলত কাশ্মীরকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ভারত সরকার।

সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ছিল সংবিধান। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও বাতিল করা হলো। অনেকটা ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার ইহুদিবাদী বন্ধুরাষ্ট্র ইসরায়েলের পথ বেছে নিয়েছে ভারত। 

ভারত সরকার আটককৃতদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে না বললেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিগত একমাসে জম্মু-কাশ্মীরে গ্রেফতারকৃতদের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পর্যবেক্ষণ মতে, নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী বিজেপির সরকারের নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলটি এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারাগারে পরিণত হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ