পূজার মণ্ডপে সংস্কৃত স্তবকের সঙ্গে বাজছে আজান!

ভারত ডেস্ক
৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৯:৪১ আপডেট: ০৯:৪২

পূজার মণ্ডপে সংস্কৃত স্তবকের সঙ্গে বাজছে আজান!

কেন দুর্গাপূজায় আজান বাজবে? কলকাতায় দুর্গাপূজার আবহে এই নিয়েই শুরু হয়েছে তুমুল তর্ক। বেলেঘাটার একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে থিম সঙ্গীত হিসেবে কেন সংস্কৃত স্তবকের সঙ্গে আজান বাজানো হয়েছে এই নিয়ে বিতর্ক গড়াতে চলেছে আদালত অবধি। ওই পূজার আয়োজকরা জানিয়েছেন যে, এবছর কমিটি দ্বারা নির্বাচিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি' থিমকে মাথায় রেখেই ওই আজান ব্যবহৃত হয়েছে মণ্ডপে।
 
কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী শান্তনু সিংহ জানিয়েছেন, শুক্রবার তিনি বেলেঘাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন যাতে আয়োজকদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে ‘বিশৃঙ্খলা ও শান্তি বিঘ্নিত' করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে যে তারা এখনও কোনও অভিযোগ পাননি।
 
শান্তনু বলেন, “পূজা মণ্ডপের ভিতরে প্রতি ১০-১৫ মিনিটে আজান বাজানো হচ্ছে দেখে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ওরা থিমকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বলছে। দুর্গাপূজার সময় হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কী ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রচার করছেন তারা?” শান্তনু আরও বলেন যে, আয়োজকদের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
 
পূজা কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পরেশ পাল বলেন, “পূজার মূল প্রতিপাদ্য হ'ল “আমরা এক, একা নই”। আজানের পাশাপাশি ‘ওম' মন্ত্রটিও বাজানো হচ্ছে।”
 
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা বিবেক সিংও আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বিবেক বলেন, “পূজার থিমের নামে কি আমরা দুর্গাপূজার থিম নিয়ে খেলতে পারি, আমাদের ধর্ম নিয়ে খেলতে পারি? ফুলবাগান থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আমরা পরেশ পাল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি পথ গ্রহণ করব।”
 
অন্যদিকে পরেশ পাল বলেন, পূজা মণ্ডপে মন্দির, গির্জা এবং মসজিদের নকশা রয়েছে যাতে অন্তর্ভুক্তির চেতনা প্রকাশ করা যায়। পরেশ পাল বলেন, “পূজা মণ্ডপে একটি মন্দির, একটি গির্জা এবং একটি মসজিদ রয়েছে যা আমাদের অন্তর্ভুক্তির চেতনারই প্রকাশ। আমরা আমাদের মণ্ডপ সজ্জা এবং থিম গানে দেখানোর চেষ্টা করেছি যে মানবতাই সব কিছু ঊর্ধ্বে।”
 
তিনি আরও বলেন, “ওরা এফআইআর দাখিল করুক বা আইনি পথে চলুল। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করব।”
 
ব্রেকিংনিউজ/অমৃ

bnbd-ads