bnbd-ads
bnbd-ads

‘মি টু’র পর এবার ‘কু টু’ ঝড়, কাঁপছে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ জুন ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০১:০২ আপডেট: ০১:০৬

‘মি টু’র পর এবার ‘কু টু’ ঝড়, কাঁপছে জাপান

বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের আনা যৌন হেনস্তার অভিযোগে গেল বছর গোটা ভারতে ‘#মি টু’ আন্দোলনের ঝড় বয়ে গিয়েছিল। সেই ঝড়ের ঝাঁকুনি এসে লেগেছিল বাংলাদেশ পর্যন্ত। 

এবার ‘মি টু’ নয়, ‘কু টু’ (#KuToo) নামে নতুন একটি আন্দোলনে ঝড় তুলেছেন ২০ হাজারেরও বেশি জাপানি নারী। 

তবে এই ‘কু টু’ আন্দোলনটি যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে নয়। এই প্রতিবাদ এসেছে হাইহিল পরে অফিসে আসার অলিখিত ‘বাধ্যতামূলক’ নিয়মের বিরুদ্ধে। 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে জানানো হচ্ছে, ইতোমধ্যে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ‘কু টু’ প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছেন।

জাপানের বেশিরভাগ করপোরেট সংস্থায় কর্মস্থলে পোশাকবিধিতে নারীদের হাইহিল পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু নিয়মিত হাই হিল পরে অনেক কর্মজীবী জাপানি নারী অস্বস্তি বোধ করছেন, দিন দিন অসুস্থও হয়ে পড়ছেন অনেকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাইহিল পরে থাকায় গোড়ালি, হাঁটু, পিঠ বা মেরুদণ্ডের নানা সমস্যায় ভুগছেন হাজার হাজার নারী।

‘কু টু’ আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, কর্মস্থলে পুরুষদের জন্য ‘ড্রেস কোড’ না থাকলে নারীদের জন্য হাইহিল কেন বাধ্যতামূলক করা হবে? তারা এটিকে নারী নিপীড়ন ও লিঙ্গ বৈষম্যের অংশ হিসেবে দেখছেন।  

বিষয়টি নিয়ে ইউমি ইশিকাওয়া নামে এক জাপানি নারী লেখিকা প্রথম সোস্যাল মিডিয়ায় সরব হন। নিজের অনলাইন পিটিশনে তিনি লিখেন, ‘কতক্ষণে কাজ শেষ হবে আর পা থেকে হাইহিল জুতো খোলা যাবে, এই অপেক্ষাতেই সময় কাটছে জাপানি নারীদের।’ 

কর্মস্থলে ইশিকাওয়া নিজেও এ ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছিলেন বলে তিনি নিজেই টুইট করে জানান। এবং সেই অভিজ্ঞতাকে চাকুরি জীবনের অস্বস্তিকর ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

ইশিকাওয়ার এই টুইটটি মুহূর্তেই ৩০ হাজারেরও বেশি শেয়ার হয়। লাইক কমেন্ট পড়তে থাকে অজস্য। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় ‘কু টু’ আন্দোলন। 

আন্দোলনকারী জাপানি নারীরা মনে করেন, কাজের সঙ্গে জুতোর কোনও সম্পর্ক নেই। হাইহিল কোনও নারীর যোগ্যতা মূল্যায়নের মাপকাঠি হতে পারে না। এ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলকে দ্রুত পর্যালোচনার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর