আফগানিস্তানের সরকারি অফিসগুলোতে নারীদের বিছানায় যেতে বাধ্য করা হয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০১:২২ আপডেট: ০১:২৪

আফগানিস্তানের সরকারি অফিসগুলোতে নারীদের বিছানায় যেতে বাধ্য করা হয়

নারী যেন শুধুই ভোগ্যপণ্য। এমনটিই ভাবা হচ্ছে আফগানিস্তানের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। ফলে দেশটির অফিস-আদালতে নারীতে যথেচ্ছভাবে যৌন নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে। দিন দিন এর ভয়াবহতা বাড়ছেই। 

বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আফগানিস্তানে নারীদের যৌন হেনস্তা যেন দেশটির সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অফিসগুলোতে নারীরা এক মুহূর্তও নিরাপদ নয়। তবে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। 

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ দেশটির একাধিক স্থানে বেশ কিছু কর্মজীবী নারীর সঙ্গে কথা বলে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি। প্রতিবেদনে উঠে এসেছ লোমহর্ষক আরও কিছু অন্ধকার জগতের ঘটনাবলি।

কাবুলের এক কর্মজীবী নারী জানান, অফিসে তার প্রতি সবাই লোলুপতার দৃষ্টি নিয়ে তাকাতো। সবাই তাকে ভোগের পণ্য ভাবতো। তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছিল। আফগান পুরুষদের এই বর্বরতা বিশ্বের চোখে তুলে ধরতে চান তিনি। 

ওই নারীর ভাষ্য, তিনি যে কার্যালয়ে চাকুরি করতেন সেই কার্যালয়ের প্রধান সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী তাকে বিছনায় পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। একদিন অফিসের ঢোকার পর তাকে এ ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়। এমনকি অফিসেই তাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন ওই মন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘ওই মন্ত্রী আমাকে সরাসরি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। আমি তাকে বললাম- আমি তো যোগ্য এবং চাকরিতে অভিজ্ঞ। আপনি আমাকে এমনটা বলবেন তা কখনও ভাবিনি। আমি উঠে দাঁড়ালাম; এসময় তিনি আমার হাত ধরে একটি কক্ষে নিয়ে গেলেন। তিনি আমাকে তার কক্ষে প্রবেশ করানোর জন্য জোর করলেন। বললেন- আমি কয়েক মিনিট সময় নেব; ভয় পেয়ো না, আসো।’

এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে দিতে ওই নারী আরও বলেন, ‘তখন আমি ওই মন্ত্রীকে বললাম, যথেষ্ট হয়েছে। আমি আর কিছু চাই না। তখন আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিই। এরপর আর তার সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি। ওইদিন আমি খুব হতাশ হয়েছিলা। এরপর সম্মান বাঁচাতে চাকরিটাও ছেড়ে দিলাম।’

এমন ঘটনার পরও ওই নারী বিষয়টি পুলিশকে জানাননি। তিনি মনে করেন পুলিশরা মন্ত্রীদের চাটুকার। তারাও দুর্নীতিগ্রস্ত। ফলে অভিযোগ করে কোনও লাভ হবে না। ওই মন্ত্রীর দ্বারা তার আর দুই সহকর্মী হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও জানান ওই নারী।

তিনি বলেন, ‘দিন দিন নারীর জন্য বধ্যভূমি হয়ে উঠছে আফগানিস্তান। দেশে এমন কোনও জায়গা নেই যেটা নারীর জন্য নিরাপদ। কোথাও কোনও অভিযোগ করতে গেলে উল্টো নারীদের ওপরও দোষ চাপানো হয়।’

উল্লেখ্য, নারীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বে সবচেয়ে বাজে অবস্থানে আফগানিস্তান। গেল বছর প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নারীদের হেনস্তার ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষে আছে আফগানিস্তান। ওই প্রতিবেদেন সরকারি অফিসগুলোতে সুন্দরী নারীদের যেভাবে ভোগের পণ্য করা হয় তারও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছিল।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads