ত্যাগী ও কর্মঠদেরই জায়গা হবে আওয়ামী লীগে

রাহাত হুসাইন
২৭ জানুয়ারি ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৫:১৮ আপডেট: ০৭:০৯

ত্যাগী ও কর্মঠদেরই জায়গা হবে আওয়ামী লীগে

আবদুর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির’ দায়িত্ব পালন করেছেন। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই নেতা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেন।  
 
সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি-এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতিক। তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় উঠে আসে সমসাময়িক রাজনীতির নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন।
 
ব্রেকিংনিউজ :  আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলে চমক থাকবে কিনা? 
 
আবদুর রহমান :  আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা মনে করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। উনার নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যাদেরকে সহায়ক শক্তি হিসাবে মনে করেন তাদেরকে পছন্দ মতো জায়গায় বসাবেন। নেতৃত্বের সেই জায়গা পরিবর্তন হতে পারে আবার অপরিবর্তিতও থাকতে পারে।
 
আমি মনে করি, নেতৃত্বের অনেক ট্রাফিক লেগে আছে। অনেকে ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দলের জন্যে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা করে দলের সাথে রয়েছেন। তাদেরকে কোথাও না কোথাও জায়গা তৈরি করে দেয়া উচিত। যারা তুলনামূলকভাবে কর্মঠ, পরীক্ষিত তাদেরই দলে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। এটা দলীয় প্রধান নিশ্চয়ই বিবেচনায় রাখবেন বলে আমি মনে করি।
 
ব্রেকিংনিউজ : ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে। এ নিয়ে আগাম কোনও পরিকল্পনা কিংবা প্রস্তুতি আছে কি?
 
আব্দুর রহমান : সাংগঠনিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে।  বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করতে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তাঁর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়া থেকেই জন্মশতবার্ষিকীর কার্যক্রম শুরু করা হবে। কতগুলো পর্যায়ে আমরা কর্মসূচির মধ্যে রাখবো। তাঁর জীবনের আলেখ্য, রাজনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত যতগুলো স্তর রয়েছে সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হবে।
 
ব্রেকিংনিউজ : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে ঐক্যফ্রন্ড নেতা ড. কামাল হোসেন বিশেষ দায়িত্বে থাকতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়টি কতটা সত্য কিংবা আপনি কি মনে করেন?
 
আবদুর রহমান : বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে যাদের প্রাসঙ্গিক মনে হয় তারা  বঙ্গবন্ধুর জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করতে পারবেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সেখানে একজন বিশেষ ব্যক্তির কথা আনা ঠিক হবে না। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী রয়েছেন যারা বঙ্গবন্ধুর সাহচর্য পেয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী ছিলেন। তাঁর বিভিন্ন সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন তারা সেখানে একটি বড় স্থান পাবেন। তাদের থেকে আমরা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে পারব, বুঝতে পারব।’
 
ব্রেকিংনিউজ : ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন উপলক্ষে কোন ধরনের পরিকল্পনা নিচ্ছে আওয়ামী লীগ? 
 
আবদুর রাহমান : স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আওয়ামী লীগের ব্যানারেই পালন করা হবে। স্বাধীনতার জয়ন্তীকে সার্বজনীন করার চেষ্টা করব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সকল রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হবে।
 
ব্রেকিংনিউজ : নির্বাচনের পর বলা হচ্ছে, সরকার ও দল আলাদা থাকবে। এটা কোন প্রক্রিয়ায় করা হবে?
 
আবদুর রহমান : দলের একটা রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক রাজনৈতিক চিন্তাচেতনা আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হৃদয়ে ধারণ করেন। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সরকার পরিচালিত হবে এটা আমরা  স্বাভাবিকভাবে কামনা করি। বাংলাদেশের মানুষ এবার যে আস্থা বিশ্বাস ও অগাধ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছেন তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সরকার পরিচালিত হবে। এটা আমরা স্বাভাবিকভাবে মনে করি। জনসাধারণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্যে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ কাঠামো গঠন করে সেটা রাষ্ট্রযন্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত করে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা করতে হবে।
 
সেটা করতে পারলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে বাংলাদেশ। আমাদের দলের নেতা বিশ্বের সেরা সৎ সরকারপ্রধানদের একজন। যেহেতু তিনি নিজে সৎ জীবনযাপন করেন, সৎ চিন্তা করেন তাঁর একজন কর্মী হিসেবে আমাদেরও সকলের দায়িত্ব সৎ চিন্তা-ভাবনা চেতনা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করা। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে হলে সততা নিয়েই রাজনীতি করতে হবে। টেন্ডারবাজী, দখলবাজী করা যাবে না। এটাই মূলকথা।
 
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের নেতা হিসেবে ভাষণে বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ কোনো দলের নয়, বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো সম্প্রদায়ের নয়। বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী।’ আমাদের দলের নেতাকর্মীদের সেভাবেই তৈরি হতে হবে। আর যারা সরকারে আছ্নে তারা সরকারের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে। যারা দল পরিচালনা করছেন তাদের সেভাবেই দলের নেতাকর্মীদের সাজাতে হবে। তাহলেই দলের নির্দেশনা এবং আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সরকারের পরিচালিত হবে।  দল ও সরকারকে আলাদা না করে একে অপরের সম্পূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।
 
ব্রেকিংনিউজ : ১৪ দলের শরিক যারা নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন,  তাদের বিরোধী আসনে বসতে বলা হচ্ছে। এটা সম্ভব কি না?
 
আব্দুর রহমান : ১৪ দলীয় জোট হচ্ছে একটি আদর্শিক জোট। যেসকল রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে সেইসব দলকে নিয়েই এই জোটটি  হয়েছে। কোন কারণে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে হবে এটা আমার বোধগম্য নয়। আমি মনে করি সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের সদস্য হয়েও করা যেতে পারে। যে সমালোচনাটুকু সরকারের পথ চলায় কাজে লাগবে। ১৪ দলের যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতেই পারেন। এক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। শুধুমাত্র সংসদে সংবিধান পরিবর্তন-পরিবর্ধন ও ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে যারা নৌকা মার্কা নিয়ে পাস করেছেন তারা অবশ্যই নৌকার পক্ষে ভোট দিবেন।
 
ব্রেকিংনিউজ : উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের গ্রুপিংয়ের কারণে যদি যোগ্য প্রার্থী সিলেকশন না হয় সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বিকল্প পন্থা হিসেবে কী করবে?
 
আবদুর রহমান : আমরা নিজস্ব মেকানিজমের মাধ্যমে প্রার্থীদের খুঁজে নেব।  যাতে দলের ত্যাগী পরীক্ষিত কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান নেতাকর্মীরা কোনও অবিচারের শিকার না হযন। সে ক্ষেত্রে আমাদের নিশ্চয় মনিটরিং সেল কাজ করবে। যদি কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে ডিপ্রাইভ করার চেষ্টা করা হয় আমরা আমাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় কাজ করবো। যাতে তারা প্রার্থী হতে পারেন।
 
ব্রেকিংনিউজ : উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি না আসলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে কিনা?
 
আবদুর রহমান : জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তো শুনছিলাম বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। তারপর তারা নির্বাচনে এসেছে। কয়েকটি আসনে বিজয়ীও হয়েছে।  উপজেলায় আসবে কি, আসবে না সেজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তারপর আমরা বুঝেশুনে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব।
 
ব্রেকিংনিউজ : সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।
 
আবদুর রহমান : আপনাকে ও ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।
 
ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

bnbd-ads