সংবাদ শিরোনামঃ
bnbd-ads
bnbd-ads

জীবনের বিনিময়ে হলেও ঢাবিতে অবস্থান করবো: ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী

এস এম আতিক হাসান
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৬:০০ আপডেট: ০৬:৫৯

জীবনের বিনিময়ে হলেও ঢাবিতে অবস্থান করবো: ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী

দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ডাকসুকে বলা হয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে ডাকসু। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান, ৭১’র স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে করেছে ডাকসু। ডাকসু থেকে উঠে এসেছেন দেশের অনেক জাতীয় নেতা।
 
ডাকুস নির্বাচন নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নাম ঘোষণার পরপরই দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ব্রেকিংনিউজের মুখোমুখি হয়েছেন। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তার শিক্ষা জীবন, বর্তমান রাজনৈতিক পদ ও ব্যক্তিজীবনের জানা-অজানা নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট এস এম আতিক হাসান।
 
ব্রেকিংনিউজ: প্রথমেই সংক্ষেপে আপনার পরিচয়টা জানতে চাই?
 
মোস্তাফিজুর রহমান: আমি মোস্তাফিজুর রহমান। গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুরে। পড়ালেখা শুরু গ্রামের পার্শ্ববর্তী স্কুল ডেমুরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এরপর বারহাট্রা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং নেত্রকোণার একটি কলেজ থেকে এইসএসসি পাশ করে ২০০৯-১০ সেশনে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে অনার্স শেষ করেছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্যসেন হলে আছি। বর্তমানে ছাত্রদলের এস এম হলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
 
ব্রেকিংনিউজ: দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি পদে নির্বাচন করতে ছাত্রদলের মতো একটি বড় ছাত্রসংগঠনে মনোনয়ন পেয়েছেন, আপনার অনুভূতি কেমন?
 
মোস্তাফিজুর: এটা আমার জীবনের সর্বোচ্চ পাওয়া। এত বড় একটি দলের ছাত্র সংগঠন যে সংগঠনটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের তৈরি করা, সেই সংগঠনের প্রতিনিধি হয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভিপি পদে নির্বাচন করছি এটা আমার জন্য গর্বের।

 

ব্রেকিংনিউজ: সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে বলে আপনাদের দল বিএনপি প্রশ্ন তুলেছে, তাহলে ডাকসু নির্বাচনে আপনারা কেন অংশ নিচ্ছেন?
 
মোস্তাফিজুর: ক্ষমতাসীনরা জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করেছে। ৩০০ আসনেই ৫০ থেকে ৬০ পার্সেন্ট ভোট আগের দিন রাত্রে ডাকাতি করে নিয়েছে তারা। একইভাবে পরের দিনেও অর্থাৎ নির্বাচনের দিনেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার ছিলো না। ছাত্রলীগ, যুবলীগ প্রত্যেকটি কেন্দ্র দখল করে রেখেছিল। ডাকসু নির্বাচনে কেন যাচ্ছি, সেটা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা হচ্ছে এদেশের বিবেক। এই ছাত্র-সমাজের কাছে এই অবৈধ সরকারের ভোট ডাকাতি তুলে ধরার জন্য এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনাদের নেত্রী এখন কারাগারে, তার মুক্তির জন্য দেশের প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালযয়ে কম বেশি মিটিং-মিছিল হয় কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় না, এর কারণ কী? আপনি যদি ভিপি নির্বাচিত হন, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন কিনা?
 
মোস্তাফিজুর রহমান: আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ছাত্রদলের ৯০ দশকে যেমন গৌরব ছিলো, সেই গৌরব, সেই উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মিটিং-মিছিল হয় না এটা ঠিক না, আমরা এই বৈরি পরিবেশের মাঝেও যখন সুযোগ পেয়েছি মিটিং-মিছিল করেছি। আমি যদি ভিপি নির্বাচিত হই, আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করবো।
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনি ভিপি নির্বাচিত হলে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কী কী করবেন?
 
মোস্তাফিজুর: আমি ভিপি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম যে কাজটি করবো তা হলো ছাত্রলীগ দ্বারা প্রতিটি হলে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর যে অত্যাচার নির্যাতন হয় সেটা বন্ধ করার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের হলে যে গেস্ট রুম প্রথা আছে সেটা বিলুপ্ত করার চেষ্টা করবো। লাইব্রেরির আধুনিকায়ন করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে তা আধুনিকীকরণ করার চেষ্টা করবো।
 
ব্রেকিংনিউজ: সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
 
মোস্তাফিজুর: জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি অবশ্যই জয়লাভ করবো।
 
ব্রেকিংনিউজ: ভোটের জন্য শিবির বা কোটা আন্দোলনকারীদের কাছে টানবেন কিনা?
 
মোস্তাফিজুর: ইতিহাস ঘেঁটে দেখবেন শিবিরের সাথে ছাত্রদলের কখনও কোনো সম্পর্ক ছিলো না। শিবিরের সঙ্গে আমাদের সবসময় বৈরিতা, এখানে বন্ধুত্বের কোন সুযোগ নাই। আর কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে ছিলাম। আমি আমার টিম নিয়ে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কাজ করবো। কোটা আন্দোলনকারী ও সরকারি চাকুরির বয়স ৩৫ বছর দাবি আন্দোলনকারীদের সাথে আগেও ছিলাম, এখনও থাকবো।
 
ব্রেকিংনিউজ: যে প্যানেল দেয়া হয়েছে এখানে কোন গ্রুপিং আছে কিনা?
 
মোস্তাফিজুর: সবার সম্মতিক্রমেই আমাদের এই প্যানেল দেয়া হয়েছে। এখানো কোন ধরনের গ্রুপিং নাই।
 
ব্রেকিংনিউজ: ব্রেকিংনিউজকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
 
মোস্তাফিজুর:আপনাকে ও ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও ধন্যবাদ।
 
ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/জেআই
 

bnbd-ads
bnbd-ads