শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকবো : নুরুল হক নূর

তৌহিদুজ্জামান তন্ময়
১ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৬:০৭ আপডেট: ০৩:৩০

শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকবো : নুরুল হক নূর
ছবি : সালেকুজ্জামান রাজীব

আগামী ১১ই মার্চ ডাকসু কেন্দ্রীয় সংসদ এবং হল সংসদগুলোর নির্বাচন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছে ডাকসু। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান, ৭১’র স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে করেছে ডাকসু। ডাকসু থেকে উঠে এসেছেন দেশের অনেক জাতীয় নেতা।

ডাকুস নির্বাচনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে নুরুল হক নূর ব্রেকিংনিউজের মুখোমুখি হয়েছেন। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ বৃহৎ কয়েকটি আন্দোলন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, নির্বাচনী ইশতেহারসহ জানা-অজানা নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট তৌহিদুজ্জামান তন্ময়

ব্রেকিংনিউজ : কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ। নিজেদের কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

নুরুল হক নূর : কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই আমাদের অবস্থানটা তৈরি হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনটা সারা দেশের শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। দাবিটি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত ছিল। আমরা নির্যাতন, নিপীড়ন, জেল-জুলুম সহ্য করে কারও হুমকিতে পিছু না হটে দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছি এবং দাবি আদায় করেছি। এরপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন। যদিও এটি ছিল ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তবুও সেখানে আমাদের সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২-১৩ সাল থেকে প্রশ্ন ফাঁসের যে জঘন্য ঘটনা ঘটে আসছিল প্রশাসন তাদের নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করেনি। কিন্তু আমরা যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন করেছি তখন তারা সেই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নিয়েছিল। প্রশ্নফাঁস নিয়ে তখন আক্তার হোসেন নামে একজন শিক্ষার্থী অনশন করেছিল সে আমাদের সাধারণ ছাত্র পরিষদের প্যানেলের যুগ্ম সমাজ সেবা সম্পাদক পদে ডাকসুতে প্রার্থী হয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে, তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ ছাত্র পরিষদ স্বতন্ত্রভাবে ডাকসুতে নির্বাচন করবে। দেশের রাজনৈতিক দুটি বড় দলের ছাত্র সংগঠন একটি ছাত্রলীগ অন্যটি ছাত্রদল। তারা নিজেদের পেশীশক্তির মাধ্যমে রাজনীতি করে আসছে। ২০১৬ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে এবং প্রশ্নফাঁস আন্দোলন হল এইসব আন্দোলনে রাজনৈতিক দলের কোনও ছাত্র সংগঠন কিন্তু ছিল না। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলো লেজুর ভিত্তিক রাজনীতি করে। আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেজুর ভিত্তিক রাজনীতির বাইরে ডাকসুর সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের প্লাটফর্ম। সেজন্য আমরা ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমরা আশা করি সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোটের মাধ্যমে আমাদেরকে বিজয়ী করে তাদের অধিকারের জন্য ডাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাবে। 

ব্রেকিংনিউজ : রাজনৈতিকভাবে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের প্রচুর ভোটার রয়েছে। আপনাদের ভোটার কারা?

নুরুল হক নূর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল করে খুবই কম সংখ্যক শিক্ষার্থী। ক্ষমতাসীন দল জোর করে নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্তি করায়। কারণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না করলে হলে ছেলেদের সিট দেয়া হয় না। রাজনৈতিক আশ্রয়ে হলে থাকতে হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের হলগুলোকে নিজেদের আয়ত্তে আনতে পারেনি। এটা তাদের চরম ব্যর্থতা। সেই যায়গা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা অনেকেই আছে অতি নিম্নবিত্ত ঘরের সন্তান। তারা একটি আশ্রয়ের জন্য হলে থাকে এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রোগ্রামে যেতে বাধ্য হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করি বাধ্য হয়ে এলেও তাদের মনে একটা ক্ষোভ রয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে আমরা দেখেছি ছাত্রলীগের বাধা সত্ত্বেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। সেই জন্য তারা মুখ ফুটে কিছু না বলতে পারলেও অন্তত ব্যালটে তারা ঠিকই জবাব দেবে বলে আশা করি।



ব্রেকিংনিউজ : হলে ভোটকেন্দ্রের ব্যপারে আপনাদের কোনও অভিযোগ আছে কিনা?

নুরুল হক নূর : আপানারা জানেন ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি কলঙ্কিত নির্বাচন হয়েছে। যে নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। জোর করে সিল মারা হয়েছে। সে কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একই শঙ্কা কাজ করছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি। সুতরাং তাদের ভোটাধিকার নিয়ে যদি ছিনিমিনি খেলা হয় সেটা তারা প্রতিরোধ করবে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটা দাবি ছিল ভোট কেন্দ্র হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে হলে সাচ্ছন্দবোধ করতো কারণ দীর্ঘ ২৮ বছর নির্বাচন না হওয়ায় এবং ১০ বছর ক্ষমাতাশীন দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে ছাত্রলীগের একটা আধিপত্য সেখান থেকে একটু শঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন যদি কঠোর থাকে এবং তাদের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। 

ব্রেকিংনিউজ : কি কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আপনাদের ভোট দেবে?

নুরুল হক নূর : বড় বড় রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনগুলো তারা লেজুড় ভিত্তিক রাজনীতি করে। তাদের মাদার অর্গানাইজেশনের স্বার্থে তারা রাজনীতি করে। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ তাদের নিজেদের দলের সুবিধার জন্য রাজনীতি করে অন্যদিকে বিএনপির রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলও তাদের নিজেদের দলের সুবিধার জন্য রাজনীতি করে। সেক্ষেত্রে আমরা একটি অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য অতীতে কাজ করেছি তার প্রমাণ দুই, তিনটি বড় সফল আন্দোলন এবং সামনেও করবো। শিক্ষার্থীরা আস্থার জায়গা থেকে আমাদেরকে বেছে নেবে। 

ব্রেকিংনিউজ : শিবিরের সাথে আপনাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ শোনা যায়। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

নুরুল হক নূর : আমাদের বৃহৎ কোনও সংগঠন আগে ছিল না। মাত্র এক বছরে তিনটি যৌক্তিক ও নায্য সফল আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়েই আমাদের সংগঠনটি তৈরি হয়েছে। এ কারণে আমাদের বিশাল একটি জনপ্রিয়তাও তৈরি হয়েছে। এই জনপ্রিয়তার কারণে কিছু ছাত্র সংগঠন ভয় পেয়ে আমাদের বিতর্কিত করার জন্য জামায়াত, শিবির, বিএনপি বলে অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রাশেদ খান, ফারুক হোসেনসহ আরও অনেককেই দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখেছিল কিন্তু তাদের কারও কোনও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পায়নি। কিন্তু আমাদের এই আন্দোলনে সরকারের মন্ত্রীরা পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের আন্দোলন বলে একটি মিথ্যা অপপ্রচার করেছিল। যারা এখনও অপপ্রচার করে যাচ্ছে তারা মূলত আমাদেরকে বিতর্কিত করার জন্য করছে। আমি তাদেরকে একটি কথাই বলবো- ঢালাওভাবে অভিযোগ না করে তথ্য প্রমাণ দিয়ে অভিযোগ দিক। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অপপ্রচারকারীদের কথায় কান না দিয়ে আমাদের সাথে আছে এবং উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। 

ব্রেকিংনিউজ : আপনারা কি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে যেতে পারবেন?

নুরুল হক নূর : অবশ্যই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ডাকসুতে যারাই জিতুক বা হারুক মূল প্রতিযোগিতাটা হবে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাথে। কারণ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই না সারা দেশে ছাত্রদের মাঝে আমরা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছি এবং নিজেদের স্বচ্ছতা ও ভাবমূর্তি তৈরি করতে পেরেছি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করি, আমরা তাদের পাশে থাকি।

ব্রেকিংনিউজ : ইশতেহারে কি কি চমক থাকছে?

নুরুল হক নূর : ১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক হলে প্রচুর পরিমাণে অছাত্র ও বহিরাগত ছাত্র আছে। তাদেরকে রুম ভাড়া দেয় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো। আমাদের ইশতেহারে থাকবে এই অছাত্র ও বহিরাগতদের বের করে নিয়মিত ছাত্ররা যেন প্রথম বছর থেকেই সিট পায় সেটা নিশ্চিত করা। 
২. ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যান্টিন-ক্যাফেটারিয়া থেকে চাঁদা নেওয়ায় মালিকরা চাইলেও ভালো খাবার দিতে পারে না। আমরা চাঁদাবাজদের প্রতিহত করব। কেউ যেন ক্যান্টিন-ক্যাফেটারিয়াতে ফাও খেতে না পারে, চাঁদা নিতে না পারে। 
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বাইরে থাকে তারা পরিবহনে যাতায়াত করে। পরিবহনের জন্য প্রতি বছর বাজেট হয়। প্রশাসন চাইলে আরও কিছু বাস কিনে এই পরিবহন সংকট নিরসন করতে পারে। আমরা সাধারণ ছাত্র পরিষদ জয়ী হলে এই পরিবহন সংকট নিরসনে কাজ করবো। 
৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিমাপ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কতজন উচ্চ শিক্ষা লাভ করেছে, কতজন পিএইচডি করেছে কিংবা কতজন বহিঃবিশ্বে গবেষণা করেছে। কিন্তু সেই শিক্ষার মানটা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য যে পর্যাপ্ত ফান্ড দরকার প্রয়োজনে সেটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে যোগাড় করবো। 
৫. লাইব্রেতিতে দেখা যায় সকাল ৬টা থেকে বিশাল লম্বা লাইন সিটের জন্য। হলের লাইব্রেরিকে আধুনিকায়ন ও সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে আধুনিকায়ন করবো। 

ব্রেকিংনিউজ : ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কি?

নুরুল হক নূর : দীর্ঘ ২৮ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের স্বৈরতন্ত্রের কারণে নির্বাচন হয়নি। কারণ তারা চায়নি নির্বাচিত ছাত্র সংসদের মাধ্যমে ছাত্র প্রতিনিধি থাকুক। ছাত্র প্রতিনিধিদের কাছে তাদের জবাবদিহিতা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে যেখানে বলা হয় গণতন্ত্র চর্চার সূতিকাগার-উর্বর ভূমি। সেই ভূমিকে একটি দখলদার রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ইজারা নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার প্রাণ প্রিয় ভাই-বোনদের বলতে চাই আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জবাব দিবেন। ডাকসুতে পাঠানোর জন্য, ছাত্রবান্ধব প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য শিক্ষার্থীরা নিজেরা ভোট দিবেন এবং অন্যকে উৎসাহিত করবেন। যেহেতু ভোট মার্চে হবে সেহেতু সকল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ডটি নবায়ন করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যদি হতাশ হয় তাহলে এই জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। সেই যায়গা থেকে আপনারা কেউ হতাশ হবেন না। আপনারা সবাই ভোট দিতে আসবেন এবং শরীরের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত আমরা এই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আমার ক্যাম্পাসে আছি এবং কাজ করে যাবো।

ব্রেকিংনিউজ / টিটি / এমজি

bnbd-ads