bnbd-ads
bnbd-ads

ডাকসুতে অনিয়ম হলে রুখে দাঁড়াবো : ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী

এস এম আতিক হাসান
১১ মার্চ ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১২:০৫ আপডেট: ০৭:৫৮

ডাকসুতে অনিয়ম হলে রুখে দাঁড়াবো : ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী
ছবি : সালেকুজ্জামান রাজীব

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ডাকসুকে বলা হয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার। প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ডাকসু।
 
৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান, ৭১’র স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বৈরাচার ও সামরিকতন্ত্রের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে করেছে ডাকসু। ডাকসু থেকে উঠে এসেছেন দেশের অনেক জাতীয় পর্যায়ের নেতা।
 
ডাকুস নির্বাচন নিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে প্রার্থী হওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মত দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ব্রেকিংনিউজের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার নির্বাচনী প্রচারণার সর্বশেষ পরিস্থিতি, প্রস্তুতি, জয়-পরাজয় সহ জানা-অজানা নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট এস এম আতিক হাসান
 
ব্রেকিংনিউজ : ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় কেমন সাড়া পেয়েছেন?
 
মোস্তাফিজুর : আমরা শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়ার। যদিও সময় স্বল্পতার কারণে আমরা হয়তো সব ভোটারদের কাছে যেতে পারিনি, মেয়েদের হোস্টেলে ছাত্রলীগ ও প্রশাসন আমাদেরকে বিভিন্নভাবে বাধা দিয়েছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ভোটারদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতি ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমি মনে করি নির্বাচনের দিন যদি সাধারণ শিক্ষার্থী ভোটাররা ভোট দিতে পারেন তাহলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিজয়ী হবে।

 

ব্রেকিংনিউজ : সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আপনারা কতটুকু আশাবাদী?
 
মোস্তাফিজুর : ভোট সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। কারণ আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করি। ক্যাম্পাসে আবাসন নিয়ে সমস্যা আছে। একটি ছোট হলে অনেক শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে। সলিমুল্লাহ হলের মত হলে বারান্দায় শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে। শীত বৃষ্টি ঝড়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের অতিকষ্টে জীবন-যাপন করতে হয়, পড়াশোনা করতে হয়।
 
মফস্বল এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু তাদেরকে প্রথম দুই বছর হলের বাহিরে থাকতে হয়। তাদের এই সমস্যা দূর করার চেষ্টা করবো আমরা, এছাড়াও হলগুলোতে যে নিম্নমানের খাবার দেয়া হয় এবং ছাত্রলীগ যে ফ্রি খাবার প্রথা চালু করেছে সেটা বন্ধ করে ন্যায্যমূল্যে উন্নত মানের খাবারের ব্যবস্থা করবো আমরা। পাশাপাশি লাইব্রেরি বর্তমানে অ্যানালগ সিস্টেমে চলে। আমরা জয়ী হলে সেটা ডিজিটাল করবো।
 
ব্রেকিংনিউজ : ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগসহ অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীরাও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। আপনারা কাদেরকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন?
 
মোস্তাফিজুর : ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। তবে ছাত্রদল যুগ যুগ ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল। সেই কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলকে জয়ী করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। অন্যান্য সংগঠনের তেমন কোনও সাড়া নেই। আমি মনে করি এই নির্বাচনে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
 
ব্রেকিংনিউজ : ভোটে পরিস্থিতি আপনাদের অনুকূলে না থাকলে কী করবেন?
 
মোস্তাফিজুর : ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের বাধার পরেও আমরা ক্যাম্পাসে শেষ পর্যন্ত থেকে প্রচার চালিয়ে গেছি। আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনে প্রশাসন বিভিন্ন প্রকার কৌশল নিচ্ছে। যেমন সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এখানে প্রার্থীর কোনও এজেন্ট থাকবে না। শিক্ষকরাই ভোট নিবেন। এই বিষয়গুলি অস্বচ্ছ নির্বাচনেরই লক্ষণ বলা যায়। তবে গত ১০ বছর দেশে যে ধরনের নির্বাচন হয়েছে সেই ধরনের নির্বাচন যদি ডাকসুতে করতে চায় তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের তা প্রতিহত করবো। আমরা অস্বচ্ছ নির্বাচনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।
 
ব্রেকিংনিউজ : কেন্দ্রে সরাসরি অনিয়ম দেখলে ভোট বর্জন করবেন কিনা?
 
মোস্তাফিজুর : আমরা ভোট বর্জন করার জন্য নির্বাচনে আসেনি। আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে চাই। লড়তে চাই। তারপরও যদি সরাসরি অনিয়ম হয় তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রশাসনের এই অপকৌশলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।
 
ব্রেকিংনিউজ : সময় করে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
 
মোস্তাফিজুর : আপনাকে ও আপনার মাধ্যমে ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও ধন্যবাদ।
 
ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এমআর/এমজি
 

bnbd-ads
MA-in-English
bnbd-ads