গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার চাষিরা

জামান আখতার, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
৯ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১০:১০ আপডেট: ১০:১৫

গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার চাষিরা
ফাইল ছবি

সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় গমের আবাদ না থাকলেও চলতি বছর সরকারিভাবে গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য অধিদফতর। চলতি বছর জেলায় মাত্র ৭০ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মিলছে না এক ছটাক গমও। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কৃষকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও পাচ্ছেন না গমের দেখা।

চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে চুয়াডাঙ্গা ও এর আশপাশ কয়েক জেলার গমে নেক-ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। এ রোগ দমন করতে না পেরে সরকার গম আবাদে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করতে থাকে। ফলে কৃষকরা গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। 

চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য অধিদফতর জানায়, চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে ১৪৯৪ টন ধান, ৬৪৯০ টন চাল ও ৭০ টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। স্থানীয় খাদ্য অধিদফতরের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের নির্দেশনা রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম বলেন, ‘সরকার থেকে ধান ও চালের পাশাপাশি গমের সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও আমরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরেও গম সংগ্রহ করতে পারছি না। তবে আমার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

সদর উপজেলার বেলাগছি গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, গত কয়েক বছর ধরেই নেক ব্লাস্টের কারণে ক্ষতি এড়াতে গম চাষ করছেন না তারা। তাছাড়া এ জেলায় গম আবাদে সরকারের পক্ষ থেকেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সে নিষেধ মেনে তারা গম আবাদ করছেন না।

আলমডাঙ্গা উপজেলার নতিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কফিল উদ্দীন জানান, বছর পাঁচেক আগেও তারা প্রচুর পরিমাণে গম আবাদ করতেন। নেক-ব্লাস্টের আক্রমণের পর থেকে গম চাষ না করার জন্য বলা হয় তাদের। তারপর থেকেই ওই গ্রামে আর গমের আবাদ হয়নি।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তালহা জুবাইর মাশরুর বলেন, ‘ব্লাস্ট রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা না করে উল্টা গম চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করার মাশুল গুণতে হচ্ছে চাষি ও খাদ্য বিভাগকে। জেলায় গমের স্বর্ণযুগ ফেরাতে হলে খুব দ্রুত ব্লাস্ট সহনশীল বিভিন্ন জাতের গম বীজ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আলী হাসান জানান, ২০১৬ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলায় গমে ভয়াবহ বালাই নেক ব্লাস্টের আক্রমণের কারণে মাঠেই গম ক্ষেত পুড়িয়ে ফেলতে বাধ্য হয় কৃষকরা। পরবর্তীতে ওই জমিতে উৎপাদিত অন্য ফসলেও যাতে এ রোগ আক্রমণ করতে না পারে তার জন্য গম চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হয়। তারপর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে গম চাষ।

ব্রেকিংনিউজ/জেআই

bnbd-ads