bnbd-ads
bnbd-ads

গাইবান্ধা কারাগারে মাদক দুধ-ভাত (পর্ব- ৩)

মিলন খন্দকার

২৬ মে ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০১:১২

গাইবান্ধা কারাগারে মাদক দুধ-ভাত (পর্ব- ৩)

গাইবান্ধা জেলা কারাগারের প্রধান ফটকে লেখা আছে “রাখিব নিরাপদ দেখাবো আলোর পথ”।  এটি হলো সমাজের বিভিন্ন অপরাধীদের শাস্তির একটি জায়গা। শুধু তাই নয় ওই জায়গাটি একটি আদর্শ মানুষ গড়ার স্থানও। কিন্তু আদর্শ মানুষ হওয়া তো  দূরের কথা সেখানকার হাজতিরা আছেন অন্ধকারে। গাইবান্ধা জেলা কারাগারে মাদক ব্যবসা জমজমাট সহ নানা অভিযোগ আছে কারাগারের জেলার আবু নুর মো. রেজার বিরুদ্ধে। 

সূত্র জানায়, মাদক সম্রাট বকুল হোসেনের সঙ্গে কারাগারের জেলার আবু নুর মো. রেজার সখ্যতা থাকায় তারা একই টেবিলে তিন বেলার খাবার খেতেন। জেলারের অফিস কক্ষে বসে দিন-রাত মোবাইল ফোনে মাদক কারবারিসহ পরিবারের সঙ্গে কথা বলতেন বকুল।

মাঝে মাঝে বকুল হোসেন বাহিরে বের হতেন। চার-পাঁচ ঘণ্টা পর কারাগারে ঢুকতেন। মূলত ইয়াবা,গাঁজা, ফেন্সিডিল সংগ্রহ করতেই বকুলকে বাহিরে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতেন জেলার।

মাদক কারবারি বকুল ও জেলার আবু নুর মো. রেজা কারাগারে একটি বিশাল শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

ওই সিন্ডিকেটের অন্যতম লিডার বকুল কারাগারে চড়া দামে মাদক বিক্রি করে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা কামিয়ে দিতেন  জেলারকে।

সূত্র আরো জানায়, জেলার রেজা গাইবান্ধা কারাগারে যোগদানের পর থেকেই বকুল নিয়মিত মাদক দ্রব্য সরবরাহ করে আসছে।

তিন মাদক মামলার আসামি বকুল হোসেন গত একমাস আগে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আসলে জেলার রেজা যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান। শুরু করেন বকুলকে দিয়ে কারাগারে মাদকের রমরমা ব্যবসা। বকুল কারাগারের ভিতরে মাদকের আসর বসাতেন ওপেন সিক্রেট।

সূত্রটি দাবি করে, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন মাদক সম্রাট জড়িত। তারা কারাগারে বসে মাদক বিক্রি করে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। জেলারকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে তারা এই ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

তবে জেলার আবু নুর মো. রেজা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “এগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

সূত্রটি জানায়, মাদক ব্যবসায়ী বকুল ২৪ মে বিকেলে কারাগার থেকে বের হন। কিন্তু জেলারের বেধে দেওয়া নির্ধারিত সময়েও কারাগারে প্রবেশ না করায় বিষয়টি প্রকাশ পায়। ঘটনা জানতে স্থানীয় সাংবাদিকরা কারা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়। পরে বিষয়টি শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসককে অবগত করে সাংবাদিকরা। এর পরপরই জেলা প্রশাসক ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেন।

জেল সুপার মাহাবুবুল আলম শুক্রবার রাত ৮টা থেকে শনিবার সকাল সাড়ে দশটা পযর্ন্ত স্থানীয় সংবাদকর্মীদের কাছে ঘটনাটি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে মুঠোফোনে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, একমাস আগে গোবিন্দগঞ্জের একটি মাদক মামলায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

বকুল কারা কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে। কিভাবে পালিয়ে গেছে–তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন স্বাক্ষরিত ০৫.৫৫.৩২০০.০৪৪.১৬.০১০.১৮.৬২৬ নম্বর স্বারকে শুক্রবার রাতেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটি আসামি বকুলের পলায়নের কারণ উদঘাটন ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণপূর্বক আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে মতামত সহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই কমিটিতে অতিরিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জেবুন নাহারকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি- সার্কেল) মো. ময়নুল হক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মো. শাহীদুল ইসলাম।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads
MA-in-English
bnbd-ads