গণপূর্তে টেন্ডারের চিঠি জালিয়াতি করায় ৩ ঠিকাদার জেলে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৬:৪৯

গণপূর্তে টেন্ডারের চিঠি জালিয়াতি করায় ৩ ঠিকাদার জেলে

গণপুর্ত অধিদফতর-পিডবিব্লউডি’র চিঠি নকল করে ফেঁসে গেছেন রাজধানীর ‘থ্রি ষ্টার ইন্টারন্যাশনাল’ এর তিন ঠিকাদার। তাদের আটক শাহবাগ থানা পুলিশ। পরে আদালত েতাদের জেলে পাঠান। 

জেলে যাওয়া তিন ঠিকাদার হলেন- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মনিরুজ্জামান মানিক ও আবু কাইয়ুম রবি। তারা ৩৪ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক কাজের কার্যাদেশে লেখা দর জালিয়াতির মাধ্যমে দ্বিগুণ করে ৭৮ লাখ টাকার বিল হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছিলো। 

পিডব্লিউডি’র ইএম বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকেশলী জাহাঙ্গীর আলম এই নকল চিঠি ধরলে তাকেও অপদস্ত করেন, ওই ঠিকাদার ও তার মাস্তানরা। গত ২৯ জুলাই এ নিয়ে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং ৩১৮৯/৪(৫)। ওই দিনই পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাল তিন ঠিকাদারকে গ্রেফতার করে। 

 মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, থ্রি ষ্টার ইন্টারন্যাশনাল এর মঞ্জু, মানিক ও রবি প্রায়ই নিজেদের প্রভাব ও ক্ষমতা দেখিয়ে পিডব্লিউডি’র  ঠিকাদারি বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতো। তারা অন্য ঠিকাদারদের প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়েও এর আগে টেন্ডার ছিনিয়ে নিয়েছে। সবশেষ গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় পরিবহন পুলের ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার একটি  টেন্ডারের কার্যাদেশও তারা জোর করে নেন। এরপর ওই কার্যাদেশ এর দর চিঠি ঘষামাজা করে ৭৮ লাখ ৫৪ হাজার বসিয়ে তা চূড়ান্ত করতে জমা দেন। 

গত  ২২ জুলাই পিডব্লিউডি’র ইএম বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকেশলী জাহাঙ্গীর আলম তার অফিসে এই জালিয়াতি ধরে ফেলেন। পরে জানাজানি হয়ে গেলে,  মঞ্জু, মানিক ও রবি সদলবলে নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে ঢুকে জোর করে ফাইল থেকে সেই নকল চিঠি ছিঁড়ে নিয়ে যায়। নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেয় তারা। এরপর শাহবাগ থানায় বিষয়টি নিয়ে মামলা হলে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত ৩ ঠিকাদারকে। 

উল্লেখ্য, সারাদেশে গণপুর্ত অধিদফতরের বিভিন্ন বিভাগে প্রতিবছরই কয়েক শ’ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার হয়।  বেশিরভাগ টেন্ডারই ভয় আর ক্ষমতা দেখিয়ে একটি নির্ধারিত গ্রুপ হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যারা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের নিকটাত্মীয় বা ঘনিষ্ট বলে পরিচয় দেন। নিজেদের বাড়ি গোপালগঞ্জ বলেও মতা দেখানোর চেষ্টা করেন কেউ কেউ। তাদের দাপটে গৃহায়ণ ও গণপুর্ত বিভাগের টেন্ডারে প্রকৃত ঠিকাদাররা অংশ নেয়ারই সুযোগ পাননা। 

এমন অভিযুক্ত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দিদার হোসেন। গণপুর্তের বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসে সাদা পোশাকে পুলিশ নজরদারি শুরু হয়েছে বলেও জানান শাহবাগ থানার এই কর্মকর্তা। 

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/জেআই