সাংবাদিক শিমুল হত্যায় মেয়র মিরুর জামিন নাকচ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী
৫ আগস্ট ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৩:৩৭ আপডেট: ০৪:২৩

সাংবাদিক শিমুল হত্যায় মেয়র মিরুর জামিন নাকচ
ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলায় শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর জামিন আবেদন নাকচ করেছে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক। সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে শুনানি শেষে অনুপ কুমার মিরুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলার চার্জ গঠনের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু জানান, সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তরের জন্য গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দীর্ঘ প্রায় ৭ মাস পর গত ১৪ জুলাই ওই প্রজ্ঞাপনটি সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পৌঁছে।

তিনি বলেন, ‘বহুল আলোচিত এ মামলাটি রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পৌছালে সোমবার আসামিদের জামিনের আবেদনের শুনানির দিন দেয়া হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক অনুপ সরকার আসামি মিরুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে থাকা অন্য ৩৭ আসামিকে ১০ হাজার টাকা বন্ডের বিনিময়ে বদলি জামিন দেন’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌরসভার মেয়র (বর্তমানে বরখাস্তকৃত) হালিমুল হক মিরুর সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর শর্টগানের গুলিতে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন বাদী হয়ে মিরুকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ ২৫ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ একই বছরের ২ মে পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক মিরু ও তার ভাই মিন্টুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় হালিমুল হক মিরু কারাগারে থাকলেও অপর ৩৭ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।

মামলায় বাদী পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু ছাড়াও অ্যাডভোকেট সুশান্ত সরকার, অ্যাডভোকেট রোস্তম আলী ও অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বাবু। আসামি পক্ষের আইনজীবি ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি আবদুল আলিম মিয়া জুয়েল, অ্যাডভোকেট একরামুল হক, আসলাম সরকার, মোছাব্বিরুল সরকার।

ব্রেকিংনিউজ/এসডিএম/জেআই