খুশি মিন্নির বাবা, ক্ষুব্ধ রিফাতের বাবা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১০:১০ আপডেট: ১০:৩৫

খুশি মিন্নির বাবা, ক্ষুব্ধ রিফাতের বাবা

বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে তিন শর্তে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

মেয়ে জামিন পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর। তবে এতে ক্ষুুব্ধ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ। 

বৃহস্পতিবার মিন্নির জামিনের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দুলাল শরীফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিন্নি জামিন পাওয়ায় আমি হতাশ। কারণ, মিন্নি আমার ছেলেকে হত্যার সাথে জড়িত। তার কারণে আমার ছেলের জীবন ঝরে গেছে।’

এদিকে, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুব খুশি। ন্যায়বিচার যে দেশে আছে, এটার প্রমাণ আজকে পাওয়া গেল।

তিনি বলেন, ‘দুস্কৃতকারীরা যেগুলো করতেছে এগুলো সব জনসমক্ষে প্রচার পেয়েছে। এজন্য আমি গর্বিত। আমি সুন্দর একটা রায় পেয়েছি। এটি আমার বিজয়।’

মিন্নি এই হত্যা মামলার তদন্ত কাজকে প্রভাবান্বিত করতে পারবেন না। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। এছাড়াও ১৯ বছর বয়সী মিন্নিকে তার বাবার জিম্মায় থাকতে হবে। এমন শর্তে বুধবার (২৯ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি এম এনায়তুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ মিন্নির জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৩০ জুলাই বরগুনা জেলা দায়রা ও জজ বিচারক আসাদুজ্জামানের আদালত মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেন। গত ৪ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মিন্নির পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। গত ৮ আগস্ট হাইকোর্টের একটি অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ মিন্নিকে জামিন দেয়নি। এ অবস্থায় তার আইনজীবী আবেদনটি ফেরত দেয়ার আবেদন জানালে হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করে। পরে গত ১৮ আগস্ট অন্য বেঞ্চে মিন্নির জামিনের আবেদন উপস্থাপন করা হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে নিহতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে প্রথমে ১২ জনের নাম ও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত উল্লেখ্য করে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর মিন্নির সঙ্গে খুনি নয়ন বন্ডের বিভিন্ন ভিডিও, অডিও ও ছবি ভাইরাল হলে তাকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯ টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাকে রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তখন স্বামী রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। 

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ