বিতর্কিত বক্তা তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ১০:৪১

বিতর্কিত বক্তা তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলা

‘চা খাবেন? ঢেলে দেই?’, ‘বসেন, বসেন, বইসা যান’ খ্যাত সামাজিক যোগাযোগম মাধ্যমে সমালোচিত ব্ক্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলার আবেদন করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী সদস্য মো. ইব্রাহিম খলিল।

মামলার বাদী ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাহেরীর বিরুদ্ধে পিটিশন মামলার আবেদন জমা দিয়েছি। মামলা গ্রহণের বিষয়ে এখনো শুনানি হয়নি।

মামলার অভিযোগে বাদী বলেন, ইসলাম ধর্মের পথপ্রদর্শক হজরত মুহম্মদ (সা.) এর আদর্শ ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ওয়াজ মাহফিলের মধ্যে নাচ-গান সমর্থন করে না। ইসলামের রীতিনীতি অনুযায়ী আসামির কর্মকাণ্ড মুনাফেকির শামিল। ওয়াজের মধ্যে গান গাওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। এক ব্যক্তির উক্তি দিয়ে তার বিড়ি খাওয়ার দোয়াটিও ইসলামের কোথাও নেই। তার এসব বক্তব্যে ইসলাম ধর্মকে ব্যঙ্গ ও অবমাননা করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, ‘বসেন বসেন বইসা যান, ঢেলে দেই’ এসব বাক্য ওয়াজে ব্যবহার করা হয়, যা সম্পূর্ণ অশ্লীল। ইসলাম ধর্মে এ রকম শব্দের উল্লেখ নেই। কিছু কিছু ইউটিউবারকে তিনি ধান্দাবাজ।

আসামি তাহেরীর এসব কর্মকাণ্ড ইসলামে বিদ’আত বলে গণ্য। তিনি ইসলাম ধর্মের অপপ্রচারকারী। ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তার প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায় তিনি ওয়াজের মধ্যে নাচ, গান করেন। ভক্তদের নিয়ে জিকিরের নামে নাচ-গান করেন।

উল্লেখ্য, তাকে নিয়ে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা ও নানা কৌতূহল রয়েছে। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাহেরী নামের এক বিতর্কিত বক্তার ওয়াজের বিভিন্ন ক্লিপস ভাইরাল হয়েছে। তাকে নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, দাওয়াতে ঈমানী বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুফতি মুহম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরী। নরসিংদীর রায়পুরার মাস্তানগঞ্জ নামক একটি মহল্লায় খাজা বাবার দরবার নাম দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি আস্তানা গড়ে তুলেছেন তাহেরী।

দুই সন্তানের জনক তাহেরীর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাপাইর গ্রাম। তার বাবার নাম মাওলানা নজিবউদ্দিন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার একজন আরবি শিক্ষক। আর মা মোহছেনা বেগম একজন গৃহীণি।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পাস করেন।এরপর তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ফাজিল ও কামিল পাস করেন।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ