চ্যারিটেবল মামলা: জামিন পেতে আবারও হাইকোর্টে খালেদা জিয়া

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৪:০৪ আপডেট: ০৫:৫৩

চ্যারিটেবল মামলা: জামিন পেতে আবারও হাইকোর্টে খালেদা জিয়া

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন পেতে আবারও হাইকোর্টে আবেদন করেছেন উক্ত মামলায় ৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এএসএম আবদুল মবিনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন এ আবেদন করেন।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল চ্যারিটেবল মামলায় নিম্ন আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে বেগম জিয়ার খালাস চেয়ে করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন উচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে উক্ত মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া অর্থদণ্ড আপিল শুনানিকালে স্থগিত করে মামলার সকল নথি পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুন হাইকোর্টে এসে পৌঁছায় মামলার নথি। 

গত ২৮ জুলাই এ মামলায় জামিন চেয়ে প্রথমবারের মতো আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেন আদালত। পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।

এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের ব্যক্তিগত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ব্যক্তিগত সহকারী সচিব মনিরুল ইসলামকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

এ ছাড়া ট্রাস্টের নামে ঢাকা শহরে থাকা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রায়ত্ত করার আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তবে এ মামলায় হারিছ চৌধুরী পলাতক থাকলেও কারাগারে থাকা অপর দুই আসামি জিয়াউল ও মনিরুলকে রায় ঘোষণাকালে আদালতে হাজির ছিলেন।

এরপর ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জামিন ও খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। 

এদিকে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন বিচারিক আদালত। 

রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ওইদিন থেকেই তিনি কারাভোগ করছেন। বর্তমানে কারাবন্দি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর