গণধর্ষণের ভিকটিমের সঙ্গে থানায় বিয়ের ঘটনা নজর রাখছে হাইকোর্ট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৪:১৭ আপডেট: ০৪:১৯

গণধর্ষণের ভিকটিমের সঙ্গে থানায় বিয়ের ঘটনা নজর রাখছে হাইকোর্ট

পাবনায় গণধর্ষণের অভিযোগ তোলা গৃহবধূর সঙ্গে অভিযুক্ত ধর্ষকের বিয়ে দেয়ার ঘটনায় নজর রাখছে হাইকোর্ট। 

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল। তার সঙ্গে ছিলেন গাজী ফরহাদ রেজা ও রোহানী সিদ্দিকা। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চে এ আবেদনটি তুলে ধরেন আইনজীবীরা।

এ সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাও বিষয়টা নজরে রাখছি।’

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনজীবী ফয়সাল জানান, আদালতে পাবনার বিষয়টি উদ্ধৃত করে বিচারকদের নজরে আনেন তিনি। আদালত তখন বলেন, ‘বিষয়টিতে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে; ওসিকে শোকজ করা হয়েছে। এটা নিয়ে আপনারা আবার কেন আসছেন?’

তিনি আদালতকে জানান, ওসিকে শোকজ করা হয়েছে ঠিক। কিন্তু আজকের পত্রিকায় এসেছে বিয়ের কাজি, যিনি বিয়েটা পড়াতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন, তাকে এবং ভিকটিমের পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ওসির লোকজন। ওই ওসি যদি ওই থানায় দায়িত্বে বহাল থাকে তাহলে তদন্তটি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে, তদন্ত ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আদালত তখন বলেন, ‘যেহেতু এটা প্রশাসনিক বিষয় এবং যেহেতু কর্তৃপক্ষ অ্যাকশন নিচ্ছে, দেখেন প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়। যদি প্রশাসনের ব্যবস্থা সন্তোষজনক না হয় তখন আপনারা আগামী সপ্তাহে আসেন আমরা দেখব। আদালত এও বলেছেন, মিডিয়ার মাধ্যমে আমরাও বিষয়টা নজরে রাখছি।’

মামলা না নিয়ে ‘ধর্ষণের শিকার’ গৃহবধূর সঙ্গে থানা চত্বরে ‘ধর্ষণকারীর’ বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর সোমবার পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে; গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহপুর যশোদল গ্রামের তিন সন্তানের মা ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট এক সহযোগীসহ তাকে তার বাড়িতে ধর্ষণ করে। দুই দিন পর (৩১ আগস্ট) তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রেখে সেখানেও চার-পাঁচ জন তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের জানালে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

এদিকে পুলিশ প্রথমে রাসেলকে আটক করে। আর ওই নারীর রিকশাচালক স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে। এরপর অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে থানায় ডেকে এনে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দৌলত আলী জানান, তার উপস্থিতিতেই এলাকা থেকে পাবনা সদর থানার এসআই একরামুল হক ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা শুনেছেন রাসেলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সদর থানার ওসিকে শোকজ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পরে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ