খালেদা জিয়ার মুক্তি ‘আইনি বিষয়’: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৭:২২ আপডেট: ০৯:০৫

খালেদা জিয়ার মুক্তি ‘আইনি বিষয়’: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি পুরোপুরি আইনি বিষয়। কারণ তিনি দুর্নীতি মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত আসামি। তাকে রাজনৈতিক কারণে বন্দি করা হয়নি। রাজনৈতিক কারণে কাউকে বন্দি করা হলে বা রাখা হলে তাকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করার বিষয়টি থাকে। সুতরাং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আইনির মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিমময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে এবিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না, জানতে চাইলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে ঢেকেছিলেন, আমিও সেখানে ছিলাম। সেখানে এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সেখানে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির কাছে আমার প্রশ্ন, তারা কোন পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি চান! খালেদা জিয়ার মুক্তি তো আইনের পথে ছাড়া অন্য কোনো পথে সম্ভবপর নয়। কিন্তু বিএনপি বারবার হুংকার দেন, তারা আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন। বিএনপি’র আন্দোলনের নমুনা গত সাড়ে দশ বছর থেকে দেখে আসছি।’

উইকিলিকসে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক জিয়ার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ প্রকাশের বিষয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে কথাটি এতোদিন আমরা বলে আসছি, সেটি উইকিলিকসে তথ্যের মাধ্যমে উঠে আসছে। এটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে স্বাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তারেক জিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মাস্টারমাইন্ড।’

তিনি বলেন, ‘তার (তারেক রহমান) পরিচালনা এবং বেগম খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার লক্ষ্যে এই গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল। আমরা যখনই বলেছি, তখনই বিএনপি এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন জাগে তারেক জিয়া এবং খালেদা জিয়ার জ্ঞাতসারে এই ঘটনা ঘটেছে এটা উইকিলিসে উঠে এসেছে এখন বিএনপি কি বলবে।’ 

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সব টিভি চ্যানেল সম্প্রচার শুরু প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল সব প্রাইভেট চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত হয়ে সম্প্রচারে গেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য সুখবর। এতোদিন বাংলাদেশের টাকা বিদেশি স্যাটেলাইটে যারা পরিচালনা করেন তাদের দেয়া হতো। ফরেন কারেন্সি বাংলাদেশ থেকে চলে যেতো। সেই টাকা পরিশোধ করার জন্য কিছুটা ঝামেলা ছিল। প্রতিটি চ্যানেলকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি নিতে হতো। এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য ব্যয় বাংলাদেশি টাকাতেই দেয়া সম্ভব।’

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মান সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘বিটিভি কয়েক মাস আগে থেকে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করছে। কোনো ধরনের ত্রুটি আমরা পাইনি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পরিপূর্ণ সেবা দেয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন সব আছে।’ 

ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কে টিভিগুলোর ক্রম ঠিক রাখা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্দেশনা দেয়ার পর যে ক্রমটি অ্যাটকোর পক্ষ থেকে করে দেয়া হয়েছে সেটিই আমরা ক্যাবল অপারেটরদেরকে জানিয়েছিলাম তারা সেটা অনুসরণ করছে। কোনো কোনো জায়গা না মানা হলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নেয়া হবে। আজকে দেশ ডিজিটাল হয়েছে কিন্তু আমাদের সম্প্রচার মাধ্যম পুরোপুরি ডিজিটাল হয় নাই। সম্প্রচার মাধ্যমটাকে ডিজিটাল করতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের ক্যাবল অপারেশন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ডিজিটাল হবে। পরে সমগ্র দেশে ডিজিটাল সম্প্রচার হোক এটাই আমরা চাই।’

ব্রেকিংনিউজ/ আরএইচ/ এসএ 

bnbd-ads