১০ দিনের রিমান্ডে সম্রাট, সহযোগী আরমানের ৫ দিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০১:৩৪ আপডেট: ০৪:৫৫

১০ দিনের রিমান্ডে সম্রাট, সহযোগী আরমানের ৫ দিন
ছবি: সালেকুজ্জামান রাজীব

অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুটি মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ‘ক্যাসিনো কিং’ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সম্রাটের অন্যতম সহযোগী দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকে ৫ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক তোফাজ্জল হোসেন পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। 

রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয় সম্রাটকে। 

এদিন সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের পৃথক দুই মামলায় ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের এবং আরমানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ১০ দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়।  

আবেদনের শুনানি শেষে আদালত সম্রাটকে অস্ত্র মামলায় ৫টি ও মাদক মামলায় আরও ৫ দিন মিলেয়ে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান। আর আরমানকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড দেন। 

এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে তাদের জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমানসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী আসামিদের জামিন বাতিল চেয়ে রিমান্ড দাবি করেন।

এদিকে সম্রাটের আদালতে আসার খবরে সকাল ১০টার পর থেকে সিএমএস আদালত চত্বরে জড়ো হতে থাকে তার কর্মী-সমর্থকেরা। দুপুর ১২টার দিকে সম্রাট যখন আদালতের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছিলেন তখন সমর্থকরা বিক্ষোভ আর শ্লোগানে শ্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তোলেন। এক পর্যায়ে পুলিশ সম্রাটের কর্মী-সমর্থকদের আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দিয়ে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। 

এর পর কর্মী-সমর্থকরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে রায়সাহেব বাজার মোড় পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়ে সম্রাটের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও শ্লোগান দিতে থাকেন। 

সম্রাট ও আরমানের বিরুদ্ধে রিমান্ড চেয়ে করা আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল গত ৯ অক্টোবর। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় ওই দিন সম্রাটকে আদালতে হাজির করা হয়নি। ফলে তাকে গ্রেফতার দেখানো ও রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানিও হয়নি। আরমানকে অবশ্য মাদকদ্রব্য আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি পিছিয়ে দেয়া হয়। দু’জনের রিমান্ড শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেন ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী।

গত ৭ অক্টোবর রাতে রমনা থানা পুলিশ অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় সম্রাটকে গ্রেফতার দেখানোর পাশাপাশি ১০ দিন করে ২০ দিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আরমানকেও মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানো ও দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামে আত্মগোপনে থাকা সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে গত ৬ অক্টোবর ভোরে গ্রেফতার করা হয়। আরমান মদ্যপ অবস্থায় থাকায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়। আর সম্রাটকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। 

এরপর ওই দিনই সম্রাটের কার্যালয় রাজধানীর কাকরাইলে ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালায় র‌্যাব। উদ্ধার করা হয় এক হাজার পিস ইয়াবা ও সংরক্ষণের আড়াই হাজার জিপার প্যাকেট। সম্রাটের কক্ষে একটি লাগেজ থেকে ১৯ বোতল মদ, একটি বিদেশি পিস্তল এবং ৫ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়।

ওইদিনই সন্ধ্যায় র‌্যাব-১-এর ডিএডি আবদুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

bnbd-ads