সংবাদ শিরোনামঃ
bnbd-ads
bnbd-ads

মধ্যরাতে অনশনরত ছাত্রীদের ছাত্রলীগের হেনস্তা, হুমকি!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১১:২২ আপডেট: ১১:২৩

মধ্যরাতে অনশনরত ছাত্রীদের ছাত্রলীগের হেনস্তা, হুমকি!

নানা কারচুপির অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিলের দাবিতে অনশন করছেন রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা। অনশনরত ছাত্রীদের হেনস্তা ও হুমকি দেয়া অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

অনশনকারী ছাত্রীদের অভিযোগ, বুধবার মধ্য রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাদের হেনস্তা করেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সকালে অনশনকারী শ্রবণা শফিক দীপ্তি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চারটি দাবিতে আমরা সুশৃঙ্খলভাবে অনশন করছিলাম। বুধবার রাতে গোলাম রাব্বানী তার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এখানে এসে আমাদের, সমর্থনকারীদের হেনস্তা করেন। ছবি দেখিয়ে একজনকে চরিত্রহীন প্রমাণের চেষ্টা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আমরা মদ-গাঁজা খেয়ে আন্দোলন করছি। এ ছাড়া আমাদের চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য প্রক্টরকে বলেন।’

এর আগে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা থেকে রোকেয়া হল ছাত্র সংসদে পুনরায় নির্বাচন ও হল প্রভোস্ট জিনাত হুদার পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন রোকেয়া হলের ছয় শিক্ষার্থী। হলের মূল ফটকে অবস্থান নে তারা। 



প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের জানান, রাত দেড়টার দিকে গোলাম রাব্বানী  মোটরসাইকেলে করে ছাত্রলীগ শতাধিক নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রোকেয়া হলের সামনে আসেন। এসময় তিনি মুঠোফোনে প্রক্টরকে জানান, ‘হলের কিছু মেয়ে মধ্যরাতে গেট খুলে বাইরে অবস্থান করে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছেন। এরা খুব বাড়াবাড়ি করছে, স্যার। এদের সবগুলোর ফাইল দেখে চিহ্নিত করে, গার্ডিয়ান ডেকে এনে স্থায়ীভাবে একাডেমিক বহিষ্কার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খোদা হাফেজ করে দেন।’

এ সময় প্রভোস্টের ‘পদত্যাগ’ দাবি করে ‘রোকেয়া হলের আঙিনা, তোমার-আমার ঠিকানা’ বলে স্লোগান দেন অনশনকারীদের সমর্থকেরা।

এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইশরাত কাশফিয়া ইরা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম–বিষয়ক সম্পাদক লিপি আক্তার, হল সংসদের সদস্য সুরাইয়া আক্তারসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী।

ডাকসুর জিএস রাব্বানীর কাছে তাঁরা অভিযোগ করেন, অবস্থানকারীদের কারণে হলের শিক্ষার্থীরা ঘুমাতে পারছেন না, পড়তে পারছেন না।

এরপর রাব্বানী হলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা অনশনকারীদের কয়েকজন সমর্থককে দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীদের প্রশ্ন করেন, ‘রাত দুইটার দিকে বোরকা, নেকাব পরা এরা কারা? ছাত্রী সংস্থা? শিবিরের কর্মী? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অবস্থান নিষিদ্ধ।’

এরপর রাব্বানী গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে বলেন, ‘এদের ফোকাস করেন।’ এ সময় ঘটনাস্থলে হলের হাউস টিউটর দিলারা জাহিদ, লোপামুদ্রা, সাদিয়া নূর খান এসে ডাকসুর জিএস রাব্বানীকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। জিএস চলে যেতে উদ্যত হলে তাঁকে ফিরিয়ে আনেন হল ছাত্রলীগ নেত্রীরা। ফিরে এসে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করতে হল ছাত্রলীগ নেত্রীদের নির্দেশ দেন রাব্বানী।

এদিকে এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) অনশনরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়াও শতাধিক শিক্ষার্থীদের সমর্থন বিক্ষোভ করছেন। তারা প্রভোস্টের ‘পদত্যাগ’ দাবি করে ‘রোকেয়া হলের আঙিনা, তোমার-আমার ঠিকানা’ সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

bnbd-ads
bnbd-ads