সাংবাদিক রফিকের ওপর হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি আরইউজে’র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১২:০১

সাংবাদিক রফিকের ওপর হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি আরইউজে’র

রাজশাহীতে দৈনিক কালের কণ্ঠের রাজশাহীর নিজস্ব প্রতিবেদক রফিকুল ইসলাম রফিকের ওপর এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর মালিকানাধীন ‘থিম ওমর প্লাজার’ কর্মীদের হামলার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে)। হামলাকারী এবং এর নেপথ্যে যারা আছেন তাদের প্রত্যেকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। একইসঙ্গে থিম ওমর প্লাজার দখল করা ফুটপাত উদ্ধারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) সাত দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। 

সাংবাদিক রফিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঘন্টাব্যাপি রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানানো হয়। রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) এর আয়োজন করে। সংগঠনের রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

বিজ্ঞপ্তি থেকে আরো জানা যায়, আরইউজে’র সভাপতি কাজী শাহেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক রফিকের ওপর হামলার ঘটনা সাধারণ নয়। এটি পরিকল্পিত। আমরা এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই। তা না হলে এ ঘটনার নেপথ্যে যারা আছেন তারা পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

বক্তারা বলেন, সারাশহরে ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। কিন্তু নগর ভবনের পেছনেই থিম ওমর প্লাজা সংকীর্ণ রাস্তার ফুটপাত দখল করে রেখেছে। মেয়রের প্রতি আহ্বান জানাই, হাজারও মানুষের ঘর ভাঙার আগে একটি ফুটপাত উচ্ছেদ করুন।

বক্তারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, থিম ওমর প্লাজার নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সাংবাদিক রফিকের ওপর হামলা অন্য ঘটনাগুলোর মতো নয়। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তার মাথার হেলমেট কেড়ে নিয়ে লোহার রড, লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। এর আগে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের অব্যাহতভাবে হুমকি ধামকি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই হুমকি আর হামলা করে রাজশাহীর সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা যাবে না। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ আছে। অতীতে বাংলা ভাই পারেনি। অন্য কোনো অশুভ শক্তি বর্তমানেও পারবে না। ভবিষ্যতেও নয়।

বক্তারা বলেন, রাজশাহীর পাঁচজন সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছিলেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। বলেছিলেন, এদের গায়েব করে দেয়া হবে। এই পাঁচ সাংবাদিকের মধ্যে রফিকও ছিলেন। তার ওপর ফারুক চৌধুরীর কর্মীরা হামলা করেছে। তাই আমরা মনে করি, ফারুক চৌধুরীর ইন্ধনেই এই হামলা হয়েছে। হামলার সময় তিনি কোথায় ছিলেন সেটা তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানাই।
এমপি ফারুকের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, আপনার আচরণ সংশোধন করুন। তা না হলে রাজশাহীর কোনো গণমাধ্যমকর্মী আপনার পাশে থাকবে না। তখন আপনার নিজের জায়গাও ঠিক থাকবে না। সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলে গোলাম মাওলা রনি, জয়নাল হাজারী ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। এখন আপনি কলম সৈনিকদের হুমকি দিচ্ছেন। আর চোখ রাঙাবেন না। আমরা ভয় পাই না। চোখ রাঙালে আপনারও পরিণতি ভালো হবে না।

রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের উদ্দেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর থিম ওমর প্লাজার জন্য ফুটপাত দখল করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে আপনি এই ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে দেবেন। তা না হলে আমরা মনে করব, আপনি সাংবাদিকদের সঙ্গে নেই, রাজশাহীর মানুষের সঙ্গে নেই, আপনি এমপির পক্ষে আছেন।

এসময় বক্তব্য দেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, রাজশাহী ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহসভাপতি মামুন অর রশিদ, রাজশাহী সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী, বিএফইউজের সদস্য জাবীদ অপু, আরইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিবলী নোমান, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শ্যামল, আরইউজের সহসভাপতি শরীফ সুমন, রাজশাহী ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, সিনিয়র ফটোসাংবাদিক আজাহার উদ্দিন, সেলিম জাহাঙ্গীর, সাংবাদিক মঞ্জুয়ারা খাতুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মর্তুজা নূর, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি