ফেরতে বিলম্ব হলে উগ্রবাদে জড়াতে পারে রোহিঙ্গারা: সিটিটিসি প্রধান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৬:১৮ আপডেট: ১০:১৪

ফেরতে বিলম্ব হলে উগ্রবাদে জড়াতে পারে রোহিঙ্গারা: সিটিটিসি প্রধান

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম বিলম্বিত হলে তারা সামাজিক নানা অপরাধসহ উগ্রবাদে জড়াতে পারে বলে মনে করেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তবে রোহিঙ্গাদের অপরাধ প্রবণতা ঠেকাতে গোয়েন্দা সদস্যরা কড়া নজরদারি করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) আয়োজিত 'মিট উইথ মনিরুল ইসলাম' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

রোহিঙ্গারা যদি বাংলাদেশে থেকে যায় তাহলে ভবিষ্যতে তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়বে কিনা এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তারা দীর্ঘদিন এ দেশে থাকলে সোস্যাল ডিজঅর্ডারসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যেতে পারে। এজন্য তাদেরকে নিজ দেশে পাঠাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

এ বিষয়ে দু-একদিনের মধ্যে জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় সমস্যা নিরসনে ফলপ্রসূ কোনও উদ্যোগ হবে। কারণ রোহিঙ্গারা তাদের বাড়ি হারিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছে। এসবের কারণে তারা ভবিষ্যতে উগ্রবাদের জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে আমাদের দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থা তাদের তীক্ষ্ণ নজরদারিতে রেখেছে। তারা যদি এমন কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আগাম জানতে পারবো। সে অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অনেকেই জঙ্গি সংগঠন আইএস থেকে স্ব স্ব দেশে ফিরতে চাইছেন। বাংলাদেশিরা ফিরতে চাইলে তাদের ফেরত নেয়া হবে কি না অথবা তারা দেশে ঢুকে পড়লে দেশের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে কি না- এমন প্রশ্নে সিটিটিসি প্রধান বলেন,  ‘বাংলাদেশ থেকে মূলত ২০১৪ সালের শেষ দিকে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি আইএস'এ যোগদান করেছে।  আমাদের ধারণা মতে তাদের কেউ কেউ ধরা পড়েছে, কেউ নিহত হয়েছে অথবা কেউ ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন। তারা যদি এখন দেশে ফিরতে চায় তাহলে তাদেরকে অবশ্যই এয়ারক্রাফট দিয়ে দেশে ফিরতে হবে। এর জন্য তাদের পাসপোর্ট লাগবে।’ 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেহেতু তারা ২০১৪  সালের শেষের দিকে গিয়েছে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদউত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা। দেশে ফিরতে হলে তাদেরকে নতুন করে পাসপোর্ট আবেদন করতে হবে। আমরা সিরিয়ালসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে যখন পাসপোর্ট আবেদন পাচ্ছি সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে তাদেরকে পাসপোর্ট দিচ্ছি। তাই আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে আসা সম্ভব নয়। তাছাড়া কেউ যদি ফিরে আসতে চায় তাহলে আইনগত দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদেরকে গ্রহণ করা হতে পারে আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে।’

সম্প্রতি আইএস'র একটি ভিডিওতে বাংলাদেশে খলিফা নিয়োগের কথা বলা হয়েছে- বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আইএস-এর নিজস্ব দাবি। বাংলাদেশে তাদের কোনও খলিফা নাই। হয়তো প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ তাদের সাথে থাকতে পারে, তাকেই খলিফা বলে দাবি করছে তারা।’

দেশে ধর্মভিত্তিক জঙ্গিবাদের আমদানিকারকরা চিহ্নিত হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে মনিরুল বলেন, ‘প্রথম দিকে যারা আফগানিস্তান গিয়েছিল তারাই দেশে ফিরে ধর্মীয় ও সহিংসতাভিত্তিক জঙ্গিবাদের সূচনা করেছে। প্রথমদিকের এসব আমদানিকারকদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারও কারও ফাঁসি হয়েছে। তিন-চারজন হয়তো পলাতক রয়েছে, তবে সবাই চিহ্নিত।’

কারাগারে জঙ্গিবাদ ছড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি একটি গ্লোবাল সমস্যা। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশে কারাগারে জঙ্গিরা রেডিক্যালাইজড হচ্ছে। বাংলাদেশেও এমন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর অন্যতম কারণ মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা। তবে এই দীর্ঘসূত্রিকা কমাতে ২টি সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে। তাদের মামলাগুলো নিষ্পত্তি চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও কারাগারগুলোতে সব ধরনের সন্ত্রাসবিরোধী আসামিদের মেলামেশার সম্ভাবনা খুব কম।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ক্রাবের সভাপতি আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক দীপু সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদ নিজাম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমানসহ ক্র‍্যাব নেতৃবৃন্দ ও সিটিটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

bnbd-ads