যেভাবে গ্রেফতার হলেন ওসি মোয়াজ্জেম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৫:৪২ আপডেট: ০৬:৩৮

যেভাবে গ্রেফতার হলেন ওসি মোয়াজ্জেম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালত থেকে জামিন নেয়ার জন্য এতোদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন যে, আদালত থেকে জামিন নিয়ে তারপর সবার সামনে আসবেন। জামিনের ব্যাপারে আইনজীবীর সাথে সাক্ষাৎতের জন্য আদালত চত্বরে যান। তবে আগে থেকেই মোয়াজ্জেম হোসেনকে নজরদারিতে রেখেছিল পুলিশ। আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন।

সোমবার (১৬ জুন) বেলা ৩টার সময় আদালত চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে ব্রেকিংনিউজকে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিচালক এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেমকে সাদা পোষাকে ডিবির একটি দল আদালত চত্বর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় দেখা যায় তিনি (ওসি মোয়াজ্জেম) চুল, দাঁড়ি রেখেছেন অনেক বড়। প্রথমবারে যেকেউ দেখলে তাকে চিনতে পারবে না। 

এদিকে ওসিকে গ্রেফতারের পর রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন কদম ফোয়ারা এলাকা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সোনাগাজী থানা পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হবে। বাকি দায়িত্ব তাদের।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ব্রেকিংনিউজকে জানান, উচ্চ আদালতের সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা তাকে নজরদারিতে রেখেছিল। গ্রেফতারের পর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে। তাকে ফেনীতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ মামলা করেন। এই মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি।

গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।

নুসরাতের মৃত্যুর পর তার জবানবন্দির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/ এসএ