১০ বছরে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশি হত্যা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৬:৫৮ আপডেট: ১০:৪১

১০ বছরে সীমান্তে ২৯৪ বাংলাদেশি হত্যা
সীমান্ত হত্যাযজ্ঞের সবচেয়ে নির্মম শিকার ফেলানি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গত ১০ বছরে ২৯৪ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আগের তুলনায় সীমান্তে হত্যা অনেকটা কমে এসেছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্তে ২০০৯ সালে ৬৬ জন, ২০১০ সালে ৫৫ জন, ২০১১ সালে ২৪ জন, ২০১২ সালে ২৪ জন, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন এবং ২০১৮ সালে ৩ জন হত্যার শিকার হয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সীমান্তে হত্যা কমে আসছে। ২০০৯ সালে যেখানে হত্যা হয়েছিল ৬৬ জন, ২০১৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ জনে। সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধের বিষয়ে বিজিবি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত এবং সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মন্ত্রী জানান। সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ একমত পোষণ করে আসছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সময় বিএসএফ’র এই হত্যাযজ্ঞ বেড়েছে। গত ৩০ দিনে সীমান্তে ৬ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। বার বার সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। পাকিস্তান, চীন, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে রয়েছে ভারতের সীমান্ত। সেখানেও চোরাচালনের কারবার থাকলেও বাংলাদেশিদের মতো হত্যাযজ্ঞ চালায় না সামরিক শক্তিধর দেশটির সীমান্তরক্ষীরা।

সীমান্তে একপক্ষীয় এই হত্যাযজ্ঞের সবচেয়ে নির্মতার শিকার ফেলানী। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাটাতারের বেড়ায় নির্মমভাবে খুন হয় কিশোরী ফেলানী। বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত ফেলানীর মরদেহ কাটাতারেই ঝুলে থাকে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা।  ফেলানীর ঝুলে থাকা লাশের ছবি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোতে সমালোচনার ঝড় তোলে। ৮ বছরও জগণ্য এই হত্যার বিচার পায়নি ফেলানীর পরিবার।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ