এরশাদের ছেলে-মেয়ে কয়জন, কে কোথায় থাকেন, কী করেন?

নিউজ ডেস্ক
১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১২:২৩ আপডেট: ০৩:২৩

এরশাদের ছেলে-মেয়ে কয়জন, কে কোথায় থাকেন, কী করেন?

৯ বছরের সামরিক শাসক, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করা এরশাদ গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। 

এরশাদের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন উঠে আসছে। এরশাদের দুই স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হচ্ছে মিডিয়াগুলোতে। 

এরশাদ মূলত দুই পুত্র সন্তানের জনক। তবে তাঁর দুটি দত্তক সন্তানও রয়েছে। এরশাদের দুই পুত্র হলেন- রাহগির আল মাহি এরশাদ ওরফে শাদ এরশাদ ও এরিক এরশাদ। আর আরমান এরশাদ ও জেবিন এরশাদের দত্তক নেয়া পালিত সন্তান। 

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি তাঁর লিখা ‘আমার কর্ম আমার জীবন’ শীর্ষক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে এই চার সন্তানের কথাই উল্লেখ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর এখন সন্তানেরাই তার উত্তরাধিকার।

এরশাদ প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক থাকার সময় ১৯৮৩ সালে প্রথম স্ত্রী রওশন এরশাদের কোলে আসে তাদের প্রথম সন্তান। তবে এ নিয়ে বিতর্কও ছিল। শেষ পর্যন্ত পুত্রের নাম রাখা হয় রাহগির আল মাহি এরশাদ (শাদ এরশাদ)। তরুণ বয়সেই নানা বিতর্কিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে গ্রেফতারও হয়েছিলেন শাদ এরশাদ। 

এর পর মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে এখন ঢাকাতেই থাকেন শাদ। পেশায় ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও শাদের ব্যবসা সংক্রান্ত কোনও তথ্য কখনও জানা যায়নি। গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ (ফুলবাড়ি-সদর-রাজারহাট) আসন থেকে শাদকে প্রার্থী করার গুঞ্জন উঠেছিল। ৩৬ বছর বয়সী শাদকে নিয়ে গত ২৮ জুন সিএমএইচে এরশাদের শয্যাপাশে গিয়েছিলেন রওশন এরশাদ।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে বিদিশা ইসলামকে বিয়ে করেন এরশাদ। ২০০১ সালে বিদিশা কোল আলো করে জন্ম নেয় এরশাদের দ্বিতীয় পুত্র। নাম রাখা হয় শাহতা জারাব (এরিক এরশাদ)। ২০০৫ সালে বিদিশার সঙ্গে ডিভোর্সের পর থেকে এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় বাবার সঙ্গেই থাকতেই ১৮ বছর বয়সী এরিক এরশাদ।  

২০০৫ সালে এরশাদ ও বিদিশার বিচ্ছেদ হয়। এর পর পুত্র এরিককে নিয়ে এরশাদ ও বিদিশার যুদ্ধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে এরিকের দায়িত্ব পান এরশাদ। 

ঘনিষ্ঠজনরা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এরিক ছিলেন এরশাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে খুব বেশি সময় দিতে না পারলেও এরিককে নিয়েই ছিল এরশাদের যত ভাবনা। 

একবার এক অনুষ্ঠানে পুত্র এরিক প্রসঙ্গে এরশাদ বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে আমি এরিককে খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। মাত্র ২ বছর বয়সে এরিক আমার জীবনে এসেছিল। শিশুকাল থেকেই সে ছিল স্নেহবঞ্চিত। পায়নি মাতৃস্নেহও। আমিও ওকে যথেষ্ট স্নেহ-ভালবাসা দিতে পারিনি, রাজনৈতিক ব্যস্ততায় ওকে বরাবরই পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করেছি।’

আরেকবার চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রায় একটি টকশোতে পুত্র এরিককে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন এরশাদ। ওই অনুষ্ঠানে দর্শকদের একটি গান গেয়ে শোনার এরিক। পুত্রের কণ্ঠে গান শুনে সেদিন খুশিতে চোখের জল ফেলেছিলেন এরশাদ। 

শাদ এরশাদ ও এরিক এরশাদ ছাড়াও এইচ এম এরশাদের আরও দুই সন্তান রয়েছে। তারা দুজনেই এরশাদের দত্তক নেয়া পালক সন্তান। এর মধ্যে পুত্র ২৫ বছর বয়সী আরমান এরশাদ বর্তমানে এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসাতেই থাকেন। আর একমাত্র পালিত কন্যা ৩৫ বছর বয়সী জেবিন এরইমধ্যে বিয়ে করে লন্ডনে স্থায়ী হয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। স্বৈরাচারবিরোধী তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা থেকে বিদায় নেন এরশাদ। এরপর গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ কারাবাসে ছিলেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে রংপুরের কোনও আসন থেকে কোনও দিন পরাজিত হননি পল্লীবন্ধু।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর