রংপুরে এরশাদের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর
১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৩:২১ আপডেট: ০৪:৩১

রংপুরে এরশাদের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল

রংপুর তথা গোটা উত্তরবঙ্গকে বলা হয় এরশাদের ঘাঁটি। দেশের রাজনীতি ও নির্বাচনী ইতিহাস তার জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করছে। উত্তরবঙ্গের মানুষ কোনও দিন তাদের প্রিয় নেতা এরশাদকে বিমুখ করেননি। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন ওইসব অঞ্চলের জনগণ। এরশাদও বরাবরই উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অপরিশোধ্য ঋণের কথা স্বীকার করতেন। তিনি যতবার রংপুর কিংবা উত্তরবঙ্গ সফরে যেতেন ততবার কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় স্নাত হতেন। এবার মৃত্যুর পর রংপুর তথা উত্তরবঙ্গের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন এরশাদ।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জানাজায় অংশ নিতে এবং তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে রংপুরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে লাখো মানুষের ঢল নামে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টায় মরদেহ আসার পর পরই পুলিশি বেষ্টনী ভেঙে মরদেহের কাছে ছুটতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

পরে দুপুর আড়াইটায় রংপুর জামে মসজিদের খতিব মাওনালা হাফেজ ইদ্রিস আলীর ইমামতিতে সর্ববৃহৎ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

সেখানে জানাজায় অংশ নেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, এরশাদ পুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগরের সভাপতি ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ,মহানগর সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী, এরশাদ ভক্ত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার লাখো মুসল্লি। 

এসময় মূল মাঠ পেরিয়ে পাশের ক্রিকেট গার্ডেন, রংপুর সরকারি কলেজ মাঠ, রংপুর স্টেডিয়াম, পুলিশ লাইন স্কুল মাঠ, পাসপোর্ট অফিস এলাকা, সুরভী উদ্যানসহ নগরীর প্রধান সড়কে মানুষ দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করেন।

এর আগে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, র‌্যাব-১৩ অধিনাযক, ডিসি, এসপি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, সিটি মেয়র, বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় দলীয় নেতাকর্মীরা এরশাদের মরদেহ রংপুরে দাফনের জন্য স্লোগান দিতে থাকেন।

জানাজার আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জন্য তাঁর বিপুল অবদান। ইসলামের জন্য তিনি অনেক কাজ করেছেন। মানুষ হিসেবে কথা ও কাজে ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আমি এরশাদের ভাই হিসেবে ক্ষমা চাই। দোয়া চাই। তাঁকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। তাঁকে যেন আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।’ 

জানাজা শেষে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ তার রংপুরের বাসভবন পল্লী নিবাসে নেয়া হয়।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর