আমি রিফাতকে হত্যা করিনি, বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছি: মিন্নি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১১:০০ আপডেট: ১২:২৯

আমি রিফাতকে হত্যা করিনি, বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছি: মিন্নি

বরগুনায় দিনদুপুরে প্রকাশে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দাবি করেছেন, তিনি তার স্বামীর খুনের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি স্বামীর খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। 

গতকাল বুধবার বিকেলে বরগুনার সিনিয়র মেজিস্ট্রেট আদালত পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে মিন্নিকে ৫ দিনের রিমান্ডে দেয়। 

যেহেতু আদালতে মিন্নির পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিল না তাই আদালত স্বতোঃপ্রণোদিত হয়ে তার কাছে জানতে চায় তার কিছু বলার আছে কিনা। তখন মিন্নি আদালতকে বলেন, ‘আমি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নই। আমি আমার স্বামীকে হত্যা করিনি। আমি সেদিন আমার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।’ 

এর পর বিচারক মিন্নিকে প্রশ্ন করেন, রিফাত হত্যার আগে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে আপনার অসংখ্য মেসেজ ও ফোনকল রয়েছে। 

এ ব্যাপারে মিন্নি আদালতকে বলেন, ‘ওরা (নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী) আমাকে হুমকি দিতো। ভয়ভীতি দেখাতো। তাই আমি ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’

এদিকে রিমান্ড আবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, রিফাত হত্যায় মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়ে তাদের হাতে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ আছে। মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামিও এরইমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছেন, মিন্নি এই হত্যা পরিকল্পনায় আগাগোড়া জড়িত ছিল। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রিফাত শরীফকে হত্যার আগের দিনও প্রধান আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির ফোনালাপ হয়েছে। 

এর আগে গত শনিবার হঠাৎ করেই রাত ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ মিন্নিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

দুলাল শরীফ বলেন, ‘রিফাতকে বিয়ে করার আগেই মিন্নি নয়ন বন্ডকে বিয়ে করেছিল। সে বিষয়টি গোপন রেখে আমার ছেলেকে বিয়ে করে। সে বিষয়টি আমাদের কাউকে জানায়নি। এমনকি তার পরিবারও না। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও মিন্নি নয়নের বাসায় যাওয়া-আসা করত। নিয়মিতভাবে নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করত সে। রিফাতকে হত্যার পেছনে মিন্নির হাত রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

দুলাল শরীফের এই সংবাদ সম্মেলনের পরই গত মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার নিজ বাসা থেকে মিন্নিকে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। 

ওই রাতেই বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন রিফাত হত্যায় মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করেন। 

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads