রিফাত হত্যায় মিন্নি জড়িত: বরগুনার এসপি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৫:৫৯ আপডেট: ০৯:১০

রিফাত হত্যায় মিন্নি জড়িত: বরগুনার এসপি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারের আগে টানা ১১ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে দাবি করেন বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এসব কথা জানান। 

এসপি মারুফ হোসেন বলেন, ‘যারা হত্যাকারী ছিল তাদের সঙ্গে মিন্নি শুরু থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় অংশ নেন। এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার আগে এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই তিনি করেছেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিংও করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘তবে পুরো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি সম্পৃক্ত বিষয়টা এমন না। রিফাতকে মারধর করার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতো মিন্নি। মোবাইল কল লিস্ট, মোবাইল রেকর্ড থেকে এই ধরনের তথ্য আমরা (পুলিশ) আগেই নিশ্চিত হতে পেরেছিলাম।’

বরগুনা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন বুধবার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার দুদিন আগে সোমবার হেলাল নামে এক ছেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় রিফাত শরীফ। হেলাল রিফাত শরীফের বন্ধু হলেও নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। সেই মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নয়ন বন্ড মিন্নির দ্বারস্থ হয়।

পরে রিফাত শরীফের কাছ থেকে ফোন উদ্ধার করেন মিন্নি। কিন্তু ওই ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মারধরের শিকার হন। পরে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবার নয়নের সঙ্গে দেখা করে মিন্নি সেই মোবাইল নয়নের হাতে তুলে দেন।

এ সময় মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হাতে যে মারধরের শিকার হয়েছেন তার প্রতিশোধ নিতে নয়নকে বলেন। তবে মারধরের সময় নয়ন যাতে উপস্থিত না থাকেন, সেটাও মিন্নি নয়নকে বলেন। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় বরগুনা কলেজ মাঠে মিটিং করে রিফাত শরীফকে মারধরের প্রস্তুতি নেয় বন্ড বাহিনী।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘মিন্নি আমাদের কাছে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেই আমরা বিষয়গুলো আদালতের কাছে তুলে ধরে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য রিমান্ড আবেদন করেছি এবং আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই মামলার বাদী যাদের হত্যাকারী দাবি করেছেন, আমরা কিন্তু রাতদিন জেগে থেকে তাদের অনেককে গ্রেফতার করেছি। বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’

রিফাতের বাবার সংবাদ সম্মেলনের পরেই মিন্নিকে গ্রেফতার করা হলো, এর সঙ্গে পুলিশের কোনও যোগসাজশ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মারুফ বলেন, ‘যোগসূত্র থাকা বা না থাকার বিষয়টি আসলে আইনের কাছে গুরুত্ব নেই। তদন্ত স্বচ্ছ এবং সাবলীল প্রক্রিয়া মাত্র। তদন্তের ক্ষেত্রে যে যে বিষয়গুলো সামনে আসে, আমরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে সেইসব বিষয় নিয়েই কাজ করেছি। শুধু আমি না, আপনারাও দেখেছেন ডিআইজি মহোদয়ও বেশ কিছু দিন এখানে অবস্থান করেছিলেন। প্রেস কনফারেন্স ও মানববন্ধন যা আমাদের তদন্তের সঙ্গে সংঘর্ষিক সে বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে আমরা আমাদের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ওপর কোনও রাজনৈতিক চাপ নেই বা অন্য কোনও মহলেরও চাপ নেই।’

এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার নিজ বাসা থেকে মিন্নিকে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়। প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। ওই রাতেই এসপি মো. মারুফ হোসেন রিফাত হত্যায় মিন্নির জড়িত থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করেন। 

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর