ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ২৫৩ প্রাণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০২:২৩ আপডেট: ০৪:৩২

ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ২৫৩ প্রাণ

এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় মোট ২৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

রবিবার (১৮ আগস্ট) ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৯ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। রাজধানীর ডিআরইউ সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার সড়ক, রেল ও নৌ পথে সম্মিলিতভাবে ২৪৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় ২৫৩ জন নিহত ও ৯০৮ জন আহত হয়েছেন।

ঈদুল আজহায় ঈদ যাত্রা শুরুর দিন ৬ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ১২ দিনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। 

মোট ২৫৩টি দুর্ঘটনার মধ্যে ২০৩টি দুর্ঘটনাই ঘটেছে সড়ক পথে। এতে নিহত হয়েছেন ২২৪ জন নিহত, ৮৬৬ জন আহত হন বলে তথ্য প্রকাশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। নৌপথে বেশকিছু নতুন লঞ্চ যুক্ত হয়েছে, রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন রেল বগি সংযুক্ত হলেও এবারের ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি, রেলপথের সিডিউল বিপর্যয় ও টিকেট কালোবাজারী এবং ফেরি পারাপারে ভোগান্তিসহ নানা কারণে যাত্রীরা হয়রানি হয়েছে। যদি ঈদুল ফিতরের মতো এবারও ঈদের লম্বা ছুটিতে সাধারণ যাত্রীকে আগেভাগে বাড়ি পাঠানোর সুযোগ কাজে লাগানো গেলে, ঈদ যাত্রা আরও স্বস্থিদায়ক করা যেতে। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বিশ্বাসযোগ্য ৪১ টি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং ১১টি অনলাইন দৈনিক থেকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে। সেই হিসাবে তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, বিরামহীনভাবে যানবাহন চালানো, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা এবং ঈদ ফেরত যাতায়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা এইসব সড়ক দুর্ঘটনা জন্য দায়ী।

বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনা রোধে ১২টি সুপারিশমালা তুলে ধরেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এগুলো হচ্ছে— চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ইস্যু পদ্ধতি আধুনিকায়ন, যানবাহনের ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন, রাস্তায় ফুটপাত ওভারপাস আন্ডারপাস নির্মাণ ও জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন করা, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, চালক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা, মহাসড়কে ধীরগতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা, মোটরসাইকেলের ঈদযাত্রা নিষিদ্ধ করা, ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধের আদেশ শতভাগ কার্যকর করা, সড়ক নিরাপত্তায় ইতিমধ্যে যেসব সুপারিশ প্রণীত হয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়ন করা, ঈদের আগের মতো ঈদের পরেও মহাসড়ককে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখা, চালক শ্রমিকদের যুগোপযোগী বেতন-বোনাস ও কর্মঘন্টা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা এবং যানবাহনের যাত্রার আগে ত্রুটি পরীক্ষা করা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন এবং বিআরটিএ'র সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচএস/এসএসআর