রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু যেকোনও দিন: পররাষ্ট্র সচিব

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৪:১২ আপডেট: ০৫:৫২

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু যেকোনও দিন: পররাষ্ট্র সচিব

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণসহ নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যেকোনও সময় শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনও দিন রোহিঙ্গাদের নিজদেশে পাঠানো শুরু হতে পারে। এটা চলমান প্রক্রিয়া, সরকারের পক্ষ থেকে কাজ চলমান আছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এর অগ্রগতি হবে।’

রবিবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বিস মিলনায়তনে গ্রিন অ্যান্ড রেড রিসার্চ আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের উপায় শীর্ষক সেমিনারে একথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে- এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, বিশ্ব কমিউনিটির সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি যে কোনো দিন থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্দার অন্তরালে অনেক কিছু হচ্ছে, চেষ্টা হচ্ছে। তবে সব চেষ্টা সফল হবে এমন নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহ আমরা রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করবো, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে যায়। এটা শুধু বাংলাদেশের না, এটা রোহিঙ্গাদেরও প্রধান উদ্দেশ্য। যদি তারা ফিরে না যায়, তবে শুধু জমির অধিকার নয় তারা তাদের সব অধিকার হারাবে।’  

পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, ‘প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের কাছে সবসময় একটি অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। অনেকে রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশ বনাম মিয়ানমারের সমস্যা বলে বর্ণনা করে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। এটি প্রকৃতপক্ষে মিয়ানমার এবং তাদের লোকদের মধ্যে সমস্যা।’  

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের রিফিউজি হিসেবে আশ্রয় দেইনি, মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশ জনবহুল হওয়ায় এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্থানীয়ভাবে পুনর্বাসন সম্ভব না। আমরা মনে করেছিলাম প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রগুলো এ সংকটে এগিয়ে আসবে, কিন্তু তা হয়নি। একটি দেশে গণহত্যা হচ্ছে অথচ বিশ্ব নীরব, তাদের নিজদেশে ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই। কোথায় বিশ্ব, কোথায় বিশ্ব আইন-মানবাধিকার।

বিসের গভর্নিং বডির সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট তৈরি করেছে মিয়ানমার। তাদের এর সমাধান দিতে হবে। আমরা আশা করছি অন্তত ছোট আকারে হলেও রোহিঙ্গাদের নিজদেশে ফেরাটা শুরু হোক, পরে না হলে ডিমান্ড নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে তাদের নিজদেশে ফেরাটা যেন সম্মানের হয়, নিরাপত্তার হয় সেটাও দেখতে হবে।

গ্রিন অ্যান্ড রেড রিসার্চের পরিচালক শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর পরিচালনায় আয়োজিত সেমিনারে বিভিন্ন এনজিও এবং দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ