সেই ডিসি ও নারী উধাও

জামালপুর প্রতিনিধি
২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৭:৪৯

সেই ডিসি ও নারী উধাও

যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনায় গভীর রাতে জামালপুর ছেড়েছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের (বর্তমানে ওএসডি)। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন সেটা জানা যায়নি। অন্যদিকে সেই নারী অফিস সহকারীও উধাও। 

রবিবার (২৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার পর আহমেদ কবীরকে ওএসডি করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই সঙ্গে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জামালপুরে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মোহাম্মদ এনামুল হক।

আদেশ আসার আগেই জনরোষ আতঙ্কে রাতের আঁধারে জামালপুর ছেড়েছেন তিনি। শনিবার গভীর রাত ৩টায় তিনি জামালপুর ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। তবে কোথায় আছেন প্রশাসন থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছেন, তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

আপত্তিকর ভিডিও’র সেই আলোচিত নারী ডিসির কার্যালয়ের অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনাও উধাও। তিনিও রবিবার সকাল থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। শুক্র ও শনিবার দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটির পর আজ অফিস খুললেও ওই অফিস সহকারী কর্মস্থলে যোগদান করেননি। তার মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজীব কুমার সরকার বলেন, ‘তিনি (নারী অফিস সহকারী) আমাদের কাছ থেকে ছুটি নেননি। পূর্বানুমতি ছাড়াই অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন।’

সাধনার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি। সাধনা এখন কোথায়, সঠিক হদিস বলতে পারছে না কেউ।

সাধনার পরিবারের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তার মা নাসিমা আক্তার বলেন, মেয়ে বেড়াতে গেছে। কোথায় বেড়াতে গেছে এ বিষয়ে মুখ খুলেননি তিনি। তার হদিস না থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সাধনা নিজ থেকে আত্মগোপন করেছে নাকি আহমেদ কবীর তাকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন।

এদিকে আহমেদ কবীরের (বর্তমানে ওএসডি) উদাহরণ সৃষ্টির মতো শাস্তি হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘জামারপুরের ডিসি অনৈতিক কাজ করেছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অধিকতর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যে নারীর নাম এসেছে তাকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে। অবশ্যই উদাহরণ সৃষ্টি করার মতো পানিশমেন্ট তার (আহমেদ কবীর) হবে। আমাদের চাকরির বিধানে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়ে গেছে। সেটিই হবে। আমরা খুব দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারব।’

সম্প্রতি জামালপুরের ডিসির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে তার নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে বেশ অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিও দুটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ