ক্যাসিনোতে অভিযানে নামছে পুলিশ, মালিকদের আর রেহাই নেই: ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০২:২২ আপডেট: ০৪:১২

ক্যাসিনোতে অভিযানে নামছে পুলিশ, মালিকদের আর রেহাই নেই: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাজধানীতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা জুয়ার আড্ডা বা ক্যাসিনোর তালিকা করা হচ্ছে। র‌্যাব কয়েকটিতে অভিযান চালিয়েছে। পুলিশও অভিযান শুরু করবে। ক্যাসিনো মালিকরা যত প্রভাবশালীই হোক, তাদের আর রেহাই নেই। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর হবে। রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনো কিছুতেই চলতে দেয়া হবে না।’

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ক্যাসিনোতে যারা জুয়া খেলতে আসে তারাই মাদক সেবন করছে। ক্যাসিনো যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সেখানে মাদক সেবনও বন্ধ হবে। ক্যাসিনো বন্ধ করেও যদি কেউ মাদকের কারবার চালানোর চেষ্টা করে তবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কমিশনার বলেন, ‘আমি নতুন যোগদানের পর কারা এই জুয়া ও ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা করে জানাতে বলেছি। তারা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে একটি জোনের তালিকা আমি পেয়েছি। অন্য জোনের তালিকাও করা হচ্ছে। র‌্যাব যেমন অভিযান শুরু করেছে তেমনি পুলিশের ভূমিকাও একই রকম।’ 

তিনি বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলছি, রাজধানীর কোথাও জুয়ার বোর্ড কিংবা ক্যাসিনো চলতে দেয়া হবে না। র‌্যাবের অভিযানে মাদকের উপস্থিতি দেখা গেছে। মাদক সেবনরত অবস্থাতেও অনেককে দেখা গেছে।’

গতকাল সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‍্যাব। এরমধ্যে মতিঝিলের ইয়াংমেন্স ক্লাব থেকে ২৪ লাখ ২৯ হাজার নগদ টাকাসহ ১৪২ জনকে আটক করা হয়। মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডার্স ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ১০ লাখ ২৭ হাজার টাকা, ২০ হাজার ৫০০ জাল টাকাসহ ক্যাসিনোটি গুড়িয়ে দেয়া হয়।
গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৬০০ টাকাসহ ক্যাসিনো পরিচালনা ও খেলার অভিযোগে মোট ৪০ জনকে আটক করা হয় এবং বনানীর আহম্মেদ টাওয়ারে অবস্থিত গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ নামক ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‍্যাব। কাউকে না পেয়ে ক্যাসিনোটি সিলগালা করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ডিজে পার্টি ও সেসব জায়গায় মাদক সেবনের পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের আনাগোনাই দেখা যাচ্ছে এমন প্রশ্নে কমিশনার বলেন, ‘বিনোদনের নামে যদি অশালীন ও অবৈধ কিছু চলে, মাদক সেবন হয় তাহলে সেখানেও একই রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নজরদারিতে থাকবে। নির্মল বিনোদন হলে পুলিশ সব সময় সহযোগিতা করবে।’

যুবলীগ নেতার ক্যাসিনো সম্পর্কে পুলিশ কিছু জানতো কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমরা কঠোর। সেটি যে পর্যায়েই হোক না কেন। জোনাল ডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছি এ ধরনের ঘটনা মোটেও সহ্য করবো না। এরপরেও যদি কেউ জুয়ার বোর্ড কিংবা ক্যাসিনো পরিচালনা করেন, জড়িত বলে জানতে পারি তাহলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/টিটি/এমআর

bnbd-ads