সাবেক সিবিএ নেতার বাসা থেকে সরকারি জিপ উদ্ধার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ আপডেট: ০৯:৪৮

সাবেক সিবিএ নেতার বাসা থেকে সরকারি জিপ উদ্ধার

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর দখল থেকে সরকারি পাজেরো গাড়ি উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যুগ্ম সচিব মর্যাদার কর্মকর্তাদের সরকারি পাজেরো গাড়ি ব্যবহারের এখতিয়ার থাকলেও ১০ বছর ধরে এমন একটি জিপ ব্যবহার করছিলেন (পিডিবি) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী, সাবেক সিবিএ নেতা মো. আলাউদ্দিন মিয়া।  দুই আগে অবসরে যাওয়া সাবেক সিবিএ নেতা শুধু সরকারি গাড়িই নয়, তার এ গাড়িটি সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের বেতনসহ সব খরচ দিয়েছে পিডিবি।  

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে অভিযান চালিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করেছে দুদক।

অভিযান শেষে দুপুরে দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়ক ও দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

তিনি জানান, সম্প্রতি দুদকের হটলাইনে ওই অভিযোগটি করা হয়। পরে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার গাড়িটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় দুদক পুলিশ ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

অভিযানে গাড়িটি জব্দ করা হলেও এর ব্যবহারকারী পিডিবি সিবিএ'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়নি। 

দুদক মহাপরিচালক জানান, মো. আলাউদ্দিন মিয়া স্টেনো টাইপিস্ট হিসেবে পিডিবিতে কর্মরত ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-২৮২৭ নম্বরের গাড়িটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করে আসছিলেন। এর মধ্যে বছর দুই আগে তিনি অবসরে যান।  সোমবার মতিঝিল থেকে গাড়িটি আটকের সময় চালক মো. আবুল হোসেন জনি ও নিরাপত্তা কর্মী মো. সামছু মিয়া উপস্থিত ছিলেন।   

জানা গেছে, প্রতিমাসে গাড়িটির জন্য ডিজেল বরাদ্দ হয় ৪৫০ লিটার, যার আর্থিক মূল্য ২৯ হাজার ২৫০ টাকা। এ হারে আলাউদ্দিন গত ১০ বছরে গাড়িটির জন্য পিডিবি থেকে ডিজেল খরচ তুলেছেন ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, এ পর্যন্ত গাড়ির চালককে ৩৭ লাখ টাকার বেশি  বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিমাসে গাড়িটির পেছনে ১০ লিটার মবিল এবং সঙ্গে মেরামত ব্যয়েও অর্থ খরচ হয়েছে। গাড়িটির লগ বইয়ে আলাউদ্দিন মিয়া সই করতেন না। সই করতেন পিডিবির একজন কর্মচারী। 

অভিযান প্রসঙ্গে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সমন্বয়ক ও দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়েও ২০০৯ সাল থেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গাড়িটি ব্যবহার করেছেন আলাউদ্দিন। গাড়িটির পেছনে গত ৯ বছরে জ্বালানি তেল, মেরামত এবং চালকের বেতন বাবদ সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শিগগির এ ঘটনা অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্রেকিংনিউজ/জেআই