মৃত্যুর পর আরও এক বছর বেঁচে থাকে মানুষ!

রকমারি ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১২:০৯ আপডেট: ০৩:২০

মৃত্যুর পর আরও এক বছর বেঁচে থাকে মানুষ!

“জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে/ চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?” জন্মের পর মৃত্যুর অনিবার্যতা উপলব্ধি করেই মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কবিতায় এই পঙতিগুলো লিখেছিলেন। 

কিন্তু আমাদের মনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়- মৃত্যুর আমরা কোথায় যাবো? স্বর্গ কিংবা নরক, বেহেশত কিংবা দোজখ- এইসব স্থানে মানুষ কোন পথে যায়? সেই পথে কিভাবে যাওয়া যাওয়া হয়? বেহেশত দেখতে কেমন? দোজখে কি শুধুই আগুন? প্রতিটি মানুষের মনে এ ধরনের কৌতুহূল থাকে।  

আধুনিক বিজ্ঞানও এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। মানুষের মৃত্যুর পরের জীবন নিয়েও চলছে বিস্তর গবেষণা। 

তবে সম্প্রতি মৃত মানুষদের নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে অদ্ভূত এক তথ্য দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানী অ্যালিস উইলসন। 

তিনি জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর এক বছরের বেশি সময় ধরে সচল থাকে মানবদেহ। প্রায় ১৭ মাস ধরে একটি মরদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টাইমসের এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার হেমিস্ফেয়ার শহরের দক্ষিণের দিকে মরদেহের একটি ফার্ম রয়েছে। যেখানে রাখা আছে ৭০টি মরদেহ। সেখানেই একটি মরদেহ নিয়ে ১৭ মাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান অ্যালিসন।

সহকর্মীদের নিয়ে করা এই গবেষণায় অ্যালিসন প্রমাণ করতে চান- মানুষের মৃত্যুর প্রকৃত সময় বের করা হয় টাইম ল্যাপস ক্যামেরা ব্যবহার করে। একইসঙ্গে মৃত্যুর পর একটি মরদেহে কী ধরনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয় তা নিয়েও ধারণা দেন গবেষকরা। 

এই অজি বিজ্ঞানীর মতে, মানুষের মরদেহ পচনের ওপর নির্ভর করে মৃত্যুর পর মানবদেহের কার্যকারিতা। মরদেহ মমি বা অন্য কোনোভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হলে সেখানে অঙ্গের সক্রিয়তা ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করেন অ্যালিসন।

ভবিষ্যতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা, গোয়েন্দাদের অপরাধ অনুসন্ধান ও  প্যাথোলজিস্টদের জন্য বিশেষ সহায়ক হতে পারে এই গবেষণা।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর