যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা

ফারুক আহমাদ আরিফ
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০৫:৪৯

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা

জেনারেল ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানের পোড়ামাটি নীতির ফলে ভাঙ্গা ঘর-বাড়ী, পোড়া বেঞ্চ, বিধ্বস্ত রাস্তা-ঘাট, ধ্বংসপ্রাপ্ত হাট, বাজার, শহর-বন্দর-গঞ্জ, মা-বাবা হারানো সন্তান, সন্তান হারানো বাবা-মা, নিহত শিক্ষককূল, বই-পুস্তকহীন গুদাম, অচল প্রেস, শূন্য অর্থনীতিসহ সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। একটি ভাষণে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন পাকিস্তানীরা আমাদের ব্যাংকে এক টুকরা স্বর্ণ ও একটি কানাপাই রেখে যায়নি। সেই ধ্বংসের মাঝে দাড়িয়ে নতুন করে দেশকে গড়তে উঠেপড়ে লাগলেন তিনি। নিলেন নিত্য-নতুন উদ্যোগ। করতে লাগলেন বাস্তবায়ন।

তেমনি একটি কার্যক্রম ছিল শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায়। প্রথমেই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম হবে মাতৃভাষা বাংলা। কেননা কোন জাতি মাতৃভাষাকে এড়িয়ে শিখরে উঠতে পারে না। ১৯৭৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনসহ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে শিক্ষা ও কর্মকে এক কাতারে নামিয়ে আনেন। তা ছাড়া বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত আন্দোলনের সেই স্রোতে তিনিও ছিলেন।

স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাংকের একটি হিসেবে দেখা গেছে, তৎকালীন সময়ে ৬ হাজার উচ্চবিদ্যালয়ের জন্য ৩ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পুনর্গঠন মূল্যেরভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পরিবহনখাতে ৩৮ দশমিক ২, স্বাস্থ্য ২ দশমিক ১ এবং শিক্ষাখাতে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ শিক্ষাখাতে দশ লাখ টাকা হিসেবে ১৫০.০০ টাকা ক্ষতি হয়। শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতির হাত থেকে উদ্ধার করতে ৮ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় (কোটি টাকার হিসেবে)। যার পুরোটায় দেশিয় অর্থে।  ১৯৭২-৭৩ বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ছিল ৫১ কোটি টাকা (১০ লাখ টাকার হিসেবে) অর্থাৎ শতকরা ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
  
১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'আমার ছাত্র ভায়েরা, যারা মুক্তিসংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, তারা যেন আমাদের বিপ্লবের লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্যে তাদের কাজ করে যেতে থাকে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বিপ্লব সাধনের উদ্দেশ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশসহ আমি একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চলেছি।' অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই ড. কুদরাত-এ- খুদা শিক্ষা কমিশন বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনায় গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালের ২৪ মে কমিশন প্রতিবেদন দিলে ৩০ মে সেটি চূড়ান্ত  করা হয়। এখানকার সুপারিশগুলোই তার চিন্তা-ভাবনা ও কার্যক্রমের ভিত্তিমূল। 

উচ্চশিক্ষা: আধুনিক সমাজের অগ্রগতিতে উচ্চশিক্ষা প্রকৃতি ও মানের উপর নির্ভরশীল। উচ্চশিক্ষার ভূমিকা হচ্ছে ক. বিভিন্ন উচ্চতর কাজের জন্য সুনিপূণ, খ. জ্ঞানদক্ষ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি তৈরি, কর্মানুরাগ, জ্ঞানস্পৃহা, চিন্তার স্বাধীনতা, ন্যায়বোধ তৈরি করে এমন শিক্ষিত ব্যক্তি তৈরি করবে। জাতির ভাগ্য ও জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে উচ্চশিক্ষা ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। সেক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় অর্থনীতির পরিকল্পনার সাথে সমন্বিত হতে হবে। তিনি বলতেন 'আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা (ইংরেজ-পাকিস্তান) এ যাবত শুধু আমলাই সৃষ্টি করেছে, মানুষ সৃষ্টি করেনি।' তিনি সেই মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে শিক্ষাব্যবস্থা সাজানোর নির্দেশ দেন। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা দুটি দিক নিয়েই সম্প্রসারিত হয়।সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত রেখে তিনি ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীরা মেধা, যোগ্যতা, উৎপাদন কাজে অংশগ্রহণ এবং ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবে। সাথে সাথে উচ্চতর বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তিন মাস স্বাক্ষর অভিযান, ডিপলোমাধারীদের জন্য তিন মাস নিরক্ষরতা দূরীকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ডিগ্রি কলেজগুলোতেও গবেষণার পরিবেশ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরী কমিশন: সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান, উচ্চ স্তরের শিখন-শেখানো পদ্ধতির মানোন্নয়নের লক্ষ্যে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা প্রদান, সর্বোচ্চ উদ্ভাবনী গবেষণা ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সুশাসন সংক্রান্ত বিষয়সমূহের উন্নয়ন ঘটানো, উচ্চশিক্ষার নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে মান নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী সরকারকে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মুঞ্জরী কমিশন প্রতিষ্ঠা করেন। যা ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১০ এর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার  সর্বোচ্চ স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিধিবদ্ধ হয়। ইউজিসির কার্যক্রম ছিল তৎকালীন ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৬২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে হস্তক্ষেপের জন্য আইয়ুব খানের কালাকানুন রহিত করে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্তচিন্তা ও স্বায়ত্বশাসন দিয়ে ১৯৭৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ঘোষণা করেন। সেখানে বলা হয় The university must honor the principle of collegiate equality in its own academic structures.

বাংলা একাডেমি: ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলা একাডেমিকে ১৯৭২ সালের ১৭ মে দায়িত্ব দেন বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষার পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন-প্রকাশ, গবেষণা, বিজ্ঞান, কারিগরি, প্রকৌশল ও বৃত্তিমূলক বইয়ের বাংলা অনুবাদ এবং মৌলিক পুস্তক রচনার দায়িত্ব প্রদান করেন। 

বাংলা ভাষায় শিক্ষা: পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষা ব্যতীত অন্যকোন ভাষা নেই। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত বাংলার সাথে দ্বিতীয় ভাষা হবে ইংরেজি এবং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পর্যায়ে স্ব স্ব প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন ভাষা শেখার ব্যবস্থা থাকবে।

সবার জন্য শিক্ষা: ১৯৯০ সালে থাইল্যান্ডের জমতিয়েনে জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০০০ সালের মধ্যে 'সবার জন্য শিক্ষা' স্লোগানে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করলেও ১৯৭৪ সালেই বঙ্গবন্ধু এই উদ্যোগ নেন এবং সকলের বেতন ফ্রি করে দেন।

বিজ্ঞান শিক্ষা: বিজ্ঞান শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজের সামগ্রিক উন্নতি ত্বরান্বিত করা। বিজ্ঞানের শিক্ষা এমনখাতে প্রবাহিত হবে যাতে শিক্ষার্থীর মনে মানুষের কল্যাণের দিকটি প্রধান্য পায়। প্রাথমিক থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত বিজ্ঞানশিক্ষায় এই নীতি অনুসৃত হবে। কীট-পতঙ্গ, জীবজন্তু, মাটি, পাথর, নদীনালা, জলবায়ু, কৃষিবিদ্যালয়, জীববিদ্যা, রসায়ন, পদার্থ, প্রাণিবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, খাদ্যবিজ্ঞান, ফামাকলোজি ইত্যাদি পাঠ্যভুক্তকরণ এবং সেই অনুযায়ী ল্যাবতৈরিতে গুরুত্বারুপ তার চিন্তার ফসল। তা ছাড়া বিজ্ঞান শিক্ষা প্রসারে ১৯৭৪ সালের ১৪ জুন চট্টগ্রামের বেতবুনিয়াতে প্রথম ভূ-উপগ্রহ যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন করেন।  

বৃত্তিমূলক শিক্ষা: "শেখ ও উপার্জন কর" স্লোগানে ড. খুদা কমিশন দশম শ্রেণির পর বৃত্তিমূলক শিক্ষাকার্যক্রম চালু করার সুপারিশ করে। যাতে বিশাল একটি অংশ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা শেষ করেই বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে। সে জন্য মাধ্যমিক স্কুল, বৃত্তিমূলক স্কুল, কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ১. কাঠের কাজ, ২. ধাতু, ৩. বিজলী, ৪. যন্ত্র, ফাউন্ড্রি, ৫. মোটরগাড়ী ও রেডিও মেরামত, ৬.গৃহনির্মাণ, ড্রাফটস ম্যানশিপ, ৭. মিরিন ডিজেল ইঞ্জিন, ৮. বয়ন, সীবন, মুদ্রণ ও মৃৎশিল্পসহ বিভিন্ন বৃত্তিমূলক শিক্ষা দিতে হবে। কৃষি: ১৯৩৯ সালে মাও সেতুং'র নেতৃত্বে চীনে প্রজাতন্ত্রের পত্তন হলে ১৯৬৬ সালে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়ে সবাইকে গ্রামে গিয়ে কৃষিন্নয়নে কাজ যুক্ত করা হয় যা চলে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ না করে গ্রামের মানুষদের তথা কৃষির উন্নয়নে তিনি গ্রাম উন্নয়নমূলক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও ভৌত অবকাঠামোর দিকে নজর দেন। প্রথম পঞ্চমবার্ষিকীর  পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য অংশকৃষিকে ঘিরেই তৈরি করা হয়১. কৃষিবিদ্যা, শস্য ও মৎস উৎপাদন ও সংরক্ষণ, ২.হাস, মুরগি ও পশুপালন, ৩. খাদ্য সংরক্ষণ ও পুষ্টিবিজ্ঞান, ৫. কৃষি যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদিতে গুরুত্বারুপ করেন। 

নারী শিক্ষা: নারীদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নারী সংগঠন মহিলা সংস্থার ভিত্তি রচনা করেন। শিশু ও কিশোরীদেরকে আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও নৈতিকতার শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পূর্ব পাকিস্তান গার্লস গাইড এসোসিয়েশনকে ঢেলে সাজান। প্রথম পঞ্চবার্ষিক (১৯৭৩-৭৮) পরিকল্পনায় স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহিত হয়। নারী উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর সরকার এই খাতে অর্থ বরাদ্দ করে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষত: শহীদের স্ত্রী ও কন্যাদের জন্য চাকুরী ও ভাতার ব্যবস্থা করে।

ললিতকলা: ললিতকলা শিক্ষা একটি জাতিকে অধিকতর সাংস্কৃতিবানের পাশাপাশি মানুষের ভিতরের সৌন্দর্যবোধকে জাগ্রত করে উন্নত চিন্তার ধারক করে। ১. চিত্রাঙ্কন, ২. কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীত, ৩. নৃত্য, অভিনয়, আবৃত্তি, এবং ভাষ্কার্যসহ ললিতকলার বিষয়ে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সবস্তরে এটি রাখার ব্যবস্থা করেন।

চিকিৎসা শিক্ষা: ১৯৭২ সালের আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ছিল। পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ড. গাস্টের তত্ত্বাবধানে পঙ্গু হাসপাতাল এবং ডা. নুরুল ইসলামের অনুরোধে চিকিৎসায় উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য ইস্টিটিউট অব পোস্ট-গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ (Ipgmr) প্রতিষ্ঠা করেন। যা এখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়ে থাকে। ডা. ইব্রাহিমের অনুরোধে বারডেমকে জমি বরাদ্দ দেন। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চের রেডিও টেলিভিশনের ভাষণে বলেন, সেইসব পাটচাষিদের উপার্জন ইতিমধ্যে ৫ শতাধিক ডাক্তারকে তিনি গ্রামে প্রেরণ করেছি। বাকশাল গঠনসংক্রান্ত এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, 'কার টাকায় ডাক্তার সাব, উকিল সাব, মন্ত্রীসব?' এসবই জনগণের টাকায় অতএব জনগণের জন্যই চিকিৎসকরা কাজ করবে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ যেহেতু গ্রামে বাস করে সেদিকে লক্ষ্য রেখে গণমুখি স্বাস্থ্যশিক্ষায় গুরুত্বারুপ করে তিনি চিকিৎসাশিক্ষাকে বাস্তবভিত্তিতে সাজাতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং আদর্শ ও বুদ্ধিমান স্বাস্থ্যকর্মী তৈরিতে ব্যবস্থা নিতে বলেন। তারা যাতে দেশের বিশেষ বিশেষ রোগসমূহ ও সমাজের স্বাস্থ্য সমস্যাদি সম্পর্কে অবহিত হয়ে পেশায় আর্তসেবা ও সমাজকল্যাণের দিকে গুরুত্বারুপ করে। শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ্যপুস্তকের উপর নির্ভশীল না হয়ে প্রকৃত স্বাস্থ্যসমস্যা সমাধানে মনযোগ দিবে। এমবিবিএম কোর্স ৫ বছর সময় নির্ধারণ করা হয়। এতে দুই বছর প্রি-ক্লিনিকেল এবং ৩ বছর ক্লিনিকেল। পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি, ইউনানী এবং আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসাকেও গুরুত্ব দেন।  

তিনি ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাখাতে বার্ষিক উন্নয়নে ৪৯টি প্রকল্পে ১২ কোটি ৫০ লাখ এবং ১৯৭৩-৭৪ অর্থবছরে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং প্রথম পঞ্চমবার্ষিকী পরিকল্পনায় ২৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে রেসকোর্স ময়দানে ভাষণে বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, নেতা হিসেবে নয়, আপনাদের ভাই হিসেবে বলছি- যদি দেশবাসী খাবার না পায়, যুবকেরা কাজ না পায়, তাহলে আমাদের স্বাধীনতা বিফল হয়ে যাবে-পূর্ণ হবে না।  

লেখক: আহ্বায়ক- মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটস ও মুখপাত্র (প্রধান সমন্বয়ক) নো ভ্যাট অন এডুকেশন।
m.w.educationrights@gmail.com 


ব্রেকিংনিউজ/এমজি