সংবাদ শিরোনামঃ
bnbd-ads
bnbd-ads

ডাকসু নিয়ে ছাত্রলীগের ভাবনা ও প্রতিজ্ঞা

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন
৪ মার্চ ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৮:১৪ আপডেট: ০৯:৫০

ডাকসু নিয়ে ছাত্রলীগের ভাবনা ও প্রতিজ্ঞা

বাঙালি জাতিসত্তার চূড়ান্ত বিকাশ ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলন-সংগ্রামে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বাঙালি জাতির পিতা ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের মুক্ত ও স্বাধীন বাংলা বিনির্মাণে এই দুই সংগঠনের নেতারা কখনও সহযোদ্ধা হয়ে, কখনও কাণ্ডারি হয়ে, কখনও বা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ভিজিয়েছে এই পবিত্র বাংলার মাটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত করার জন্য ডাকসু পর্যবেক্ষণকারী, মূল্যায়নকারী এবং প্রয়োজনে উপদেশ প্রদানকারী ফোরাম হিসেবে কাজ করবে। কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে আরও বিকশিত ও বিশ্বমানের করতে সদা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা এবং সাধারণ ছাত্রদের উৎসাহিত করবে। পাঠ্যক্রমকে বিশ্বমানের, প্রকৃত ইতিহাসভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক করতে ফোরামটি কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নামক শব্দকে বিতাড়িত করতে যা যা করার সবই করবে ডাকসু। 

উচ্চশিক্ষার নির্যাস হলো গবেষণা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ ও অগ্রগতি বিশ্বমানের ন্যূনতম পর্যায়েও নেই। ডাকসু গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গবেষণা ইউনিট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টিতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে। শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতম প্রার্থীর নির্বাচন তদারকি করবে। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর গড়ে ওঠা উপনিবেশবাদী প্রভু-ভৃত্য সম্পর্কের শিকলে বাঁধা শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের অচলায়তনে আঘাত হানবে এই ছাত্র প্রতিনিধি দল। বিভাগীয় ছাত্র উপদেষ্টার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দূরত্ব কমানোর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমস্যা হলো আবাসন সংকট। হল সংসদগুলোকে কার্যকর করে কীভাবে সংশ্নিষ্ট হলগুলোর আবাসন সংকট মোকাবিলা করা যায়, তার একটা কৌশল বের করে তা বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সব শিক্ষার্থীসহ কাজ করবে এই ছাত্র সংসদ। প্রথম বর্ষ থেকেই যেন সব শিক্ষার্থী বৈধ আবাসিক ছাত্র হিসেবে সিট পায় সে লক্ষ্যে কাজ করবে। হলগুলো থেকে অবৈধ আবাসন উচ্ছেদে কঠোর হস্তে কাজ করবে। আরও নতুন নতুন হলসহ আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রেক্ষিত ও প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখবে ডাকসু।

আবাসন সংকট সমাধানের পাশাপাশি মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর খাবার এবং কার্যকর চিকিৎসাসেবা শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত করা না গেলে সুস্থ দেহ ও মানসের শিক্ষিত বাঙালি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া। তাই হলগুলোতে খাবারের গুণগত ও স্বাস্থ্যমান সরেজমিন দেখবে এ সংসদ। ক্যান্টিন ও ডাইনিংগুলোতে খাবার পরিবেশনে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। খাদ্যে ভেজাল পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি যেন সব শিক্ষার্থীর সহজ প্রাপ্য হয় সে জন্য হলগুলোর প্রতিটি ফ্লোরে পানি বিশুদ্ধকারক ফিল্টারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে ফোরামটি। খাদ্য নিয়ে আমাদের মাঝে অসন্তোষ, অভাব-অভিযোগ থাকলেও কার্যকর চিকিৎসাসেবার বিষয়টি প্রায়ই আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। 

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থাকলেও তা আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদানে খুব একটা কার্যকর নয়। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির অভাব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপ্রতুলতা, কিছু রুটিনমাফিক ওষুধ ছাড়া অন্যান্য ওষুধের অভাব, জরুরি চিকিৎসাসেবার নিম্নমান, মেডিকেল সেন্টারে সিটের অপ্রতুলতা প্রভৃতি বিষয়ে সমাধানের জন্য পরিকল্পনামাফিক উদ্যোগ নেবে এ প্রতিষ্ঠান।

বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করবে ডাকসু। সে লক্ষ্যে প্রতিটি হল, বিভাগ ও বিল্ডিংয়ে ফ্রি ওয়াইফাই ও ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করবে প্ল্যাটফর্মটি। ক্রমবর্ধমান বেকারত্বকে দমন করার ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স, ই-বিজনেসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে এই ফোরাম। সে ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য দৌহিত্র ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিভিন্ন উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া উদ্যোগগুলোর সঙ্গে একীভূত করতে কাজ করবে ডাকসু। 
সংস্কৃতি ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের এই বাহক। অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেকেই বিভিন্ন ইভেন্টে জাতীয় দলে খেললেও বর্তমানে সে ধারা আর অব্যাহত নেই। তাই খেলাধুলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ খেলোয়াড়দের বিশেষ সুবিধা ও নজর দেবে ফোরামটি। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিটি ইভেন্টেই মেধাবী ও পরিশ্রমী কর্মীদের বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের উন্মোচনে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে ডাকসু। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের রুট বাড়ানোসহ ফিটনেসবিহীন বাস শনাক্ত করে তা বাতিলের ব্যবস্থা করবে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থার জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেবে ডাকসু।

যাহোক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, অসাম্প্র্রদায়িক চেতনা, মূল্যবোধ, সাধারণের অধিকার ও মুক্তির জন্য লড়াই, ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষিত সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন, মানবপ্রেম ও নেতৃত্বগুণই হবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ডাকসুর একসূত্রে গাঁথার প্রেরণা- এটাই আমাদের প্রত্যাশা, এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটাই আমাদের দর্শন।

লেখক- ভিপি প্রার্থী ও সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ।  

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/জেআই

bnbd-ads
bnbd-ads