bnbd-ads
bnbd-ads

জনকল্যাণকামী বাজেট পেশ করতে সরকার ব্যর্থ: জামায়াত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ জুন ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৮:১৮

জনকল্যাণকামী বাজেট পেশ করতে সরকার ব্যর্থ: জামায়াত

বর্তমান জাতীয় সংসদ জনগণের নির্বাচিত নয় এবং এ সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্বও করে না উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ বলেছেন, ‘এ অনির্বাচিত সংসদের কোন মূল্য জনগণের কাছে নেই। অনির্বাচিত সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না বলেই তারা জনকল্যাণকামী বাজেট পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই দেশের রাজনৈতিক দল, জোট, সুশীল সমাজ ও অর্থনীতিবিদগণের বাজেট পর্যালোচনা আমলে নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধন করে জনকল্যাণমুখী করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

শুক্রবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে জামায়াত আমীর এসব কথা বলেন।

মকবুল আহমাদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল অনির্বাচিত জাতীয় সংসদে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মোটা অংকের যে উচ্চাকাংখী অবাস্তব বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন তা সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেই দেশের অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন। বছর শেষে গিয়ে অন্যান্য বছরের মত এবারের বাজেটও সংশোধন ও কাট-ছাট করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

বিবৃতিতে মকবুল আহমাদ বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে এডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।  রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, দেশীয় উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধ করতে লাগবে ৫৭ হাজার ৭০ কোটি টাকা এবং পূর্বের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে লাগবে ১১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের গোটা অর্থের এক তৃতীয়াংশই ঋণ নির্ভর।’ 

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত হলো সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সরকারি দলের লোকদের ব্যাপক লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ। দেশের ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মক্ষম বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের কোন সুনির্দ্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে দেশে স্মাতক ডিগ্রীধারী ৪৭ শতাংশ যুবক-যুবতি এবং ৩১ শতাংশ নারী ডাক্তার ও প্রকৌশলী বেকার। বিশ্বের সবচাইতে অধিক বেকার জনসংখ্যা অধ্যুসিত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। দেশে ২ কেটির অধিক কর্মক্ষম বেকার রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় ৩০ সালের মধ্যে দেশে ৩ কোটি বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার যে হাস্যকর বক্তব্য দিয়েছেন তা বেকার লোকদের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

মকবুল আহমাদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৪ কোটি লোক দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করছে। অতি দরিদ্র সীমার মধ্যে আছে ২ কোটি মানুষ। দেশের ২ কোটি ৫০ লক্ষ লোক পুষ্ঠিহীনতায় ভুগছে। অথচ বাজেটে দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র লোকদের জন্য কোন সুখবর নেই। তাদের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর এবং ৪ স্তরের ভ্যাটের বোঝা আরো বাড়বে। ধনীদের সারচার্জে বড় ধরনের ছাড় দিয়ে তাদের তুষ্ট করা হয়েছে। ধনীদের সম্পদ কর বা সারচার্জের সীমা ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটে আয়কর মুক্ত আয়ের সীমা বিগত তিন বছরের মতই ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। অথচ বাস্তবতার নীরিখে তা হওয়া উচিত ছিল কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা।’

মকবুল আহমাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১২ জুন জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘ঘুষ, খাব না, কাউকে ঘুষ খেতেও দিব না’। অথচ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সবাইকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুষ দিয়ে এবং নির্বাচনের পরে সরকারী অর্থে তাদের জন্য ভুরি-ভোজের ব্যবস্থা করে তাদের সন্তুুষ্ট করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন কথাই নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর মুখে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফাঁকা ভুলি মানায় না।’ 

ব্রেকিংনিউজ/ এসএ 

bnbd-ads
MA-in-English
bnbd-ads