বাজেট নিয়ে বিএনপি’র পুরো প্রতিক্রিয়া

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ জুন ২০১৯, শুক্রবার
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ আপডেট: ০৯:৪২

বাজেট নিয়ে বিএনপি’র পুরো প্রতিক্রিয়া

২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।  অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই দাবি করে সরকারের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি বলেছে, ‘সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’

শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রতিক্রিয়া জানায় দলটি। ব্রেকিংনিউজের পাঠকদের জন্য পুরো প্রতিক্রিয়া হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম।


অর্থমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লক্ষ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছেন। বাজেটের আকার বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন যেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু বাজেট বৃদ্ধির এ প্রগলভতা বছর শেষে চুপসে যেতে দেখা যায়।বাজেটের আকার কত বড়এ নিয়েআর জনমনে কোন উচ্ছাস নেই। কেননা প্রত্যেক বছর বছরের শেষ দিকে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ যেভাবে কাট-ছাঁট করা হয় তাতে বিরাটাকার বাজেটের অন্তসার শূন্যতাই প্রকাশ পায়। চলতি বছর বাজেটের আকার ৪ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে বাজেটের আকার বেড়েছে ১৩ শতাংশ। বর্তমান বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। সে হিসাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত করের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআর বহির্ভূত করের পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি আর কর ছাড়া প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এছাড়া বৈদেশিক উৎস থেকে ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার১৬ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যার সিংহভাগই ধরা হয়েছে এনবিআর থেকে। অথচ চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় বেশ ঘাটতি রয়েছে। তার উপর এবার আরও বড় আকারের আদায়ের পরিকল্পনা। এটা রাতারাতি সম্ভব না। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে তাতে ঘাটতি বরং আরও বাড়বে। 

ঘোষিত বাজেটের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে “সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ- সময় এখন আমাদের সময় এখন বাংলাদেশের”। বর্তমান অর্থমন্ত্রী পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দেওয়ালে লেখা দেখা গেছে “সময় এখন আমাদের : সময় এখন বাংলাদেশের”।আবার বছর খানেক আগে টিভির পর্দায় একটি পণ্যের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট হিসেবেও শোনা গেছে “সময় এখন আমাদের”। আসলে সময় এখন তাহাদের এবং একমাত্র তাহাদেরই। সেটা বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না। বাজেটের শিরোনাম থেকেই উন্নয়নের 'গীত' প্রকৃষ্ট হয়েউঠেছে। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের 'গীত' আর মানুষ শুনতে চায়না। কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তা সাধারণের এমনিতেই নাভিশ্বাস উঠেছে। আয়-বৈষম্য, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের কারণে সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি জনগণ এখন আর উন্নয়নের মিষ্টি কথায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না। 

আগামী অর্থ বছরের বাজেটে বিপুল অংকের ব্যয়ের আকাক্সক্ষা থাকলেও সরকারের আয়ের সামর্থ্য কমে গেছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণে ব্যর্থতা  ও নাজুক আর্থিক খাত। চলতি অর্থ বছরে এনবিআরকে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ২লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩ মাসে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য কিভাবে পূরণ হয় কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে যা নেতিবাচক বলেই মনে হয়। তা ছাড়া মোট রাজস্বের মধ্যে বড় অংশ হচ্ছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। আগামী ১ জুলাই থেকে ভ্যাট ও সম্পূরক আইন ২০১২ কার্যকর করা হবে। নতুন আইনে ভ্যাটের স্তর থাকবে ৫টি। এই স্তর ভিত্তিক ভ্যাট হার অনেক অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্যবসায়ীরা রেয়াত নিতে না পারলে এটি আবগারি শুল্কের মতো হয়ে যেতে পারে। রেয়াতের টাকা কি ভাবে দেয়া হবে সেই বিষয়ে পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন আইনে ব্যবসায়ীরা রেয়াত চাইতে শুরু করলে সরকারকে নিজের পকেটের টাকা দিতে হবে। এ জন্য বছরে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে যেতে পারে। এ ভাবে নতুন আইনটি কার্যকর হতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। সরকারের পক্ষে যদি ভ্যাটের রেয়াতের টাকা ফেরত দেয়া সম্ভব না হয় তবে ভ্যাট কার্যত আবগারি শুল্কে পরিণত হবে। এতে করের ওপর আবার কর আরোপ হবে। এর ফলে জিনিসপত্রের দাম সাড়ে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে যার চাপ পড়বে সম্পূর্ণ ভোক্তার ওপর। ভ্যাট মূলত ভোক্তা পরিশোধ করে, যা বিভিন্ন স্তরে মূল্য সংযোজন এর প্রেক্ষিতে রেয়াতের মাধ্যমে সমন্বিত ((adjustment) হয়ে ভ্যাট প্রদানকারীকে ফেরত দেয়ার কথা। কিন্তু এই রেওয়াত দেয়ার কোন সংস্কৃতি এ দেশে গড়ে উঠেনি। ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি আর হয়রানির শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের। 

এই বাজেটে পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। তার মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। আয় ব্যয়ের বিশাল পার্থক্যের কারণে এবার বাজেট ঘাটতিও অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। ২০১৯ -২০ অর্থবছরে অনুদান ছাড়া বাজেট ঘাটতি দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা যা মোট জিডিপির ৫ শতাংশ। এদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা অর্থাৎ ঘোষিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ বাড়লো ২০ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এই ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা। ঘোষিত অর্থ বছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে নেয়া হবে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণ  খাতের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে নেয়ার পরিকল্পনা কর হচ্ছে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ রয়েছে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। ঘোষিত অর্থবছরে জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। 

বাজেটে ব্যয় বেড়েই চলছে। ব্যয় দুই প্রকার রাজস্ব ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাবদ ব্যয়। ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী মোট ব্যয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বিগত ১০ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাবদ ব্যয় মোট বরাদ্দের ৫৫ শতাংশের কোঠায় থাকলেও মে ও জুন মাসে ব্যয়ের তথাকথিত উল্লম্ফন ঘটবে। রাজস্ব ব্যয় মোটামুটি ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী হবে। অর্থাৎ ঘাটতি মোকাবিলায় ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে সুদ-আসল পরিশোধ করতেই বিশাল ব্যয় হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে রাজস্ব ব্যয়ের ১৮ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের গুণগত সার্বিক রূপান্তরে অত্যাধিক প্রয়োজনীয় মানব পুঁজি বা দক্ষ শ্রমশক্তি বিনির্মাণে, তথা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। উপরন্তু ঋণের পরিমাণ সুদসহ জমতে জমতে পাহাড়সম হলে পরিশোধের কোনো দিকনির্দেশনা এই বাজেটে নেই। বলা বাহুল্য, এর দায়ভার কিন্তু চাপবে ভবিষ্যত প্রজন্মেও ওপর।

বাজেট ঘাটতি মেনে নেওয়া যায়, যদি তা অর্থনীতিতে গুণক প্রভাব তৈরি করে। ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ সরকারি চাকরিতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি, গণহারে পদোন্নতির মাধ্যমে বেতনকাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি। এ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য রাজস্ব ব্যয়ের ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা কোন অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত বলা যাবে না।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দকৃত ব্যয় কতটা গুণসম্পন্ন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বারবার সংশোধনের ফলে ঋণের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অস্বাভাবিক খরচও চোখে পড়ার মতো। পদ্মা সেতু প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়তে বাড়তে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চার লেন সড়ক তৈরিতে যেখানে ভারতে ১১ থেকে ১৩ লাখ ও চীনে ১৩ থেকে ১৬ লাখ মার্কিন ডলার খরচ হয়, সেখানে বাংলাদেশে ৫০ লাখের বেশি। সম্প্রতি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে বালিশ দুর্নীতির যে খবর জনসম্মুখে এসেছে তাকে হিমবাহের চূড়া বলা যেতে পারে। বিভিন্ন প্রকল্পে কোন পর্যায়ের দুর্নীতি হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। এ ছাড়া অর্থবছর শেষে জোড়াতালি দিয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯০-৯২ শতাংশ দেখানো হয়, যা প্রথম ১০ মাসের হিসাবের সঙ্গে কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।

বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮.২০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ অর্জিত হবে বলে আশা করা হয়েছে। যদিও বছরের শুরুতে চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৭.১ শতাংশ। যা প্রশ্নবিদ্ধ।জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতির ইনডেক্সগুলোর কোন সামঞ্জস্য নেই। ৮.১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলে রপ্তানি বানিজ্য, শিল্প প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বেকারত্ব যে হারে হ্রাস পাওয়ার কথা বাস্তব চিত্র তার চেয়ে ভিন্ন। মানুষের প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো হাউস হোল্ড সার্ভে রিপোর্ট থেকে দেখা যায় যে, জনগণের মাথাপিছু কিলোক্যালরি কনজামশন অনেক কমে গেছে। বেকারত্ব সংকট চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারের হার প্রকট আকার ধারণ করেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ কেন সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে সলিল সমাধি হচ্ছে। দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অবস্থান ইতোমধ্যে নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে। লেনদেনের ভারসাম্য নিদারুণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। শিক্ষা খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। সংখ্যায় বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মানে ধ্বস নেমেছে। শিক্ষা খাতে ব্যয় মোট জিডিপি’র ৩.২ শতাংশেরও কম। স্বাস্থ্য খাতে ১ শতাংশেরও কম। মানবসম্পদ আশানুরূপভাবে উন্নত হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে করের টাকা দিয়ে ক্ষতির রাষ্ট্রীয়করণ করা হচ্ছে। 

বাজেট শুধু আয় ব্যয়ের হিসেব নয়। আয়ের পুনর্বণ্টনও। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির পাশাপাশি আয়-বৈষম্য বৃদ্ধি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরের দিকের পাঁচ ও নিচের পাঁচের মধ্যে ২০১০ সালে পার্থক্য ছিল ৩২ গুণ যা ২০১৬ সালে হয়েছে ১২১ গুণ। প্রকৃত অর্থে মানুষের জীবন মানের অনেক অবনতি হয়েছে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের বিকল্প নেই। সরকার প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ কর আদায় করছে বেশি। আর পরোক্ষ করের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে বেশি। এদিকে সাধারণ মানুষের অর্থে যে বাজেট তৈরি হয় তার ব্যয় থেকে ধনীদের ভর্তুকি দেয়া হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে রাষ্ট্রীয় অর্থে তাদের বেইল আউট করা হচ্ছে। অপরদিকে প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ লাখ লোককে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার আওতায় এনে যে সাহায্য দেয়া হয় সেটা সমুদ্রের এক বিন্দু শিশিরের মতো। সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপি’র ৩ শতাংশের কথা বলা হলেও পেনশন বাদ দিলে তা ১.৭ শতাংশ মাত্র। 

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
একটি বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বছরের পর বছর বলা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে বছরে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয় তা আমাদের বৈদেশিক আয় ও বিনিয়োগের চেয়েও বেশি। দেশ থেকে বছরে ৮-১০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি বলছে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে পড়েছে  প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। কানাডায় কারা কোন মার্কেটের মালিক, নিউ ইয়র্কে এবং লন্ডনে কাদের কি আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৌজন্যে সকলেরই জানা। 

একদিকে বিশাল অংকের বাজেট অন্যদিকে টাকা শূন্য ভল্ট, একদিকে ব্যয়ের ব্যাপক আয়োজন অন্যদিকে টাকার জন্য ব্যাপক হাহাকার- এরকম এক বিপরীত অবস্থার মধ্যে দাবি করা হচ্ছে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। অথচ প্রাণ নেই ব্যাংক খাতে। বিনিয়োগের জন্য নেয়া শিল্প ঋণ যেখানে পুরোটাই ব্যাংক খাত নির্ভর সেখানেই চলছে তীব্র অর্থ-সংকট। সবার মনেই প্রশ্ন তা হলে ব্যাংকের এত টাকা গেল কোথায়? ঋণের টাকা ফেরত আসছে না ব্যাংক খাতে। খেলাপি ঋণ কেবল বাড়ছেই। ইতোমধ্যে এই প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১১ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা যা ২০১৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো বর্তমানে স্বল্প মেয়াদী আমানতের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়ার ফলে এসব স্বল্প মেয়াদী আমানতকারীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে যা আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। বেশি সুদ ও কর ছাড়ের কারণে সবাই সঞ্চয়পত্রে ঝুঁকছে। আবার আমদানি যে হারে বাড়ছে সে হারে রপ্তানি বাড়েনি। এই কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্যের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ব্যাংক খাতের তীব্র এই সংকটের সময়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। 

ব্যাংকিং তথা আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বায়ত্ত্বশাসিত একটি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও ইতোপূর্বে গভর্নরকে হোটেলে ডেকে ব্যাংকারদের সঙ্গে বসে সিআরআর হ্রাস করার মতো মন্দ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। ঋণ খেলাপিদের সুবিধা দিতে দফায় দফায় নীতিমালা পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ৫০০ কোটি টাকার ওপরে দায়গ্রস্ত ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। এই আওতায় ১১টি শিল্প গ্রুপের ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত করার বিশেষ সুবিধা দেয়া হলেও দুটি গ্রুপ ছাড়া আর কেউ কোন টাকা পরিশোধ করেনি। 

দেখা যাচ্ছে, দেশের সাধারণ করদাতারাই ঋণ শোধ ও উন্নয়নের মূল উৎস হিসেবে কাজ করছেন। বারবার বলা হলেও আয়কর এখনো কর আদায়ের প্রধান উৎস নয়। মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমেই ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে। এই আয়-নিরপেক্ষ পরোক্ষ করের বোঝা পুরোটাই সাধারণ জনগণের কাঁধে চেপে বসে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর করের ভার বর্তাচ্ছে। বিপরীত দিকে উচ্চবিত্তদের কর পরিহার ও ফাঁকি দেওয়াটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে! এর পরেও এবারের বাজেটে দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

বাজেটে মৌলিক সমস্যা সমাধানের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে না। জিডিপিতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ২৩ শতাংশে ঘুরপাক খাচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর জন্য চাকরির বাজার অপর্যাপ্ত। আবার চাকরির বাজারের সঙ্গে শিক্ষার মান সমানতালে বেড়ে উঠছে না। বিদেশ থেকে দক্ষতার ঘাটতি পূরণে জনবল আমদানি করতে হচ্ছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারত প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেছে। বর্তমানে ৪ কোটি ৮২ লাখের মতো তরুণ বেকার। ৪৭ শতাংশ স্নাতক বেকার। 

অসমতা বাড়ছে হু হু করে। ২০১৬ সালে বৈষম্য পরিমাপকারী গিনি সূচক শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালে শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ ছিল। ২০১৬ সালে সবচেয়ে দরিদ্র ১০ শতাংশ মানুষের আয়ের অংশীদারিত্ব ২০১০ সালের তুলনায় কমে ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হয়েছে। ২০১০ সালে ২ শতাংশ ছিল। বাজার অর্থনীতির নামে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রাজনীতি অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বিশাল অংকের পুঁজি পুঞ্জিভূত করে সমাজে প্রকট আয় বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে। 

২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রতিবছর দেশে দারিদ্র্য কমার হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়কালে এ হার কমে ১ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। দারিদ্র্য কমার হার কমছে, দরিদ্র আরও দরিদ্র্র হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৪৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলমান থাকলেও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত লোকের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এ খাতে আর্থিক বরাদ্দ নেপাল ও ভুটান থেকেও কম।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
উৎপাদনশীল খাতের পরিমাণ বাড়ছে না ও বহুমুখীকরণ হচ্ছে না। এক খাতকেন্দ্রিক নির্ভরতা অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তৈরি পোশাকশিল্পের বাইরে নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য উৎপাদনশীল খাত তৈরি হচ্ছে না। গত ছয় বছরে শিল্পকারখানার সংখ্যাও বাড়েনি, কমেছে ৬০৮টি। ২০১২ সালে বড় শিল্পকারখানা ছিল ৩ হাজার ৬৩৯টি, ২০১৯ সালে সংখ্যা কমে ৩ হাজার ৩১টি হয়েছে। মাঝারি শিল্পকারখানা ৬ হাজার ১০৩টি থেকে কমে ৩ হাজার ১৪টি হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার সংখ্যাও কমেছে। 

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ ধান উৎপাদন হলেও হতাশ কৃষক ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ না বাড়া, ফি বছর বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণেও উন্নয়ন কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ যেখানে একটি অনির্বাচিত সরকার বাজেট দিচ্ছে, জবরদস্তি করে দেশ পরিচালনা করছে। সরকার যেহেতু অনির্বাচিত, তাই এ সরকারের জনগণের কাছে কোন জবাবদিহিতা নেই। আর সে কারণেই কল্যাণ রাষ্ট্রের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকার বাজেট প্রণয়নে নীতি গর্হিতভাবে অরাজকতার আশ্রয় নিয়েছে। 

আমাদের সময়ে প্রতিষ্ঠিত সামস্টিক অর্থনীতির Fundamental বৈশিস্ট্যগুলো অনেক আগেই এরা ধ্বংস করে দিয়েছে। সাংবিধানিক, রাষ্ট্রীয় ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। সুশাসন বলে এখন আর কিছু নাই। গোষ্ঠী স্বার্থে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করা হয়েছে। আয় ও সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে। বিদ্যমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বেড়েই চলেছে। উপকৃত হচ্ছে সরকারদলীয় কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। নব্য ধনিক শ্রেণীর সৃষ্টি হয়েছে। ধনীক সৃষ্টিতে বাংলাদেশ বিশ্বমানচিত্রে ১ নম্বরে রয়েছে। আর এ সকল ধনিক শ্রেণীর সকলেই সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট শ্রেণী। সংসদেও গরীব সাধারণের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। ধনিক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থই রক্ষিত হচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরকে মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে। আয় বৈষম্যের চেয়ে সম্পদ বৈষম্য আরও প্রকট হয়েছে। এটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। 

সম্প্রতি ঋণ হিসাবের সময়সীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাঁচ বছরের স্থলে তিন বছরের মাথায় ব্যালেন্স শিট থেকে ঋণ অবলোপন করা হবে। এ এক অদ্ভুত ব্যাপার। এর মানে হলো একাউন্টিং  ট্রিটমেন্ট দিয়ে দ্রুত ঋণ সাফ করে দেয়া যাবে। balance sheet আরও আকর্ষণীয় হবে। এটা জনগণকে গুঁজামিল দেয়া যা মোটেও কাম্য নয়। আসলে বিরাটাকার খেলাপি ঋণ জনগণের দৃষ্টির আড়াল করার জন্য এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

বাজেটে সোনার দাম কমানো হয়েছে যা ব্যবহার করে সমাজের সুবিধাভোগী শ্রেণি। অথচ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ সেই মোবাইল, সিম ও সার্ভিসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। 

বাজেটে অর্থমন্ত্রী সিগারেটের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু সিগারেটের উপর শুল্ক না বাড়ায় সিগারেট কোম্পানির ৩১% আয় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে! অথচ সারা বিশ্বে সিগারেট নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এ এক শুভংকরের ফাঁকি।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
বাজেটের পরিকল্পনা, বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও সমস্যা নির্ধারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হচ্ছে। অনুৎপাদনশীল খাতে খরচ অত্যাধিক। প্রতিবছরই বাজেটে বিপুল পরিমাণ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ঘাটতি মেটাতে ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। বাজেট বাস্তবায়নের হারেও দেখা যায় নিম্নমুখিতা। বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। কোথাও  যেন আস্থার অভাব আছে। প্রকৃতপক্ষে সরকারের ওপর কেউ আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ সরকারই যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এবং এর ফলে  জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতাও নেই।

অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র অনির্বাচিত সরকার রয়েছে বাংলাদেশে। এই সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়। দেশের অর্থনীতি কিছু সংখ্যক মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। তারা বাজেট প্রণয়ন করছে। তারা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। আবার তারাই সরকার পরিচালনা করছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ঋণনির্ভর বাজেট দিতে হচ্ছে। দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকল্প ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। করের মাধ্যমে, ভ্যাটের মাধ্যমে বা অন্যান্য মাধ্যমে এই টাকা সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নেবে। অনির্বাচিত সরকার একটি অনির্বাচিত সংসদে এই বাজেট দিয়েছে। গণতন্ত্র না থাকায় সুশাসন নেই দেশে। সু-শাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে। সরকার দেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতির বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছে। এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে। রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বেকার বাংলাদেশে। প্রবৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, তার সত্যতা নিয়ে মারাত্বক প্রশ্ন আছে। দেশের অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা একটি শ্রেনীর কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। অনির্বাচিত সরকারের নৈতিক অধিকার নেই বাজেট দেয়ার। সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।

আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/ এএইচএ/ এসএ