খালেদার মুক্তি: ৩ বিভাগে মহাসমাবেশের ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১২:৫১ আপডেট: ০৩:০২

খালেদার মুক্তি: ৩ বিভাগে মহাসমাবেশের ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির

দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে দেশের তিন বিভাগে মহাসমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে বিএনপিতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘সরকারের বিকট অমানবিকতা, নির্দয়-নিষ্ঠুরতার কোপানলে পড়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে, তিনি গুরুতর অসুস্থ। তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আগামী ১৮ জুলাই বরিশাল, ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলা-উপজেলায় প্রস্তুতি সভা হচ্ছে। এই শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশগুলোতে যোগ দিতে মানুষের আগ্রহের কোনও কমতি নেই। মহাসমাবেশ ঘিরে সাধারণ জনগণের অভাবনীয় সাড়া দেখে সরকারের চিত্তচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মিডনাইট সরকারের মিডনাইট তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ গতকাল বলেছেন, ‘বিএনপি’র বিভাগীয় সমাবেশের নামে অতীতের মতো কোনও বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুর সহ্য করা হবে না। জনগণ ও রাষ্ট্রের যে কোনও ক্ষতিসাধনের বিরূদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ আমি তার (ড. হাছান) উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আপনি যে বিশৃঙ্খলার কথা বলছেন, সেটিই তো উস্কানিমূলক, একটা অশুভ উদ্দেশ্য নিয়েই এ ধরণের বক্তব্য রাখছেন।’

তথ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশ না থাকলে তো কোনও সমাবেশই হবে না, নিজেদের আয়োজনে নিজেরাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবো এই কথা কি কেউ বিশ্বাস করবে? এসব কথা বলে পরিবেশ তিক্ত করছেন তথ্যমন্ত্রী নিজেই। পুলিশি ও মাস্তানদের তাণ্ডবের মাধ্যমে বিরোধী দলের সভা পণ্ড করার ইতিহাস ঐতিহ্য আপনাদেরই। বিশৃংখলা সৃষ্টি করেন আপনারা। আমাদের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল, আছে এবং থাকবে। কোনও উস্কানিমূলক কথা বলে আমাদের নিবৃত্ত করতে পারবেন না। দম বন্ধ করা বাকশালী শাসনের বহমান অন্ধকার সময়ের অবসান ঘটিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা জনগণকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেই ইনশাআল্লাহ।’

রিজভী বলেন, ‘দেশে আইন শৃঙ্খলার কি ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। গতকাল কুমিল্লা আদালতে বিচারকের খাস কামরায় কি ভয়াবহ নজিরবিহীন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের সামনে একজন আসামি আরেকজন আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এই হত্যার শিকার আমিও হতাম কিংবা এটির শিকার আমার কোনও সহযোগী বা কোনও আইনজীবীও হতে পারতেন। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমাদের আসলে কোনও নিরাপত্তাই নেই’।’

রিজভী আরও বলেন, ‘সন্ত্রাস উইপোকার মতো রাষ্ট্র-সমাজকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলছে। দেশে কতটা ভয়ংকর পরিস্থিতি হলে একজন বিচারক এজলাসে তার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্কবোধ করছেন। আর সন্ত্রাসের নিরবচ্ছিন্নতা ও প্রসারে দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশজুড়ে কেবল গুম, খুন, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, নারী-শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন, প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে লোমহর্ষক কায়দায় হত্যাসহ দেশ ভরে উঠেছে অনাচার অবিচারের মহামারিতে। আর অবৈধ সরকার ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রশাসন, বিচার ও আইনি ব্যবস্থায় গণবিরোধী প্রতারণামূলক নীতি কার্যকর আছে বলেই এই সকল সরকারি যন্ত্র ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করে আসছে। তাই এই যন্ত্রই ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ভোট বাক্স ভর্তিতে সহযোগিতা করে এবং জনগণকে ভোট কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় ঢুকতে না দিয়ে অবৈধভাবে গদি দখলে সরকারকে সহযোগিতা করে কৃপাধন্য হয়েছে। ফলে তারা আর সরকারের আদেশ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না। তারাও এই অবৈধ সরকারকে রক্ষার ব্রত নিয়ে ভোট বঞ্চিত জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করছে। এই রাষ্ট্র কার্যত: অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকারই নেই। তাই আমি এই ব্যর্থ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো- ক্ষমতা জোর করে বেশি দিন ধরে রাখা যায় না, জোর-জবরদস্তির পরিণতি বড় করুণ এবং ভয়ংকর। অতএব ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ূয়া, কবির মুরাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/এমআর