বাদশার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান ফারুক চৌধুরী

স্টাফ কসেরপন্ডেন্ট
২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০১:৩৯ আপডেট: ০৩:৪৭

বাদশার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান ফারুক চৌধুরী

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বক্তব্যের জের ধরে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন রাজশাহীতে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের দুই দলের দুই সাংসদ। এরা হলেন, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবং রাজশাহী-২ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী।

একটি পত্রিকায় ওয়ার্কার্স পার্টির এমপি ফজলে হোসেন বাদশা আওয়ামী লীগের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে ফ্রিডম পার্টি ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা উল্লেখ করেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশাকে। গত বুধবার ওমর ফারুক চৌধুরীর পক্ষে উকিল নোটিশটি পাঠান রাজশাহী জজকোর্টের আইনজীবী এজাজুল হক মানু।

জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘খুনি ফারুক-রশিদের শিষ্যরা এখন কেউ এমপি, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ মানবাধিকারকর্মী, কেউ অন্য দলের নেতা’। এতে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার বক্তব্যে বলা হয়, ‘তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ফারুক চৌধুরীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ওই সময় ফারুক চৌধুরী প্রথমে ফ্রিডম পার্টি, পরে ছাত্রদল করে রাকসু নির্বাচনে অংশ নেন। ফ্রিডম পার্টির মিছিলে সামনের সারিতে থাকতেন ফারুক চৌধুরী। ওই সময় ফ্রিডম পার্টির মিছিলে কয়েকবার লাঠি নিয়ে ধাওয়া করেছিলেন ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি ফারুক চৌধুরীকেও ধাওয়া করেছেন।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) এ বিষয়ে ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘আমার ফ্রিডম পার্টি বা ছাত্রদল করার তথ্য সত্য নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবা আজিজুল হক চৌধুরী ও চাচা মকবুল হক চৌধুরীকে তুলে বাবলা বনে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। আমার মামা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমার মামাকে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করা হয়। আমরা বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। মূলত আমি ব্যবসায়ী ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় ২০০০ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে একবার প্রতিমন্ত্রী এবং তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হই।

তিনি বলেন, আমার কারণে আগামীতে মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগোতে পারছেন না বাদশা। তাই তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে আমাকে ছোট করছেন। তাই আপাতত আইনি নোটিশ দিলাম। তিনি সাত দিনের মধ্যে আমাকে বা আমার আইনজীবীকে লিখিত জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে এবং ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করব। বিষয়টি তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সংসদেও জানাবেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ফারুক চৌধুরী ফ্রিডম পার্টি করতেন, এটা সবাই জানেন। মামলা করলে হাজার হাজার সাক্ষী দেওয়া যাবে। বিএনপি নেতা কবির হোসেনের গু-া বাহিনীতে ছিলেন ফারুক। তা ছাড়া আমি সংসদ সদস্য। আমাকে আইনি নোটিশ দিতে পারবেন না তিনি। দিলেও আমি রিসিভ করব না। আর মামলা করলে আমি গোয়েন্দা বিভাগকে চিঠি দেব ফারুক চৌধুরীর পরিবারের কে কোন রাজনীতি করতেন, তা তদন্ত করে বের করার জন্য।

এদিকে এ বিষয় নিয়ে কয়েকদিন থেকেই রাজশাহীর রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা গুঞ্জন। ১৪ দলের ভিতরে এই কাদা ছুড়াছুড়িতে অস্বস্তি বোধ করছেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলছেন এদেশের এখনো বৃহৎ দল বিএনপি। বর্তমানে বিএনপি কোনঠাসা। তাই নিজেদের বিরুদ্ধেই চলছে আক্রমণ। 

ব্রেকিংনিউজ/এমজি