চাঁদা দাবির অভিযোগ ‘স্বীকার করে’ যা বললেন রাব্বানী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:৪৩ আপডেট: ০১:১৪

চাঁদা দাবির অভিযোগ ‘স্বীকার করে’ যা বললেন রাব্বানী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ৪ থেকে ৬ শতাংশ চাঁদা দাবি করেছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। পুরো প্রকল্প তহবিলের ৬ শতাংশ মানে প্রায় ৮৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

এই চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন শোভন-রাব্বানী। এরপরই চাঁদা দাবির বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে বারবারই তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন কিংবা এগিয়ে যান। 

শেষ পর্যন্ত গতকাল দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি ইংরেজি দৈনিকের কাছে জাবির উন্নয়ন প্রকল্পে চাঁদা দাবির বিষয়টি স্বীকার করেন ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। 

জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম গতকাল রবিবার গণমাধ্যমকে জানান, ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ক্যাম্পাস উন্নয়ন প্রকল্পের ‘৪ থেকে ৬ শতাংশ’ চাঁদা দাবি করেছিলেন শোভন-রাব্বানী।

রাব্বানীও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা উপাচার্যের কাছে ‘ন্যায্য পাওনা’ দাবি করেছিলাম। উপাচার্যের কাছে ‘ঈদের খরচ’ হিসেবে ওই টাকা দাবি করেছিলাম।’  তবে কত শতাংশ কিংবা কত টাকা দাবি করেছিলেন সেই সংখ্যাটি জানাননি রাব্বানী। 

রাব্বানীর উল্টো অভিযোগ, জাবির উন্নয়নকাজে বাধা না দেয়ার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দেন উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যরা। যদিও উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ও জাবি ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা রাব্বানীর এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। জুয়েলের অভিযোগ- গত ৮ আগস্ট জাবি শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের না জানিয়েই উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন রাব্বানী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেগা প্রকল্পে ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতি নিয়ে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন জাবির শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

এরইমধ্যে গতকাল জাবি উপাচার্য ফারজানা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা গত ৮ আগস্ট তার বাসভবনে এসে ৪ থেকে ৬ শতাংশ চাঁদা দাবি করে যান। 

উপাচার্য ফারজানা বলেন, ‘ওই সময় তারা নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা তুলে দিতে আমাকে চাপ দেয়। আমি তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তারা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করে।’

গত ৮ আগস্ট রাব্বানীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘এক পর্যায়ে রাব্বানী বলে যে, এখনকার দিনে ১-২ শতাংশের আলাপ কোথাও নেই। ৪-৬ শতাংশ ছাড়া কি হয়?...এটি একটি বড় প্রকল্প। আপনি আমাদের সহায়তা করলে, আমরাও আপনাকে সহযোগিতা করবো। আমি তাদের চাপে নতি স্বীকার না করলে তারা চেঁচিয়ে উঠে ও চলে যায়।’

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৬ মে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন শোভন ও রাব্বানী। এসময় তারা  নিজের পছন্দ মতো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে উপাচার্যকে চাপ দেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

bnbd-ads