সবকিছু প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে: রিজভী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১২:৫২ আপডেট: ০২:১৯

সবকিছু প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে: রিজভী

‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে, এতে প্রধানমন্ত্রীর কোনো হাত নেই’— তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যর জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এটা সবাই জানে যে প্রধানমন্ত্রীই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি চাইলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।’

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। 

রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাকে না দেয়া হচ্ছে মুক্তি, না সুচিকিৎসা। ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ নেয়ারও কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। আইনত: জামিনযোগ্য মামলাতেও জামিন দেয়া হচ্ছে না। শুধু নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই শেখ হাসিনা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে বাইরে থাকতে দেননি। কারণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্নে আপোষহীন থাকতেন। ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে তাঁর প্রবল অবস্থান থাকতো। তাই এখন অসুস্থতা-যন্ত্রণা ও মানসিক নির্যাতনের এক বিষাদঘন পরিবেশে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে দেশনেত্রীকে। এই মূহূর্তে দেশনেত্রীকে সুচিকিৎসা দিতে হবে এবং নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।’

‘বিএনপি কিয়ামত পর্যন্ত নালিশ করতেই থাকবে’— ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘বিএনপির নালিশ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের নালিশ। অনাচার, বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র কায়েম, ন্যায় বিচার, সুশাসন প্রতিষ্ঠার নালিশ। নজিরবিহীন মিডনাইট ভোটের বিরুদ্ধে নালিশ। আওয়ামী সরকারের অবৈধ সত্তার বিরুদ্ধে নালিশ। এই নালিশ শুধু ন্যায় সঙ্গত নয়, এটি সময়ের দাবি।’

রিজভী বলেন, ‘ভুয়া ভোটের সরকারের অবৈধ শাসনের শুরুতেই দেশব্যাপী চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। কোথাও যেন কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণে নেই। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। গুম-খুন-বিচার বহির্ভূত হত্যার সাথে সামাজিক অনাচার মহামারী আকার ধারণ করেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলে আওয়ামী সরকারের নৈরাজ্যে সারা দেশে এক বিভিষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অথচ আইনের শাসন থাকলে বিচার ব্যবস্থায় আতঙ্কের কোনো জায়গা থাকতো না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভোট ডাকাতির অপকর্মে ব্যবহার করায় তারা এখন আইন কানুনকে তাচ্ছিল্য করছে এবং নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের চাহিদা পূরণ না করলে নারী-পুরুষ সকলেই আক্রান্ত হচ্ছে। মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে তাদের হাতেই মানুষ আজ চরম নিরাপত্তাহীন। গণপরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে তাজা প্রাণ।’

তিনি কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, আসলাম চৌধুরী, ফজলুল হক মিলন, হাবিব উন নবী সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ হাজারো নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

ব্রেকিংনিউজ/এএইচ/ এসএ