আমিরাতে বাংলাদেশ স্কুল সভাপতিকে অপসারণ, বিতর্ক তুঙ্গে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ জুন ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০১:২১

আমিরাতে বাংলাদেশ স্কুল সভাপতিকে অপসারণ, বিতর্ক তুঙ্গে

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমা বাংলাদেশ প্রাইভেট স্কুল নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। নানাবিধ টানাপোড়েনের কারণে স্কুলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠায় প্রবাসী অবিভাবকরা। 

গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ কন্সূলেটের পক্ষ থেকে প্রচারিত এক বার্তায় স্কুলের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেয়ার মোহাম্মদকে অপসারণ করে নতুুন প্রেসিডেন্ড মো: তাজুদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে বলে প্রচার করলে এ বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

স্কুলের প্রেসিডেন্ড পেয়ার মোহাম্মদের দাবি- স্কুলের নির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, প্রচার সম্পাদক ও একজন নির্বাহী সদস্যকে না জানিয়ে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘স্কুল কমিটির কিছু ব্যক্তিকে উসকানি দিয়ে বাধ্যকরে রেজুলেশন করে কোন যুক্তির আলোকে দূবাইয়ে নিযুক্ত কন্সাল জেনারেল এ কমিটি ঘোষণা করেছেন তা কারো বোধগম্য নয়। তবে এর পেছনে যে বড় ধরণের ষড়যন্ত্র হয়েছে তা স্পট হয়ে উঠেছে।

সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম বলেন, আমি রাস আল খাইমা সামাজিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ও পাশাপাশি স্কুল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক। স্কুলের কোনো জরুরি সভা অথবা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে রুলস্ অনুযায়ী আমি সকলকে অবহিত করে সভা আহ্বান করব। অথচ এ বিষয়ে আমাকে কিছু না জানিয়ে কন্সাল জেনারেল মহোদয় মধ্যরাতে সমিতির কিছু সদস্যদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে স্কুলনিয়ে একটি ষড়যন্ত্রের জাল বুনবে তা কখনো গ্রহনযোগ্য নয়। আর বিষয়টি সাংগঠনিক নিয়ম বহির্ভূত। 

তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে পারে। দোষী ব্যাক্তি সঠিকভাবে কারণ দর্শাতে না পারলে জরুরি সভা ডেকে দোষী ব্যাক্তিকে তার দোষ স্বীকার করার জন্য সকলে মিলে আহবান জানাতে পারে। তাতে সে রাজী না হলে সকলে মিলে অনাস্থা আনাতে পারে।জাহাঙ্গির আলম আরও বলেন, সভাপতি পেয়ার মোহাম্মদের বিষয়ে কয়েকজন ব্যাক্তি ব্যাক্তিগত আক্রশের জেরে স্কুল নিয়ে কন্সুলেটে নালিশ করেছেন। সেই নালিশের ভিত্তিতে কন্সূলেট দুবাই কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটিও করেছেন। তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেনি এখনো। কারো বিরুদ্ধে দূর্নীতির প্রমাণও হয়নি এখনো।  কিন্তু এর পূর্বে বেআইনি ভাবে গোপন বৈঠকে সভাপতি অপসরণ করা হয়েছে বলে ঘোষণা আসলো কোন আলোকে? এটাকি কন্সাল জেনারেল ইকবাল হোসেন সাহেবের সেচ্চাচারী বা বেআইনি, ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়? 

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কন্সুলেট কর্তৃক ঘোষিত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ তাজুদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন কন্সাল জেনারেল মহোদয়সহ কয়েকজনকে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠির আলোকে আমরা সভা ডেকেছি। সভায় সমিতির কর্যকরি কমিটির মেজরিটি পারসন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে স্কুল  প্রেসিডেন্ড পেয়ার মোহাম্মদের নানা অনিয়ম প্রসঙ্গে কথা উঠলে আমরা সকলে অনাস্থ দিয়ে তাকে সভাপতি পদ থেকে বিদায় জানিয়েছি। পরে সকলে সম্মতিক্রমে সমিতির সহ সভাপতি হিসেবে আমাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন তারা। দায়িত্ব নেয়ার পর রেজুলেশন কপি কন্সাল জেনারেলকে দিলে ওনি আমার কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে চিঠি প্রদান করেন। 

গত ১৯ জুন মধ্যরাতে রাস আল খাইমার আল সাদ হোটেলে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল ২০ জুন সকালে বাংলাদেশ কন্সূলেটের কন্সাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আরবী ও ইংরেজিতে তার সাক্ষরিত একটি চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায়, প্রকাশ করেন। এ বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে এলে তা বিস্তারিত জানতে আমিরাতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের কাছে ফোন করলে তিনি বলেন নতুন কমিটি ও চিঠির বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তিনি আরো বলেন আপনারা  কি জানতে পেরেছেন তা আমাকে তথ্য দিয়ে সহয়তা করবেন।এদিকে কন্সাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খানকে রাস্ট্রদূতের না জানার বিষয়টি উল্লেখ করলে, তিনি বলেন জানেনা ঠিক আছে, এখন ওনাকে জানানো হবে। তিনি বলেন, মেজুরিটি পারসন সমর্থন জানিয়ে মোঃ তাজুদ্দিনকে  ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে। সুতরাং তাকে সমর্থন জানানো আমার দায়িত্ব। এদিকে স্কুল প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ ধরণের একটি সেনসেটিভ সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে কন্সাল জেনারেল রাষ্ট্রদূতকে না জানানোর বিষয়টি জন মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।

স্কুল নিয়ে দুই মিশন কর্মকর্তার দু’ধরনের বক্তব্যে কেউ কেউ বিষয়টিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন। অনেকে এ সিদ্ধান্তকে কন্সাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খানের একগুয়ামী স্বভাবের বহিপ্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন। সদস্য জাহাঙ্গির আলম বলেন, রাস আল খাইমা বাংলাদেশ সামাজিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও স্কুলে কন্সাল জেনারেল ইকবাল হোসেন খান একটি বিভাজন তৈরি করে দিল। ওনি স্কুলটিকে সহয়তা করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিশ্চিত না করে স্কুল নিয়ে বিভাজন তৈরি করে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিল। ওনার অতি তেলেসমাতি বঙ্গবন্ধু প্রিতি দেখে মনে হয় ওনি আসলে জামাতের লোক। কেননা বর্তমানে হাইব্রিট ও জামাত বিএনপির দোসররা, অতি তেলেসমাতি করে জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হতে চায়। এরা এখন জননেত্রীকে ও বঙ্গবন্ধুর নামকে কলংকিত করতে নানাভাবে তৎপর। ইকবাল হোসেন খানও তাদেরই একজন। 

এদিকে বেশ কয়েকজন অভিবাবক বলেন গত কয়েকমাস যাবত রাস আল খাইমা বাংলাদেশ প্রাইভেট স্কুল নিয়ে যে টানাপোড়েনের কথা শুনেছি তা হচ্ছে স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি বিষয়টি ব্যাক্তিগত পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। এ অবস্থায় স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে এর দায়ভার কে নেবে? 

তারা বলেন স্কুল নিয়ে যে খেলা শুরু হয়েছে তা মারাত্মক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকতে পারে। কতিপয় দুষ্টু চক্র স্কুল নিয়ে খেলছে বলে আমরা মনে করি। ফলে আমরা চিন্তা করছি আগামীতে আমাদের সন্তানদের এখানে পড়াব কিনা।

ব্রেকিংনিউজ/এসএসআর

bnbd-ads